Home সাক্ষাৎকার মডেলিং থেকে colors বাংলার মেগা সিরিয়াল "চিরদিনই আমি যে তোমার"- আজকের সাক্ষাৎকারে...

মডেলিং থেকে colors বাংলার মেগা সিরিয়াল “চিরদিনই আমি যে তোমার”- আজকের সাক্ষাৎকারে শার্লি

Colors বাংলার মেগা সিরিয়াল “চির দিনই আমি যে তোমার” এর মুখ্য চরিত্র অণুরাধার ভূমিকায় সকলের মন জয় করেছে শার্লি (Sharly Modak)। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যেমন তার নাম ছড়িয়ে পরেছিলো মডেলিং জগতে ঠিক তেমনই খুব অল্প দিনেই তার মনকাড়া অভিনয়ের জন্য সকল বয়েসের মানুষের মনেও জায়গা করে নিয়েছে শার্লি। যেমন মিষ্টি দেখতে তাকে তেমনিই মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে শার্লি। আজকের আড্ডায় বাংলার সেই ট্যালেন্টেড অ্যাকট্রেস শার্লি -র মুখোমুখী আমি সুুস্মিতা।

প্রশ্ন: হঠাৎ করে এইরকম গৃহবন্দী হয়ে পার্সোনালি তুমি কেমন অনুভব করছো?

শার্লি: হঠাৎ করেই যখন শুনলাম লকডাউন হচ্ছে প্রথম প্রথম বেশ ভালোই লাগছিলো। যেহেতু আমার বাড়ি জলপাইগুড়ি কাজের জন্য কলকাতায় থাকতে হয় সেহেতু বাড়িতে থাকতে পারবো, বাড়ির সবার সাথে সময় কাটাতে পারবো এটা ভেবে খুব আনন্দ হচ্ছিলো। আবার অন্যদিকে ইন্ড্রাস্ট্রিতে সবার সাথে কাজ করতে করতে তারাও আমাদের কাছে অনেকটা পরিবারের মতো হয়ে ওঠে, যার জন্য লকডাউনের সময়টা যখন বাড়তে শুরু করলো তখন কোথাও একটা মনে হচ্ছিল যে আবার যদি কাজটা শুরু করা যেতো ভালো হতো। একপ্রকার বলতে গেলে আমি তাদের ও আমার নিজের কাজটাকে ভীষণ মিস করছি।

sharly-modak-model-actress-colors-bangla

প্রশ্ন: তোমার অভিনয় জগতে আসা কিভাবে?

শার্লি: আমার অভিনয় জগতে আসাটা খুব অদ্ভুত ভাবেই কারণ আমি ছোটো থেকে কোনো দিনই অভিনয় করবো বলে ভাবিনি। আমি অভিনয় জগতে আসার ১ বছর আগে থেকে মডেলিং শুরু করি এবং সেখানে ভালোই একটা পরিচিতি গড়ে উঠেছিল খুব অল্প সময়েই। সেখানে হঠাৎই একজন কাস্টিং ডিরেক্টর আমার সাথে যোগাযোগ করেন এবং আমাকে তিনি তার অফিসে ডেকে পাঠান। আমি যেতেই আমার হাতে একটা স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে দিয়ে, সেটা পড়ে অনেক বলতে বললেন। তখন আমি বুঝতে পরলাম যে তিনি অডিশনের জন্য আমায় ডেকেছেন, কিছুদিন পরই আমি জানতে পারি আমাকে “চিরদিনই আমি যে তোমার” এর জন্য সিলেক্ট করা হয়েছে।

প্রশ্ন:এই লকডাউনে তোমার দৈনন্দিন জীবনের রুটিনটি কি? মানে এই দিন গুলো তুমি কেমন ভাবে কাটাচ্ছো?

শার্লি: সাধারণত আমাদের কাজের জায়গায় ভীষণ সময় ধরে সব কিছু করতে হয়। বলতে গেলে খুবই সিস্টেমেটিক ভাবে চলতে হয়। কিন্তু এই লকডাউনে সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেছে। আসলে আমি শুটিং এর জন্য ঘুমানোর খুব একটা সময় পেতাম না, তাই এখন হাতে অফুরন্ত সময়। সেই জন্য বেশ রাত করেই ঘুমাচ্ছি, আর ঘুম থেকে উঠছিও একটু বেলা করে।😴 এছাড়াও বাবা, মায়ের সাথে অনেকটা সময় কাটাতে পারছি, পাশাপাশি নিজেকেও অনেকটা সময় দিতে পারছি।

প্রশ্ন: এই গৃহবন্দী সময়ে তুমি তোমার নিত্যদিনের রুটিনে কি পরিবর্তন এনেছো যা তোমার অন্য সময়ে করে হয় ওঠা হয় নি?

শার্লি: আমার ছোটো থেকেই খুব ইচ্ছা ছিল সাইকোলজি নিয়ে পড়ার, তাই এখন এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে সাইকোলজি নিয়ে একটু স্টাডি করছি। পাশাপাশি এক্সেসাইজ করছি এবং মায়ের সাথে মিলে নতুন নতুন খাবার বানাচ্ছি।
এছাড়াও গান শুনছি, সময়ের অভাবে যে যে ওয়েব সিরিজ দেখার ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দেখে ওঠা হয়নি সেগুলোও দেখছি।

প্রশ্ন: এমন কোন খাবার যেটা তোমার খেতে খুব ইচ্ছা করছে কিন্তু লকডাউনের কারণে খেতে যেতে পারছো না?

শার্লি: আমি পিজ্জা খেতে ভীষণ ভালোবাসি। বিশেষ করে চিজ আমার খুবই প্রিয়। পিজ্জাটাই এমন একটা খাবার যেটা আমি বাড়িতে বানাতে পারছি না। সেই জন্য লকডাউনে আমি পিজ্জা’কে খুবই মিস করছি।

প্রশ্ন: লকডাউন মিটলে তুমি প্রথম কার সাথে দেখা করবে?

শার্লি: আমি আমার দিদাকে খুব ভালোবাসি। লকডাউন মিটলে আমি প্রথম দিদার সাথে দেখা করবো। কারণ হাজার ব্যস্ততার কারণে বেশ অনেক দিন যাবৎ দিদার সাথে আমার দেখা হয়নি। ছোটবেলার অনেকটা সময় আমার দিদার সাথে কেটেছে, এমনকি স্কুলের পরীক্ষা শেষ হলে দিদার বাড়িতে গিয়ে থাকতাম, আর আমার দিদার বাড়ির ওখানে প্রতি বছর একটা মেলা হয়, আগে ছোটবেলায় প্রতিবছর যেতাম কিন্তু এখন আর যাওয়া হয় না। সেই দিন গুলোকে এখনও খুব মিস করি আমি।

প্রশ্ন: লকডাউন মিটলে যে কাজটা তুমি প্রথম করবে?

শার্লি: আমার শ্যুটিং এর অনেক কাজ পেন্ডিং পরে আছে, লকডাউন মিটলে সেটাতেই আমার মেন ফোকাস।

প্রশ্ন: তুমি এখন অনেক বড়ো বড়ো শিল্পীদের সাথে কাজ করছো, তাদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন??

শার্লি: এককথায় বলতে গেলে ভীষণই ভালো। প্রথম দিন যখন তুলিকা দি, রেশমি দি, পার্থ দা, অরিন্দম বাগচী এনাদের মতো বড়ো বড়ো শিল্পীদের সাথে পরিচয় হয় তখন একটু নিজেকে নার্ভাস বোধ করতাম, কিন্তু ধীরে ধীরে কাজ করার সাথে সাথে তাদের সাথে একটা আলাদাই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমি যাদের সাথে কাজ করি তারা সবাই ভীষণ হেল্পফুল। সব সময় আমাকে কাজটা খুব সুন্দর ভাবে হাতে ধরে শিখিয়েছেন। তারা যে আমাকে এতটা আপন করে নিয়েছেন তাতে আমি নিজেকে খুবই lucky ফিল করি। ওনাদের মতো শিল্পীদের সাথে কাজ করছি এটা আমার সৌভাগ্য।

প্রশ্ন: শ্যুটিং এর সময় ঘটে যাওয়া কোনো মজার মুহূর্ত

শার্লি: কালিম্পং একটা আউটডোর শ্যুটিং এ গেছিলাম (ওখানে পাহাড়ি রাস্তা)। তখন ওখানে একটা সীন ছিল যে ঢালু রাস্তা দিয়ে হিল জুতো পরে আমাকে ছুটে আসতে হবে। আমি পুরো রাস্তা ভালো ভাবে দৌড়ে এসে যেখানে আমি দাড়াব ঠিক সেই জায়গায় এসে হঠাৎ করে পা স্লিপ করে পড়ে গেছিলাম, আর পড়ে গিয়ে আমি কেঁদে ফেলেছিলাম।😥 আসল ব্যাপার ঘটেছিল এর পরের সীনের শ্যুটিং-এ আমায় বলা হয়েছিল ত্রিবেণী নদীতে জলের মধ্যে দিয়ে দৌড়তে হবে এবং ওই পা নিয়ে এটা আমার পক্ষে তো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। তখন আমি যেতে না চাওয়ায় আমার এক কো আর্টিস্ট আর প্রোগ্রামার আমাকে কোলে তুলে ক্যামেরার সামনে নিয়ে আসে। এই ঘটনাটা আমার সারা জীবন মনে থাকবে, এটাই আমার সাথে ঘটে যাওয়া খুব মজার এবং মেমোরেবল ঘটনা।

প্রশ্ন: বাস্তব জীবনে “শার্লির” সাথে কি “অনুরাধার” কতটা মিল আছে?

শার্লি: শুধু মিল নয় প্রচুর মিল আছে। কারণ অনুরাধা ক্যারেক্টারটা আর পাঁচটা বউ এর মতো নয় যে খুব বোকা, মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকবে, শ্বাশুড়ির সমস্ত অন্যায় আবদার মান্য করে চলবে। অনুরাধা এমন একটা মেয়ে যে শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করে এসেছে, খুব স্মার্ট, এবং যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় তো আমিও বাস্তব জীবনে সেরকমই। তাই আমার খুব একটা অসুবিধা হয়নি অনুরাধা ক্যারেক্টারে নিজেকে মানিয়ে নিতে।

প্রশ্ন: এই লকডাউন তোমার প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলবে কি?

শার্লি: বলতে গেলে এই লকডাউন আমাদের মত শিল্পীদের জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে দিয়েছে। যেহেতু আমি নতুন এই ইন্ড্রাস্ট্রিতে সেহেতু আমি অনেক টা সময় পেয়েছি নিজের ভুল গুলোকে সংশোধন করে, নিজেকে আরো ভালো ভাবে তৈরি করার। তবে হ্যাঁ আমরা সকলেই বিপদের মধ্যে পড়ে আছি, তাই আমাদের সবাইকেই এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে হবে। লকডা‌উনে প্রত্যেক শিল্পীই চেষ্ঠা করছে কোনো না কোনো ভাবে বিনোদনের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করার, আমিও তাই করছি। দেখবেন ঠিক এই খারাপ সময়টা আমরা সকলে মিলে কাটিয়ে উঠবোই।

প্রশ্ন: সবশেষে তুমি লকডাউনে তোমার দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?

শার্লি: আমাদের কাছে দর্শকের ভালোবাসাটাই সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি। আমি এটুকুই বলবো আপনারা এত দিন যেভাবে আমাকে ভালোবাসা দিয়েছেন সেই ভাবেই আমাকে ভালবাসতে থাকুন। দিনের শেষে যখন আপনাদের ভালোবাসা, আশীর্বাদটা পাই সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড়ো পাওয়া। সবসময় এইভাবেই আমাদের পাশে থাকবেন। আর এই লকডাউনে খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি আশা করি এই খারাপ সময়টা খুব তাড়াতাড়ি কাটিয়ে উঠবো।
আপনারা ভালো থাকবেন সুরক্ষিত থাকবেন।

সবশেষে আমাদের এবিও পত্রিকা-র পক্ষ থেকে শার্লি কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইলো। তুমি ও তোমার পরিবার ভালো থেকো, সুস্থ থেকো এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করি।

Concept: Rajesh Paul

Our Facebook Page: https://facebook.com/abopatrika/

A special thanks to Ms. Payel Saha

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মুক্তি পেলো DEZINIAX STUDIOS -এর প্রযোজনায় স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “হুলো & মেনি”…

বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পুজো. আর দূর্গা পুজোয় প্রেম হবে না তা কি হয়. এবার পুজোয় তবে "হুলো আর মেনির প্রেম হয়ে যাক? অবাক...

পুজোর মরশুমে ‘মনের মানুষ’ দেবতনু রাজ করতে চলেছে সকলের “হৃদ মাঝারে”!

বর্তমানে পরিস্তিতি উদ্বেগ জনক হলেও বাঙালীরা ৩৬৫ দিন অপেক্ষা করে থাকে এই ৪টি দিনের জন্য। উমা ঘরে আসার সাথে সাথে চারিদিক খুশির আমেজে ভরে...

দাম্পত্য জীবনের প্রথম দূর্গা পুজো! কেমন কাটাচ্ছে অভিনেতা আরুষ এবং পায়েল?

এবিও পত্রিকার তরফ থেকে প্রথমেই আরুষ এবং পায়েল কে জানাই শুভ শারদীয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা। গত বছর ২৭ নভেম্বর ২০২০ তে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে...

Klikk এর পক্ষ থেকে মুক্তি পেলো আরো একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “আগমনী”…

বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পূজা। ৩৬৫ দিন বাঙালীরা অপেক্ষা করে থাকে এই ৪টি দিনের জন্য। উমা ফেরে তার মায়ের ঘরে। চারিদিক মেতে ওঠে উৎসবের...