Home ওয়েব সিরিজ "নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাচ্ছে না, তাড়াতাড়ি রিলিজ করুন বাকি পার্ট" তানসেনের...

“নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাচ্ছে না, তাড়াতাড়ি রিলিজ করুন বাকি পার্ট” তানসেনের তানপুরা

সঙ্গীত জগতে আজ পর্যন্ত রয়ে যাওয়া নাম হলো “তানসেন”। সম্রাট আকবরের সভার নবরত্নের মধ্যে একজন ছিলেন তানসেন। উত্তর ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের এক অতুলনীয় মহারথী ছিলেন তিনি। তিনি সুরে সুরেই আগুন বৃষ্টির খেলা খেলতেন। সঙ্গীত শিল্প যেনো নিজেই নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সঠিক সঙ্গীতানুরাগীর হাতে। সঙ্গীতের জাদুকর তানসেনের খ্যাতি দিকে দিকে বিস্তার লাভ করতে থাকলো। তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো আকবরের সভায়। সফলতা যখন চূড়ান্ত পর্যায় পৌঁছায় তখন ঈর্ষকাতর ব্যাক্তিদের থেকে সেই সফলতাকে দূরে রাখা যায় না। ঠিক সেরকমই আকবরের সভার অন্য সভা সদস্যরা তানসেনের সেই খ্যাতি দেখে হিংসায় জ্বলতে শুরু করলো, এবং তারা আকবরের কাছে সুপারিশ জানালো তারা তানসেনের গলায় “দীপক রাগ” শুনতে চায়। উপস্থিত হলো সেই দিন। “দীপক রাগে” গান ধরলেন তানসেন। বাড়তে থাকে সময়, সাথে বাড়তে থাকে গরম, জ্বলতে থাকে প্রদীপ, লন্ঠন। সঙ্গীতের উচ্চাঙ্গ অগ্নিশিখা গ্রাস করলো তানসেনের শরীর। কিন্তু তানসেন তার সঙ্গীত না থামিয়ে বেরিয়ে এলো প্রাসাদের বাইরে, প্রাসাদের বাইরে বাগানে তখন “মেঘমল্লার” রাগে গান ধরেছেন সরস্বতী। দেখা গেলো সরস্বতীর “মেঘমল্লার” সুরে পৃথিবীতে নেমে এলো বৃষ্টি, শীতল হলো ভূমি। বৃষ্টির জল তানসেন কে স্পর্শ করতেই নিভে গেলো তানসেনের শরীরের অগ্নিশিখা, স্বস্থি পেলেন তানসেন। গর্বিত হলেন সম্রাট আকবর। একদিন তিনি তার তানপুরা দিয়ে দিলেন তার প্রিয় শিষ্যের হাতে। বংশ পরম্পরায় সেই তানপুরা হাত বদল হতে থাকলো। কিন্তু এখন সেই তানপুরা এক রহস্য হয়েই থেকে গেছে। কোথায় আছে সেই ঐতিহ্যময়, দুষ্প্রাপ্য তানপুরা?

অনবদ্য মিউজিকাল থ্রিলার ‘তানসেনের তানপুরা’ র রহস্য উদ্ধারে অপেক্ষা পরবর্তী সিজনের জন্য

বিনোদনপ্রেমী মানুষের মনে
লকডাউনের বোরিং জীবনে হইচই ফেলে দিয়েছে “তানসেনের তানপুরা” (Tansener Tanpura)।
এই তানপুরা এ কি যে সে জিনিস, সঙ্গীতগুরু কেদারনাথ মিশ্র তাই তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্যের হাতেই দেওয়ার চেষ্টা করবেন একথা আন্দাজ করা যেতেই পারে। ‘হইচই’ অ্যাপের ওয়েবসিরিজ গুলির মধ্যে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু এখন ‘তানসেনের তানপুরা’।

এখনো পর্যন্ত দুটি দফায়
পাঁচটি করে মোট দশটি পর্ব শেষ হয়েছে। তবে এই মিউজিকাল থ্রিলারে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ পর্বের শেষ হলেও গল্প শেষ না হওয়ায় আক্ষেপ অনেকের মনেই।
পরের সিজনেই হয়তো এর রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে। তবে দর্শকদের মধ্যে একাংশ কিন্তু খানিক অভিমানী এই পর্বে গল্প শেষ না হওয়ায়, অনেক আশা নিয়ে রহস্যের সন্ধানে থাকা দর্শকদের আরও প্রতীক্ষা করতে হবে ঐতিহাসিক সেই তানসেনের তানপুরা গুরু কোন শিষ্য বা শিষ্যাকে দিয়ে গেলেন তা জানার জন্য।

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগত, হিন্দুস্থানী ক্লাসিক্যাল মিউজিক, সুর-তাল-ছন্দ বিষয়ক নানা ইতিহাস তথ্যে সমৃদ্ধ গোটা সিরিজ।

এতদিন পর্যন্ত হয়ে ওঠা বিভিন্ন ওয়েব সিরিজের তুলনায় এই ওয়েব সিরিজটির কাহিনি একেবারেই অন্যরকম, মিউজিককে প্রাধান্য দিয়েই থ্রিলারের প্রেক্ষাপট দর্শকদের বেশ পছন্দই হয়েছে সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
আনন্দগড়ে প্রাসাদ, তানসেনের তানপুরা বংশধরহীন নবাব দিয়ে গেছিলেন কেদারনাথকে (রজত গঙ্গোপাধ্যায়)।
সে তানপুরা যোগ্যতম শিষ্যের হাতেই তুলে দিয়ে যাবেন কেদারনাথ এমনটাই ছিল শর্ত। নবাবের বংশের কেউ যদি তা দাবি করে, তাহলে তানপুরা আর বাড়ির অর্ধেক অংশ দিয়ে দিতে হবে তাকে। সকলেই জানত এ কথা। কেদারনাথের রহস্যমৃত্যু হলে তানপুরার সন্ধান পায়না কেউ।
আনন্দগড়ের প্রাসাদের গুরুমা অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী মধুবন্তী, যিনি পন্ডিত কেদার মিশ্রের কন্যা, সেও জানেননা তানপুরার খোঁজ।


তার মেয়ে শ্রুতি (রূপসা চট্টোপাধ্যায়) যার শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নয় পাশ্চাত্য সঙ্গীতই ধ্যানজ্ঞান, তার সঙ্গে মধুবন্তীর কাছে তালিম নিতে আসে তার বয় ফ্রেন্ড কলকাতার আলাপ মিত্র (বিক্রম চট্টোপাধ্যায়)।

আনন্দগড়ের প্রকৃতি জুড়ে, জীবনযাত্রার অন্যতম অঙ্গ সুর-তাল – ছন্দ। তবে সবকিছুর মাঝেই ছড়িয়ে থাকে কেদার মিশ্রের উপস্থিতি। তানপুরা কোথায় লোকানো আছে তার সন্ধানে আসা আলাপ তার গুরুমার কাছে তালিমের মাঝে সেই রহস্য উদ্ধার করতে সচেষ্ট। তানসেনের তানপুরা কে পাবে? ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া উপহারে বার্তায় লুকিয়ে রেখেছেন কেদার মিশ্র। কিন্তু তা জানার জন্য একের পর এক ধাঁধার সমাধান করতে হবে, রাগরাগিণী চর্চার মাধ্যমেই সম্ভব তানসেনের তানপুরা এবং তার উত্তরাধিকারীর খোঁজ পাওয়া।

আলাপ সেই রহস্য সমাধানের দায়িত্ব নেয় শ্রুতিকে সঙ্গী করে । সূত্র খুঁজতে গিয়ে উঠে আসা নানা তথ্য, আলাপ যে শুধুমাত্র গান শিখতে আনন্দগড়ে আসেনি, এসেছে তানপুরার সন্ধানে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

বাংলা ধারাবাহিকের অত্যন্ত জনপ্রিয় বিক্রম যে গোয়েন্দা চরিত্রেও দর্শকের সমান পছন্দের হবে প্রমাণ করে দিয়েছে আলাপ৷ অপরদিকে শ্রুতির ভূমিকায় রূপসাও অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়তী ভাটিয়া
তানসেনের তানপুরা’র পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে রজত গঙ্গোপাধ্যায়, দেবশঙ্কর হালদার, নীল মুখোপাধ্যায়, দেবেশ রায়চৌধুরী, শুভাশিষ মুখোপাধ্যায়, সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাধা মুখোপাধ্যায়, অঙ্গনা রায়, সৌরভ সাহা, প্রমূখ।

বিষয় যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন রামনিধি (শুভাশিষ মুখোাধ্যায়) ও তার শিষ্য বুদ্ধু (সৌরভ সাহা)। “তানসেনের তানপুরা“র নবম দশম পর্বে অদ্ভুদ দুই চরিত্রে দেখা যায় তাদের, যা সকলের মন জয় করেছে। তার মধ্যে “বুদ্ধু” চরিত্রে সৌরভ সাহা কে আমরা দেখতে পেয়েছি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নতুন এক রূপে। খাঁড়া হয়ে থাকা টিকির উপর গাঁদা ফুল এবং তিনি অসম্ভব দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন এই বুদ্ধু চরিত্রটিকে। এই ব্যাপারে সৌরভ সাহা কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ” এরকম চরিত্রে তিনি আগে কখনো অভিনয় করেন নি। তার ওপরে “সাপের দৃশ্য”। সাপটি একেবারেই আসল ছিল, শটর্টিতে রিস্ক ছিল বেশ অনেকটাই, কিন্তু ডিরেক্টর সৌমিক চট্টোপাধ্যায়, কাহিনী ও চিত্রনাট্য লেখক সৌগত বসু, সিনেমাটোগ্রাফার ও D.O.P প্রসেনজিৎ, সকলেই এই দৃশ্যটি পুরোটাই আমার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। শুভাশিষ দাও পাশে ছিলেন, আমাকে খুবই সাপোর্ট করেছিলেন, এটা আমার কাছে অনেক বড়ো পাওয়া”।

তানসেনের তানপুরা” সিরিজের কাহিনীকার সুখ‍্যাত চিত্রনাট‍্যকার সৌগত বসু। এর আগেও তাঁর “আলিনগরের গোলকধাঁধা” ছবির চিত্রনাট‍্যরচনা মন কেড়েছিল দর্শকের। তবে তার এই সিরিজের নাট‍্যবিষয়টি যেহেতু সঙ্গীতনির্ভর, তাই নাটকটিতে সঙ্গীতের ভূমিকা অত‍্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই সিরিজে সঙ্গীতের পরিচালনায় রয়েছেন খ‍্যাতনামা সুরকার জয় সরকার, কথায় শ্রীজাত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। তবে শুধু ভারতীয় রাগ – রাগিনী নয়, পাশ্চাত‍্য সঙ্গীতের অমোঘ ছোঁয়াও মন কেড়েছে দর্শকের। সিরিজটিতে গান করেছেন – জীমুত রায়, সোমলতা আচার্য‍্য, শুভমিতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় ও তুষার দত্ত।

সাম্প্রতিক hoichoi এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা “তানসেনের তানপুরা” ওয়েব সিরিজের একটি পোস্টারের কমেন্টে ফেটে পরেছে দর্শকের রাগ অভিমান প্রকাশের ঝড়। তানপুরার রহস্য উদঘাটনের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারছেন না দর্শকমহল। দর্শকের এতটাই মনের ভিতর জায়গা করে নিয়েছে এই ওয়েব সিরিজটি। কিন্তু তাদের বক্তব্য একটাই যে এই সান্সপেন্স মণে চেপে ধরে নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা।

 

- Advertisment -

জনপ্রিয়

লাল চোখে কুটিল হাসি “রাবণ” অবতারে ছবি পোস্ট করে চমকে দিলেন অভিনেতা জিৎ…

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছে বিনোদন জগৎ। এই দুৃর্গাপুজোতে মুক্তি পেয়েছে জিৎ-এর দক্ষিণী ছবি ‘নান্নাকু প্রেমাথু’র অফিশিয়াল রিমেক ‘বাজি’। এই ছবিতে জিতের বিপরীতে অভিনয়...

মুক্তি পেলো Asheq Manzur প্রযোজিত এবং Arup Sengupta পরিচালিত মিউজিক ভিডিও “অনুভবে” টিজার…

3p প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে এবং Arup Sengupta-র পরিচালনায় ২০ অক্টোবর মুক্তি পেতে চলেছে "অনুভবে" মিউজিক ভিডিওটি. সম্প্রতি মুক্তি পেলো "অনুভবে" মিউজিক ভিডিওটির টিজার. বাংলাদেশ...

মুক্তি পেলো DEZINIAX STUDIOS -এর প্রযোজনায় স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “হুলো & মেনি”…

বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পুজো. আর দূর্গা পুজোয় প্রেম হবে না তা কি হয়. এবার পুজোয় তবে "হুলো আর মেনির প্রেম হয়ে যাক? অবাক...

পুজোর মরশুমে ‘মনের মানুষ’ দেবতনু রাজ করতে চলেছে সকলের “হৃদ মাঝারে”!

বর্তমানে পরিস্তিতি উদ্বেগ জনক হলেও বাঙালীরা ৩৬৫ দিন অপেক্ষা করে থাকে এই ৪টি দিনের জন্য। উমা ঘরে আসার সাথে সাথে চারিদিক খুশির আমেজে ভরে...