Home ধর্মীয় হুগলির বাঁশবেড়িয়ার প্রাচীন ঐতহ্যবাহী ও রহস্যময়ী হংসেশ্বরী মন্দিরের অজানা রহস্য

হুগলির বাঁশবেড়িয়ার প্রাচীন ঐতহ্যবাহী ও রহস্যময়ী হংসেশ্বরী মন্দিরের অজানা রহস্য

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় ব্যান্ডেলের কাছাকাছি বাঁশবেরিয়া নামক স্থানে অবস্থিত একটি বিখ্যাত কালীমায়ের মন্দির হলো হংসেশ্বরী মন্দির। প্রায় দুশো একুশ বছরের পুরনো এই প্রাচীন মন্দির। রাজা নৃসিংহদেব ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে স্বপ্নে আদেশ পেয়ে এই হংসেশ্বরী মন্দির নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু তিনি জীবিত অবস্থায় এই মন্দির সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে তার বিধবা স্ত্রী রানী শঙ্করী অবশিষ্ট থাকা মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ করেন। অন্যরকম স্থাপত্য শিল্পের এক অনন্য নিদর্শন এই মন্দির। সাধারণত যে রকম ধাঁচের হিন্দু মন্দির আমরা দেখি এই মন্দিরের গঠন তার থেকে একদমই আলাদা। এই মন্দিরে ১৩ টি মিনার রয়েছে, যেগুলি দেখতে অনেকটা দুর্গা চুড়ার মতো। দূর থেকে দেখলে মন্দিরের চুড়া গুলিকে ফুটে থাকা পদ্মের পাপড়ির মতো মনে হয়। মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৭০ ফুট। সমস্ত মন্দিরের চারিপাশ জুড়ে রয়েছে ইতিহাসের একাধিক ভাঙা প্রাচীর, বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, বহু পুরনো সিংহতরণ, রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ যা বহু প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী। এছাড়া মন্দিরের সামনেই রয়েছে অতি প্রাচীন চাঁপা গাছ। যার বৃদ্ধ শাখা প্রশাখা বিস্তার লাভ করে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। যেনো এক বৃদ্ধ দাদু প্রাচীন ইতিহাসের গল্পের ঝুলি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই চাঁপা গাছ শতাব্দীর এলাকার কত ঘটনার সাক্ষী। এই চাঁপা গাছের পাশ থেকে সোজা দেখা যায় মায়ের মন্দির। এই মন্দিরেই দেবী হংসেশ্বরী রূপে পূজিত হন। পাথরে নির্মাণ করা গোল বেদীর ওপর শায়িত শিব মূর্তির নাভি থেকে প্রস্ফুটিত পদ্মের ওপর দেবী হংসেশ্বরী মূর্তি নির্মাণ করা।

দেবীর মূর্তি নিলাবর্ণ, ত্রিনয়নী, চতুর্ভুজ, নরমুণ্ডধারিনী, খড়গধারিনী। এছাড়া এই দেবী যে বিষয় গুলোর জন্য নজর কারে সেগুলি হলো এই দেবী ভীষন দর্শনা নয়, এখানে দেবী প্রশান্তময়ী রূপে বিরাজ করেন। মায়ের যে রূপ আমরা দেখে অভ্যস্থ এখানে তা একেবারেই নয়, এখানে মা কালী জিভ বার করে বিরাজমান নয়, বছরে একবারই কালীপূজার রাত্রে মাকে জিভ পরানো হয়।

হংসেশ্বরী মন্দিরের পাশেই অবস্থিত বাসুদেব মন্দির। এখানে গেলেই দেখতে পাবো মন্দিরের দেওয়ালে ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটার কাজ। যা দেখলে মন শান্ত হয়ে যাবে। এই মন্দিরের দেওয়ালে পোড়া মাটির কারুকার্যে চিত্রিত রামায়ণ মহাভারতের নানা কাহিনী। লকোমতে প্রচলিত আছে প্রাচীনকালে মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে রাজবাড়ী পর্যন্ত একটি গুপ্ত সুরঙ্গ নির্মিত আছে। যা বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই দুই মন্দিরে ছড়িয়ে থাকা স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখলে মন ভরে যায়, চোখ জুড়িয়ে আসে। এছাড়া এই মন্দিরের আশেপাশে নিরিবিলি শান্ত পরিবেশ মনে এক অপূর্ব শান্তি আনে।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...