Home অজানা তথ্য বাধ্য হয়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে ৫,০০০ নারী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেন।...

বাধ্য হয়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে ৫,০০০ নারী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেন। মহারাণা প্রতাপ

প্রায় ৫০০ বছর আগের ভারত বর্ষের ইতিহাস। একের পর এক ভিনদেশি রাজা শাসকরা সুবিশাল সৈন্যবাহিনী, অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন অংশ একের পর এক আক্রমণ করে দখল করে নিচ্ছে। এদের মধ্যে আফগান, তুর্কি ও মোঘলরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে সফলও হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার তাদের শাসন পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। তখনও অজেয় রাজ্যগুলোকে নিজের পতাকাতলে এনে সমগ্র ভারতবর্ষে একচ্ছত্র শাসন কায়েম করার উদ্দেশ্য নিয়ে কখনও যুদ্ধ, কখনও সন্ধির নাটক চলছে। এরকম পরিস্থিতিতে একটি রাজ্য এই বিদেশী শাসকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তার নাম মেবার।

১৫৪০ সালের ৯ মে রাজস্থানের কুম্বলগড়ে সিসোড়িয়া রাজপুত বংশে জন্ম নেন প্রতাপ সিং। তার পিতা মহারানা দ্বিতীয় উদয় সিং ছিলেন মেবারের রাজা। তার রাজধানী ছিল চিতোর। আর মা ছিলেন মহারানী জয়ন্ত বাই। উদয় সিং এর পঁচিশ জন পুত্রের মধ্যে সবার বড় ছিলেন প্রতাপ সিং। তাই পিতার উত্তরাধিকার একমাত্র তিনিই মনোনীত হন। তার পিতা বিদেশী আক্রমণকারীদের থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে অনেকবারই বেশ হিমশিম খেয়েছিলেন। তাই উত্তরাধিকার হিসেবে রাজার মুকুটের সাথে এক বিশাল দায়িত্বের বোঝাও মাথায় নেন মহারানা প্রতাপ সিং।

রাজকীয় গুণাবলিতে কোনো অংশে কম ছিলেন না মহরানা প্রতাপ (Maharana Pratap)। ঘোড়সওয়ারী, অস্ত্রচালনা ও যুদ্ধনীতিতে জীবনের একদম গোড়া থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন প্রতাপ। একই সাথে উদারতা ও নির্ভয়তার এক অনন্য সন্নিবেশ ঘটেছিল তার মধ্যে। রাজসভার সোদস্য গণ থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাই তার গুণগ্রাহী ছিল। ১৭ বছর বয়সে প্রতাপ বিয়ে করেন বিজোলিয়ার সামন্ত বংশীয় আজাদবে পানওয়ারকে। মহারানী আজাদবের পাশাপাশি তার আরও দশজন রানী ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তার ১৭ টি পুত্র ও ৫ টি কন্যার জনক ছিলেন প্রতাপ সিং।

১৫৬৭ সালে সম্রাট আকবর ৬০,০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী নিয়ে চিতোরের দুর্গ অবরোধ করতে এলে প্রতাপের পুরো পরিবার নগর ছেড়ে গোগুন্ডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। এই দুর্গটির বিশেষত্ব, এটি ৫৯০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর অবস্থিত ছিল। এর দেয়ালগুলোও ছিল অনেক চওড়া। পূর্বেও অনেক বিদেশী আক্রমণকারী এই দুর্গ দখল করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে আকবরের হাতে এর পতন ঘটে।
সেদিন ৬০,০০০ মোঘল সৈন্যের বিপরীতে দুর্গে ছিল মাত্র কয়েক হাজার রাজপুত সেনা, যারা প্রাণপণ যুদ্ধ করেও দুর্গ বাঁচাতে ব্যর্থ হয়।বাধ্য হয়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে ৫,০০০ নারী আগুনে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেন। নিজের চোখে এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে ২৭ বছর বয়সী প্রতাপ সিং তীব্রভাবে মর্মাহত হন।

উদয় সিং চিতোর ছেড়ে এসে উদয়পুর নামে নতুন রাজধানী স্থাপন করেন। ১৫৭২ সালে উদয় সিং পরপারে পাড়ি জমান। মুকুট পরেন প্রতাপ সিং।
আকবর কয়েকবার প্রতাপের কাছে সন্ধির জন্য দূত প্রেরণ করেন। কিন্তু প্রতাপ শুধু এমন চুক্তিতেই আগ্রহী ছিলেন যাতে মেবারের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে। মহারানা প্রতাপও বুঝে নেন আকবরের পরবর্তী ভাষা হবে অস্ত্রের ভাষা। একটি সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন মহরানা প্রতাপ। আর সেটাই হলো।
১৫৭৬ সালের ১৮ জুন (কোনো বর্ণনামতে ২১ জুন) সংঘটিত হলো হলদিঘাটির সেই বিখ্যাত যুদ্ধ। আকবর মান সিং এর নেতৃত্বে ৮০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন মহারানা প্রতাপের বিরুদ্ধে। এই বিশাল বাহিনীর বিপক্ষে প্রতাপের দলে ছিল মাত্র ২০,০০০ রাজপুত সেনা।
প্রথম ধাক্কায় মোঘল বাহিনীকে পর্যুদস্ত করে দেয় রাজপুত সেনা। প্রতাপ সিং ‘লোনা’ ও ‘রাম প্রসাদ’ নামে দু’টি হাতি নামিয়ে দেন যুদ্ধক্ষেত্রে। তীর ও গোলার আঘাত অগ্রাহ্য করে এরা মোঘল বাহিনীকে তছনছ করে এগোতে থাকে।
হলদিঘাটের যুদ্ধের পরে আকবর আরও অনেকবার মেবার দখলে নেবার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হন। এই সময়ের মধ্যে প্রতাপও চিতোর পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাতে থাকেন। কিন্তু মোঘল বাহিনীর লাগাতার প্রহারে তার বাহিনী এক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

১৫৮৭ সালের পরে আকবর উত্তর-পশ্চিম ভারত ও পাঞ্জাবের দিকে তার দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেন। মহারানা এই সুযোগে মেবারের বেশিরভাগ এলাকা পুনর্দখল করে নেন। কিন্তু চিতোর তিনি আর হস্তগত করতে পারেননি। অবশ্য জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি হৃত নগর পুনরুদ্ধারের আশাও ত্যাগ করেননি, লড়াই থেকেও পিছু হটেননি।

১৫৯৭ সালে এক শিকার অভিযানের সময় দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে আহত হন মহারানা প্রতাপ। এই দুর্ঘটনাই তার মৃত্যুর কারণ হয়। ২৯ জানুয়ারী, ১৫৯৭ মেবারের এই সিংহ, বীর যোদ্ধা, ভারতবর্ষের অন্যতম স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা পরপারে পাড়ি জমান। তিনি আমৃত্যু শত্রুর বশ্যতা স্বীকার করেননি, স্বাধীনতার জন্যেই তিনি বেঁচেছেন, লড়েছেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন দু’চোখে নিয়েই তিনি নিজের জীবনকাল পূর্ণ করে পৃথিবী ছেড়েছেন।
তার এই কৃতিত্ব আমাদের সকলের কাছে অনস্বীকার্য।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

শ্যুটিং শুরু হলো ৮/১২- র, সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন সৌম্য ঋত…

৮/১২'র শুভ মহরত হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক অরুন রায়, প্রযোজক কান সিং সোধা, অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ, রেমো, অর্ণ মুখোপাধ্যায়, অনুষ্কা চক্রবর্তী ছাড়াও...

টিম সোহম ও হাসি খুশি ক্লাবের পক্ষ থেকে এক অভিনব উদ্যোগ “অন্য ইলিশ ও চিংড়ি উৎসব”….

টিম সোহম ও হাসি খুশি ক্লাবের পক্ষ থেকে ২৫ শে জুলাই দুপুর ১২টায় আয়োজন করা হয়েছিল "অন্য ইলিশ ও চিংড়ি উৎসব". বরানগর, টেবিন রোড,...

এবার “চারেক্কে প্যাঁচ” নিয়ে হাজির পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত…

অবাক লাগছে না? হ্যাঁ সত্যি অবাক লাগার মতোই কথা. দম ফাটানো হাসির ছবি নিয়ে হাজির পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত. "এ.কে.Ray", "আনএথিক্যাল"- এর পর "চারেক্কে প্যাঁচ"...

প্রথমবার বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন রিতেশ দেশমুখ…

এই প্রথম বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়ক রীতেশ দেশমুখ। ছবির নাম ‘অন্তর্দৃষ্টি’। এই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা যাবে টলিউড...