Home সাক্ষাৎকার রসোগোল্লার মতই মিষ্টি একটি মেয়ে, যার জন্যই তৈরি রসোগোল্লা। সাক্ষাৎকারে অবন্তিকা...

রসোগোল্লার মতই মিষ্টি একটি মেয়ে, যার জন্যই তৈরি রসোগোল্লা। সাক্ষাৎকারে অবন্তিকা…

সেই দস্যি মেয়ে যার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েই তার মনমত মিষ্টি তৈরি করতে গিয়ে নবীনচন্দ্র দাস তৈরি করেছিলেন আমার-আপনার মানে প্রত্যেক বাঙালীর প্রিয় মিষ্টি “রসোগোল্লা”। সেই চরিত্রটায় যার অভিনয় মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিলো, আজকের আমাদের আড্ডায় উপস্থিত “রসোগোল্লার” সেই ছোট্ট ঠিক রসোগোল্লার মতই মিষ্টি মেয়েটি “অবন্তিকা বিশ্বাস “।

প্রশ্ন: অভিনয় জগতে আসা কি ভাবে?

অবন্তিকা: আমার ছোটো থেকেই অভিনয়ের প্রতি একটা আলাদাই ভালোলাগা ছিলো। যখন ছোটো ছিলাম তখন LED বা LCD টিভি ছিলো না, বাক্স টিভি ছিলো। কৌতুহল জাগতো যে ওরা কেমন করে টিভির ভিতরে ঢুকে পরে, আমিও টিভির ভিতর ঢুকবো, এমনকি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বাড়ির সবাই কে ভীষণ ভাবে বিরক্ত করতাম, বলতাম টিভির কাঁচ ভেঙে দাও, আমিও ভিতরে ঢুকবো🤪। এতটাই আমার অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ছিলো যে, খেলার ছলে পুতুলদের নিয়ে মডেলিং করতাম, আয়নার সামনে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতাম। আমার বাবা মা এই বেপারটাকে খুব লক্ষ্য করতো। তারপর মা বিভিন্ন কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে ফোন করতো কিন্তু যার মধ্যে বেশির ভাগই ভুয়ো। কিন্তু একদিন সৌভাগ্যবশত একটা কল ঠিকঠাক জায়গায় লেগে যায়। একটা workshop হচ্ছিলো যেটা পরমব্রত দা(পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) করছিলেন, যেহেতু তখন আমি ছোটো ছিলাম তাই অত কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু ওখানে একজন ছিলেন তিনি অমায় খুব হেল্প করেছিলেন, তিনি প্রথম জানিয়েছিলেন যে প্রথমে পোর্টফলিও তৈরি করাতে হয়, তারপর সেটা প্রোডাকশন হাউসে জমা দিতে হয়। তারপর পোর্টফলিও তৈরি করাই শ্রী দেবাশিস মিত্রের কাছ থেকে যিনি তখন 19-20 ম্যাগাজিনের কভার পেজ ফটোগ্রাফার ছিলেন। দেবাশিস দা’র আমাকে খুব পছন্দ ছিল, তো দেবাশিস দা মা’কে বলে আমাকে ওনার কাছে মডেলিং শুরু করানোর জন্য। সেখান থেকেই মডেলিং কেরিয়ার শুরু, একসময় প্রচুর মডেলিং করেছি। সেখান থেকে সিরিয়াল, তারপর ফিল্ম, এই ভাবেই আমার অভিনয়ে আসা।

প্রশ্ন: টিনএজ থেকেই তো বলতে গেলে ক্যারিয়ারের শুরু তো অল্প বয়সে যে সাফল্য বা জনপ্রিয়তা পাওয়া এই ফেম টাকে কিভাবে ধরে রেখেছো?

অবন্তিকা: সেরকম কোনো ব্যাপার নেই। তবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গাটা ধরে রাখা খুব কঠিন। এক একটা সময় এমন গেছে যখন আমি কাজ করতে চেয়েছি, কিন্তু কেউ আমাকে কাজ দেয় নি (তিন বছর আমার হাতে কোনো কাজ ছিল না), আবার এমন সময়ও এসেছে যখন একসাথে অনেক কাজ এসেছে কিন্তু আমার সবকটা কাজ করে ওঠার সময় হয়ে ওঠেনি। তো সেই দিক থেকে দেখলে এই বয়েসেই আমি অনেক ওঠা-নামা দেখেছি, বলতে গেলে খারাপ ভালো অনেক সবরকম পরিস্থিতির-ই সম্মুখীন। সত্যি কথা বলতে গেলে অভিনয় করাটা শুধুমাত্র একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর ওপর নির্ভর করেনা, বেশ অনেকটাই নির্ভর করে প্রোডাকশন হাউজ, পরিচালক এনাদের ওপরেও। আমার মা সবসময় একটা কথা বলে যেটা আমি খুব মানি যে হার্ড ওয়ার্ক করে যাও সাফল্য একদিন ধরা দেবেই।

প্রশ্ন: অভিনয় ও পড়াশোনা বাদে অবসর সময়ে কি করতে ভালোবাসো/ তোমার hobbies কি?

অবন্তিকা: আমি ভীষন লিখতে ভালোবাসি। প্রচুর কবিতা লিখি। ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তি শিখতাম সোমনাথ চ্যাটার্জীর কাছে(একসময় উনি অনেক অভিনয় করেছেন)। উনি আমার গুরু, বলতে গেলে ছোটবেলা থেকে উনি আমায় একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন, ওনার থেকে আমার অনেক কিছু শেখা।
এছাড়া সময় পেলেই বন্ধুদের নিয়ে নিজের মতো করে শর্ট ফিল্ম তৈরি করি এবং “ইচ্ছে”-তে মানে আমার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করি। আর টুকটাক স্ক্রিপ্ট লেখা, গান শোনা, সিনেমা দেখা ☺️।

প্রশ্ন: আগামী ২-৫ বছর পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাও?

অবন্তিকা: বলতে পারো নিজেকে একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চাই। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। এছাড়াও বলতে গেলে পরবর্তীকালে চলচিত্র পরিচালনা করার ইচ্ছা আছে।
আমি এই বছর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালযয়ে ড্রামা অনার্স নিয়ে এ্যাডমিশন নিতে চলেছি। তারপর ফিল্ম মেকিং নিয়েও পড়াশোনা করার ইচ্ছা আছে।

প্রশ্ন: তোমার চলার পথের অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পাওয়া?

অবন্তিকা: Each and Everyone যাদের দেখে আমি কিছু না কিছু শিখেছি বা শিখছি। আমি এরকম কখনোই বলবো না যে, আমি শুধুমাত্র কোনো ডিরেক্টর, কোনো অভিনেতা বা কোনো অভিনেত্রী এদের দেখে অনুপ্রাণিত হ‌ই। আমি একটা ইউনিটের প্রত্যেকটা মানুষকে দেখে অনুপ্রাণিত হ‌ই। কারণ একটা ভালো ছবি শুধুমাত্র হিরো বা হিরোইন কে দিয়ে হয় না, তার পিছনে লুকিয়ে থাকে অনেক মানুষের হার্ড ওয়ার্ক। সবাই যে হার্ড ওয়ার্কটা দেয় একটা ছবিকে আরো ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে, তাদের দেখে আমার মনে হয় তারা যখন তাদের 100% দিচ্ছে, তখন আমাকেও আমার 100% দিয়ে কাজ করতে হবে। যাতে তাদের খাটনি টা ব্যর্থ না যায়।

 

প্রশ্ন: এই লকডাউন শিল্পীদের জীবনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে বলে তুমি মনে করো?

অবন্তিকা: এই লকডাউনের প্রভাব তো প্রত্যেকটা স্তরের মানুষের ওপরেই পরেছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একটা বড়ো আক্ষেপ হলো মানুষ বাংলা সিনেমা খুব কমই হলে গিয়ে দেখে। তার ওপর এখনতো আরোই মানুষ হলমুখী হবে না। আর আমার অনেকগুলো কাজ হবার কথা ছিলো, সব রেডি, কিন্তু এই লকডাউনের জন্য স্থগিত হয়ে আছে। এই বছর আর হবেই না এটা ধরেই চলতে হবে। আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি, আবার সেটে ফিরতে পারবো।🤞

 

 

প্রশ্ন: এমন একটা খাবারের নাম বলো যেটা এই লকডাউনে ভীষণ ভাবে মিস করছো?

অবন্তিকা: মোমো টা আমি ভীষন ভাবে মিস করছি। তাছাড়াও আমি চাইনিজ খেতে খুব ভালোবাসি।

প্রশ্ন: এখনো অবদি কত জনের ওপর ক্রাশ খেয়েছো?

অবন্তিকা: আমার ক্রাশ একজনই সেটা হয়তো এখন সারা ইন্ডাস্ট্রি জেনে গেছে। আমার ক্রাশ অনিন্দ্য দা (অনিন্দ্য চ্যাটার্জী) 🙈
এই কথাটা বলতে গিয়ে একটা মজার ঘটনা মনে পরে গেলো- P.C.Chandra Jewellers ও Windows প্রোডাকশন হাউসের কোলাবরেশন ছিল, তো সেখানে আমি, উজান দা, শিবু দা তিন জনেই  ছিলাম, তার সাথে অনিন্দ্য দাও। অনিন্দ্য দা যখন ঢুকছিলো, এমন সময় শিবু দা আমাকে কিছু একটা বলছিলো কিন্তু আমি তা না শুনে অনিন্দ্য দা কে দেখতে ব্যস্ত ছিলাম। তার ফাঁকেই উজান দা কখন শিবু দা কে বলে দিয়েছিলো যে অনিন্দ্য দা আমার ক্রাশ 😛। তারপর অনিন্দ্য দা যখন এসে শিবু দার সাথে একদম আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলো তখন উজান দা হঠাৎ করেই অনিন্দ্য দা কে বলে দিয়েছিলো যে “আমার ক্রাশ অনিন্দ্য দা”। সে কথা শুনে অনিন্দ্য দা যখন আমার দিকে তাকালো, আমি এত লজ্জা পেয়েছিলাম যে মাথা লুকাবো, নাকি পালিয়ে যাবো কিচ্ছু বুঝতেই পারছিলাম না😬

প্রশ্ন: তোমার ফেভারিট সাবজেক্ট?

অবন্তিকা: ইংলিশ আর বাংলা।

প্রশ্ন: কোনটা বেশি ভালোলাগে “রসগোল্লা” নাকি “ফুচকা”?

অবন্তিকা: অবশ্যই ফুচকা।😍 আমি এই লকডাউনের মধ্যে বেশ কয়েকবার খেয়েও নিয়েছি ফুচকা।

প্রশ্ন: পরীক্ষার আগের রাতে টেনশন নাকি ছবি রিলিজের আগের রাতে টেনশন কোনটা বেশি ভয়ঙ্কর?

অবন্তিকা: পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আমার খুব একটা টেনশন হয় না, মজাতেই থাকি। এমনকি 10th এর রেজাল্ট এর সময় এত সার্ভারে প্রবলেম হচ্ছিলো যে আমি ধৈর্য্য হারিয়ে তো ঘুমিয়ে পরেছিলাম, দাদাকে বলেছিলাম রেজাল্ট দেখে বলতে। আর 12th এও তাই। “রসগোল্লা” রিলিজের আগের দিন আমার তো রাতে ঘুমই আসছিলো না, এত বিরক্ত করছিলাম বাড়ির সবাইকে যে শেষে আমার আমাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলো।😓

প্রশ্ন: ক্লাস টেন এ পড়াকালীন তুমি রসোগোল্লার মত একটা ক্লাসিক ফিল্মে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছো। তার বেপারে যদি কিছু বলো।

অবন্তিকা: রসোগোল্লার মতো একটা ছবিতে অভিনয় করতে পারাটা সত্যিই আমার সৌভাগ্য। সৌরভ দা (Sourav Saha, casting director, actor) একটা WhatsApp গ্রুপ খুলেছিলো, সেই গ্রুপে আমিও ছিলাম। সৌরভ দা যখন “রসগোল্লা“-এর আমার চরিত্রটার casting এর পোস্ট করে তখন সেটা দেখে আমার মা সৌরভ দা কে ফোন করে এবং সৌরভ দা বলে যে চরিত্রটার জন্য যেমন মেয়ে প্রয়োজন সেই তুলনায় আমি একটু বয়েসে ছোট। তাও আমার মা’য়ের কথায় সৌরভ দা মা’কে পাভেল দার নম্বর দেয়। পাভেল দা কে ফোন করলে তিনি আমাকে অডিশনে ডাকে। পাভেল দার আমাকে পছন্দও হয়। কিন্তু তারপর যখন আমি প্রোডাকশন হাউসে অডিশন দিই তখন আমাকে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়। তারপর দীর্ঘ দুই বছর অডিশন, সিলেকশন, রিজেকশনের পর ফাইনালি “রসোগোল্লা” করে উঠি।

প্রশ্ন: তুমি তোমার ফ্যান বা দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাও?

অবন্তিকা: আমি তাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তাদের জন্যই আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি। রসগোল্লা রিলিজের সময় আমি তো ভাবতেই পারিনি যে এত ভালোবাসা দেবে আমাকে দর্শক কিন্তু আমি তাদের থেকে প্রচুর প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। একটাই অনুরোধ তাদের কাছে আপনারা বাংলা সিনেমা হলে গিয়ে দেখুন(এখন তো পরিস্তিতি খারাপ, কিন্তু যখন পরিস্তিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তখন)।

সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে অবন্তিকা কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। তোমার ও তোমার পরিবারের সকলে ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করি

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

Concept- Rajesh Paul

- Advertisment -

জনপ্রিয়

শ্যুটিং শুরু হলো ৮/১২- র, সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন সৌম্য ঋত…

৮/১২'র শুভ মহরত হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক অরুন রায়, প্রযোজক কান সিং সোধা, অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ, রেমো, অর্ণ মুখোপাধ্যায়, অনুষ্কা চক্রবর্তী ছাড়াও...

টিম সোহম ও হাসি খুশি ক্লাবের পক্ষ থেকে এক অভিনব উদ্যোগ “অন্য ইলিশ ও চিংড়ি উৎসব”….

টিম সোহম ও হাসি খুশি ক্লাবের পক্ষ থেকে ২৫ শে জুলাই দুপুর ১২টায় আয়োজন করা হয়েছিল "অন্য ইলিশ ও চিংড়ি উৎসব". বরানগর, টেবিন রোড,...

এবার “চারেক্কে প্যাঁচ” নিয়ে হাজির পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত…

অবাক লাগছে না? হ্যাঁ সত্যি অবাক লাগার মতোই কথা. দম ফাটানো হাসির ছবি নিয়ে হাজির পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত. "এ.কে.Ray", "আনএথিক্যাল"- এর পর "চারেক্কে প্যাঁচ"...

প্রথমবার বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন রিতেশ দেশমুখ…

এই প্রথম বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক রীতেশ দেশমুখ। ছবির নাম ‘অন্তর্দৃষ্টি’। এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা যাবে টলিউড...