Home সাক্ষাৎকার প্লেব্যাক সিঙ্গার হবার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে মিতাস.......

প্লেব্যাক সিঙ্গার হবার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে মিতাস…….

দমদম ক্যান্টলমেন্ট এর ছেলে মিতাস ভট্টাচার্য। যার জীবনের একটাই স্বপ্ন প্লেব্যাক সিঙ্গার হওয়া এবং তার জন্য করে যাচ্ছে অক্লান্ত পরিশ্রম। আজকে আমাদের আড্ডায় মিতাসের মুখোমখি আমি রাজেশ

প্রশ্ন: সঙ্গীত জগতে আসা কিভাবে?

মিতাস: আসলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই যা হয়ে থাকে মা, বাবা গান গাইতেন তো তাদের দেখে বা তাদের গান শুনেই গানের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। স্কুলে পড়া কালীন বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করতাম। গানটা আমার সখ হিসাবেই ছিলI কিন্তু 2013 সালে একটি কলেজ কনসার্ট এ আমি অংশ গ্রহণ করি, এবং সেখানে জেতার পর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলী- স্যারের হাত থেকে আমি পুরস্কার নিই, উনি আমাকে আশির্বাদও করেন। তখন থেকে আমার গানের প্রতি একটা আলাদাই ভালোবাসা জন্মায়, এবং সেই দিনই মনস্থির করি গান নিয়েই আমাকে কিছু করতে হবে।

প্রশ্ন: এই লকডাউনে আপনার কোন কোন গান মুক্তি পেয়েছে?

মিতাস: হ্যাঁ, এই লকডাউনে আমার একটা গান মুক্তি পেয়েছে “আবার হাসবো আমরা”। এছাড়াও মিউজিক ডিরেক্টর অমিত মিত্রর সাথে কিছু কাজ চলছে, আশা করি খুব তাড়াতাড়ি সেই কাজগুলো দর্শকের কাছে তুলে ধরতে পারবো।

প্রশ্ন: তুমি এখনও পর্যন্ত কি কি কাজ করেছো এবং তার মধ্যে তোমার প্রিয় কাজ কোনটি?

মিতাস: বেশকিছু মিউজিক ভিডিও তে কাজ করেছি, কিছু শর্ট ফিল্ম এ কাজ করেছি। এছাড়াও দুটো ফিল্মেও প্লেব্যাক করেছি কিন্তু এখনও সেই ফিল্ম রিলিজ হয় নি, আগামী দিনে রিলিজ হবে আশাকরি।
আরও কিছু কাজ করেছি, সেগুলো ক্রমশ প্রকাশ্য।
যদি বলো প্রিয় কাজ তাহলে বলবো “আমার দুগ্গা” নামের একটি শর্ট ফিল্ম-এ আমার গাওয়া “তুমি আমার দুগ্গা মা” গানটি। এই গানটির মিউজিক করেছে আমার প্রিয় এক ভাই জয় চক্রবর্তী।

প্রশ্ন: ছোটো বেলায় সবার স্বপ্ন থাকে বড়ো হয়ে ডাক্তার হবো বা ইঞ্জিনিয়ার হবো ইত্যাদি। আপনি বড়ো হয়ে কি হবো বলে ভাবতেন?

মিতাস: ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল ডিফেন্সে চাকরি করার, কিন্তু ক্লাস 7 যখন পড়ি তখন চোখে পাওয়ার চলে আসায় চশমা আমার সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে যায়, সাথে স্বপ্নটাও সময়ের সাথে হারিয়ে যায়।

প্রশ্ন: মিউজিক বাদে আর কি করতে ভালোবাসেন?

মিতাস: মিউজিক বাদে আঁকতে ভীষন ভালোবাসি। এছাড়া গান করতে যেমন ভালোবাসি তার পাশাপাশি গান শুনতেও ভীষন ভালোবাসি। এছাড়া এই লকডাউনে হাতে অনেকটা সময় পাওয়ায় সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এগুলো দেখছি।

প্রশ্ন: 2-3 বছর পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান মানে আপনার লক্ষ্য কি?

মিতাস: নিজেকে একজন সফল প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসাবে দেখতে চাই। সেটা টলিউড হোক বা বলিউড।
যেহেতু আমি জিৎ গাঙ্গুলী-স্যারের বড়ো ফ্যান সেহেতু ভবিষ্যতে জিৎ গাঙ্গুলী– স্যারের সাথে কাজ করার খুব ইচ্ছা। বলিউডেও কাজ করার খুব ইচ্ছা আমার, কিন্তু জানি সেই স্বপ্ন পূরণের পথ খুব কঠিন। কিন্তু স্বপ্ন দেখতে ক্ষতি কি? সবসময় একটা কথা মাথায় রাখা খুব দরকার খোলা চোখে যে স্বপ্ন দেখা হয় তা একদিন পূরণ হবেই। তাই আমিও স্বপ্ন দেখি বলিউডে বিশাল-শেখর-স্যারের সাথে কাজ করার। আগামী দিনে নিজেকে এই জায়গায় দেখতে চাই।

mitas-bhattacharjee-interview-by-rajesh-paul

প্রশ্ন: এই লকডাউন শিল্পীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে বলে আপনার মনে হয়?

মিতাস: অনেকটা প্রভাব ফেলেছে। অনেকের অনেক কাজ এই লকডাউনের জন্য আটকে রয়েছে। এটা আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে বলছি অনেকের ঘরে মিউজিক সেটআপ আছে, কিন্তু অনেকের নেই। তাই যার ঘরে মিউজিক সেটআপ আছে সে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, আর ক্ষতি হচ্ছে সেই সব সিঙ্গারদের যাদের কাছে সেই সেটআপটা নেই। এছাড়াও ক্ষতি হচ্ছে তাদের যারা লাইভ শো করে সংসার চালায়, তার থেকেও বেশি ক্ষতি হচ্ছে যারা সেই লাইভ শো তে টেকনিক্যালি কাজ গুলো করেন যেমন সাউন্ড, লাইট এর কাজগুলো করেন যারা তাদের। তো আমার তাদের কথা ভেবে খুবই খারাপ লাগছে। আশা করি আমরা এই পরিস্থিতিটা খুব তাড়াতাড়ি কাটিয়ে উঠবো।

প্রশ্ন: আপনার গানের গুরু কে?

মিতাস: আমার গানের গুরু দুজন একজন যিনি আমায় হাতে ধরে শিখিয়েছেন তিনি হলেন শ্রীমতী বনশ্রী চক্রবর্তী এবং আর অপরজনের গান শুনে আমি শিখেছি অনেক কিছু তিনি আমার আদর্শ অরিজিৎ সিং

প্রশ্ন: প্রিয় গায়ক বা গায়িকা?

মিতাস: প্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং। আমি পার্সোনালি ওনাকে খুব অনুসরণ করি। ওনার লাইফ স্টাইল আমাকে ভীষন ভাবে inspire করে।
আর প্রিয় গায়িকা বলতে শ্রেয়া ঘোষাল।

প্রশ্ন: সঙ্গীত ছাড়া আপনি পার্সোনাল জীবনে কাকে আদর্শ বলে মনে করেন?

মিতাস: আমার বাবা। কারণ তিনি অনেক কঠিন পরিস্তিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকে সংঘর্ষ করে আমাকে বড় করে তুলেছেন তাই আমার এগিয়ে চলার পথে বাবা-ই আমার আদর্শI

প্রশ্ন: আপনার এগিয়ে চলার পথে কার কার অবদান আছে বলে আপনি মনে করেন?

মিতাস: আমার বাবা মায়ের অবদান এবং আমার fiance এর অবদান সবথেকে বেশি। এছাড়া যাদের নাম না নিলেই নয় তারা হলেন অমিত মিত্র, ঊর্ভি চ্যাটার্জী এনাদের অবদানও অনস্বীকার্য।

সবশেষে আমাদের এবিও পত্রিকা-র পক্ষ থেকে মিতাসদা কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইলো। আপনি ও আপনার পরিবার ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এবং সুরক্ষিত থাকুন এই কামনাই করি

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

- Advertisment -

জনপ্রিয়

“ময়ূরপঙ্খীর” তরফ থেকে দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু উপহার প্রদান করা হলো

"ময়ূরপঙ্খী শিশু কিশোর সমাজ কল্যাণ সংস্থা" র পক্ষ থেকে এবং গ্লোবাল স্পা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, বয়স্ক, দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের...

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...