Home জেলার খবর শ্রীরামপুরের নামের উৎস নিয়ে সংশয় আজও! শ্রীরামপুর নামের পিছনে কি ইতিহাস রয়েছে?

শ্রীরামপুরের নামের উৎস নিয়ে সংশয় আজও! শ্রীরামপুর নামের পিছনে কি ইতিহাস রয়েছে?

শ্রীরামপুরের নামের সাথেই ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে আছে শ্রীরামপুর শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের নাম। আর মাহেশের রথ তা ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ শ্রীরামপুর।

বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন আর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীন রথযাত্রা হল মাহেশের রথ।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সাথে জড়িয়ে আছে উইলিয়াম কেরির শ্রীরামপুর মিশন প্রেস। এছাড়াও শ্রীরামপুর বিখ্যাত ভারতের প্রথম লাইব্রেরি, সংস্কৃতি চর্চা, প্রথম কাগজকলের জন্য। শ্রীরামপুর কলেজের সাথেও
জড়িয়ে আছে শ্রীরামপুরের সংস্কৃতি।



মনসামঙ্গল ধারার সাহিত্য মনসাবিজয় কাব্য, যার লেখক বিপ্রদাস পিপিলাই , ১৫ শতকে লেখা এই কাব্যে শ্রীরামপুর অঞ্চলের আকনা এবং মাহেশ জায়গার দুটির উল্লেখ আছে। এছাড়াও চৈতন্যদেবের লেখার মধ্যেও চাতরার নাম পাওয়া যায়।


টেভার্নিয়ারের লেখাতেও পাওয়া যায় মাহেশের রথযাত্রার বিবরণ । আবুল ফজলের লেখা ‘আইন-ই-আকবরি’ যা মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কালে লেখা তাতেও শ্রীরামপুরের উল্লেখ আছে। আবার শাহজাহানের আমলে লেখা সম্রাট আবদুল হামিদ লাহোরির ‘বাদশাহনামা’ বইতে শ্রীরামপুরের উল্লেখ ছিল শ্রীপুর নামে।



তবে কোথা থেকে শ্রীরামপুর নামের আবির্ভাব সেই নিয়ে মতভেদ আজও বর্তমান৷ একাংশের মতে ১৭৫২ সালে শেওড়াফুলির রাজা মনোহরচন্দ্র রায় শ্রীপুরে একটি রামসীতার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন । তাঁর ছেলে রামচন্দ্র শ্রীপুর, গোপীনাথপুর আর মনোহরপুর, এই তিনটে মৌজা কয়েকজন ব্রাহ্মণের নামে দেবসেবার জন্য দিয়ে দেন, সেই থেকে এই শ্রীপুর থেকে এই অঞ্চলের নাম শ্রীরামপুর হয়েছে মনে করেন অনেকে।



১৮ শতকের মধ্যভাগে যখন ইউরোপের বণিকরা বাংলায়, সেইসময় দিনেমার কোম্পানি সোয়েটম্যান নামে এক প্রতিনিধিকে প্রেরণ করে দক্ষিণ ভারত থেকে বানিজ্য করার অনুমতি নেওয়ার জন্য। নবাব আলিবর্দি খাঁর কাছে অনুমতি নিতে আসা সোয়েটম্যান ১৭৫৫ সালে শ্রীপুরে তিন বিঘে এবং আকনায় সাতান্ন বিঘে জমি কিনে কুঠি বসান, এরপর শেওড়াফুলির জমিদারের থেকেও আরও বেশ কয়েক বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেন ডিনেমার বণিকরা।সেই জায়গার নাম দেওয়া হয় ফ্রেডরিক্সনগর। ডেনমার্কের রাজা পঞ্চম ফ্রেডরিকের নামানুসারে।



ফ্রেডরিক্সনগর ছিল অনেক আধুনিক শহর । ১৮৪৫ সালে ডেনিশদের থেকে এই শহর কিনে নেয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। । ব্রিটিশদের হাতে এই শহর আসলে শহরের নাম দেওয়া হয় শ্রীরামপুর। ১৮৪৫ সালে শ্রীরামপুর পরিণত হয় হুগলি জেলার মহকুমায় পরিণত হয়েছিল এবং শ্রীরামপুর পুরসভা গড়ে ওঠে ১৮৬৫ সালে।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মুক্তি পেলো DEZINIAX STUDIOS -এর প্রযোজনায় স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “হুলো & মেনি”…

বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পুজো. আর দূর্গা পুজোয় প্রেম হবে না তা কি হয়. এবার পুজোয় তবে "হুলো আর মেনির প্রেম হয়ে যাক? অবাক...

পুজোর মরশুমে ‘মনের মানুষ’ দেবতনু রাজ করতে চলেছে সকলের “হৃদ মাঝারে”!

বর্তমানে পরিস্তিতি উদ্বেগ জনক হলেও বাঙালীরা ৩৬৫ দিন অপেক্ষা করে থাকে এই ৪টি দিনের জন্য। উমা ঘরে আসার সাথে সাথে চারিদিক খুশির আমেজে ভরে...

দাম্পত্য জীবনের প্রথম দূর্গা পুজো! কেমন কাটাচ্ছে অভিনেতা আরুষ এবং পায়েল?

এবিও পত্রিকার তরফ থেকে প্রথমেই আরুষ এবং পায়েল কে জানাই শুভ শারদীয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। গত বছর ২৭ নভেম্বর ২০২০ তে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে...

Klikk এর পক্ষ থেকে মুক্তি পেলো আরো একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “আগমনী”…

বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পূজা। ৩৬৫ দিন বাঙালীরা অপেক্ষা করে থাকে এই ৪টি দিনের জন্য। উমা ফেরে তার মায়ের ঘরে। চারিদিক মেতে ওঠে উৎসবের...