Home সাক্ষাৎকার "খারাপ সময় বলে কিছু হয় না, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে" |...

“খারাপ সময় বলে কিছু হয় না, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে” | সাক্ষাৎকারে সোহিনী সাহা

বিভিন্ন ভাষায় অজস্র জিঙ্গেলস। “টাপুর টুপুর“, “কাছে আয় সই“, “বিন্দি”, “খোকাবাবু“, “জল নুপুর“, “আঁচল“, “বেনে বৌ” এর মত এক ঝাঁক মেগা সিরিয়ালে আমরা শুনতে পেয়েছি যার গান। আজকের আমাদের আড্ডায় সেই প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী সোহিনী সাহা’র মুখোমুখী আমি রাজেশ।

প্রশ্ন: একজন সাধারণ মানুষ থেকে প্রফেশনাল সিঙ্গার হয়ে ওঠার গল্পটা কি?

সোহিনী: আমি ছোটবেলা থেকেই গান বাজনার সাথে যুক্ত। কারণ গান বাজনার চর্চা আমাদের পরিবারে বংশপরম্পরায় চলে আসছে। আমার পিসিরা, দিদি গানের সাথে যুক্ত, আমার বোন অভিনয় করে, এবং আমার বাবাও ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত আছেন। বলতে পারো আমার পরিবারটা পুরো ইন্ডাস্ট্রির সাথেই যুক্ত। তাই কোনো দিন আলাদা করে বাড়ির সবার বিরুদ্ধে গিয়ে যে গান করতে হবে বা স্ট্রাগল করতে হবে সেরকম কোনো সমস্যার সম্মুখীন আমাকে হতে হয়নি। ছোটবেলা থেকেই গান রক্তে মিশে আছে সেই ভাবেই এগিয়ে চলা এবং ইন্ডাস্ট্রিতে আসা।

প্রশ্ন: জীবনের কঠিন সময়গুলোয় আপনি কি ভাবে নিজেকে Motivate করেন?

সোহিনী: জীবনের কঠিন সময় গুলোতে আমি অন্যদের দেখে motivate হই। কারণ আমি মনে করি আমার থেকেও খারাপ পরিস্তিতির মধ্যে অনেকে রয়েছে, তারাও সেই পরিস্থিতিটার সাথে লড়াই করছে, আমাকেও করতে হবে, হার মানলে চলবে না। এই পজিটিভ মনোভাবটা রাখি এবং এই মানসিকতাটাই সবসময় আমাকে ভীষণ ভাবে motivate করে। তাছাড়া আমি প্রতিদিন মেডিটেশন করি। তাই মেডিটেশন করে এটুকু বুঝতে পেরেছি “খারাপ সময় বলে কিছু হয় না, এটা একটা খারাপ পরিস্তিতি সেটা একদিন ঠিক কেটে যাবে”।

প্রশ্ন: আপনার hobbies কি?/ গান ছাড়া অবসর সময়ে আপনি আর কি কি করতে পছন্দ করেন?

সোহিনী: আমি রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসি। এছাড়া গান শোনা, গল্প করা, ওয়েবসিরিজ এবং মুভি দেখতেও বেশ ভালো লাগে।

প্রশ্ন: আপনার জীবনে আপনি কাকে আদর্শ বলে মনে করেন?

সোহিনী: আমি আমার জীবনে আদর্শ বলে মনে করি আমার বাবাকে। এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই যে আমার দুই বাবা। একজন আমার বায়োলজিক্যাল ফাদার “কুন্দন সাহা” আর যিনি আমাকে নিজের মেয়ে বলে মনে করেন এবং যাকে আমিও নিজের বাবার আসনে বসিয়েছি তিনি হলেন “নচিকেতা চক্রবর্তী”। তিনি সবসময় বলেন তার দুই মেয়ে আমি আর ধানশিরি। এই দুজনই আমার জীবনের আদর্শ।

প্রশ্ন: আপনার এগিয়ে চলার পিছনে কোন কোন মানুষের অবদান আছে বলে আপনি মনে করেন?

সোহিনী: অবশ্যই আমার মা বাবা। তাদের আশীর্বাদ, ভালোবাসা ছাড়া আমি এতদূর এগোতে পারতাম না। আর যারা আমার গান ভালোবাসেন, যারা আমার খুব কাছের বন্ধু, যারা আমার ভালো চায়, প্রতিনিয়ত আমায় ইনস্পায়ার করে, আমার জীবনে এগিয়ে চলার পথে তাদের অবদানও অনস্বীকার্য।

প্রশ্ন: এই বর্তমান পরিস্তিতি আপনার প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে কতখানি প্রভাব ফেলেছে?

সোহিনী: এখন বর্তমান পরিস্তিতি সত্যি খুব খারাপ। যার প্রভাব প্রত্যেকটা স্তরের মানুষের জীবনে পরেছে। সঙ্গীত জগতের ওপরও যার প্রভাব অনেকটা। আমি যদিও খুব একটা শো করি না কিন্তু তাও এই লকডাউনের জন্য অনেক কাজ পেন্ডিং পরে আছে। তবে আমাদের থেমে থাকলে চলবে না এগিয়ে যেতে হবে। খারাপ সময়টাতো আর চিরস্থায়ী নয়। আশাকরি এই খারাপ সময়টা খুব তাড়াতাড়ি আমরা কাটিয়ে উঠবো।

প্রশ্ন: সবশেষে আপনি আপনার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?

সোহিনী: তাদের আমি একটা কথাই বলতে চাই যে, আরো বেশি বেশি করে বাংলা গান শুনুন, বাংলা গানকে ভালোবাসুন। তাবলে অন্য গান যে শুনবেন না এমনও নয়। সবরকম গানই শুনুন। কিন্তু বেশি করে বাংলা গানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাপোর্ট করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আর এই বর্তমান পরিস্থিতিতে চেষ্টা করুন খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে না বেড়োনোর।

সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে সোহিনী কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। আপনি ও আপনার পরিবারের সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এবং সুরক্ষিত থাকুন এই কামনাই করিI

সোহিনী সাহা ফেসবুক প্রোফাইল: https://www.facebook.com/sohinisahaaa

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

এই টেলিফোনিক ইন্টারভিউ টির লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে:  Susmita Sen

 

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...