Home সাক্ষাৎকার "সময় কে সময় দিতে শিখেছি বলেই আমার পথ চলা কখনো থেমে থাকেনি"...

“সময় কে সময় দিতে শিখেছি বলেই আমার পথ চলা কখনো থেমে থাকেনি” -রূপক তিয়াড়ী

মাত্র 21 বছর বয়সেই প্রায় 20 টির বেশী নিজের কম্পোজিশন। দুই বাংলার-ই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় আমাদের কোন্নগরের ছেলে রূপক। সঙ্গীত জগতের অনেক তারকার-ই কণ্ঠে জায়গা করে নিয়েছে তার সুর।
আজকের আড্ডায় এমনি ট্যালেন্টেড মিউজিক কম্পোজার, ডিরেক্টর, সিঙ্গার রূপক তিয়াড়ী-র মুখোমুখি আমি রাজেশ

rupak tiary music director

প্রশ্ন: এখনো পর্যন্ত তোমার নিজের কম্পোজিশনে কতগুলো গান রিলিজ হয়েছে?

রূপক: সেরকম ভাবে বলতে গেলে আমার নিজের কম্পোজিশনে প্রায় 20 টা গান রিলিজ হয়েছে। এর মধ্যে 15 টা গান আমার নিজের গাওয়া। তার মধ্যে ২০১৬ সালে দুটো ফিল্মে কাজ করেছি, একটা বাংলাদেশের “আমি তোমার হতে চাই” এর “ও সুন্দরী রে” আর অনির্বাণ, ইপ্সিতা, রুদ্রনীল ও রজতাভ দত্ত অভিনীত “সাথিয়া” সিনেমার “কোনো কথা না বলে” গানটি।

প্রশ্ন: মিউজিক এর প্রতি ভালোবাসা জন্মালো কিভাবে?

রূপক: মায়ের কাছ থেকেই আমার প্রথম গান শেখা। 2010 সালে আমি Z- বাংলায় “সা রে গা মা পা” সুযোগ পাই। কিন্তু unfortunately কয়েকটা এপিসোডের পর আমি আর এগোতে পারি নি। সেখান থেকেই আমার গানের প্রতি অন্যরকম এক ভালোবাসা জন্মায়। তখন থেকে decision নিয়ে ফেলি যে আমায় গান নিয়েই কিছু একটা করতে হবে।

প্রশ্ন: গান কম্পোজ করা এই আগ্রহটা তোমার কবে থেকে ?

রূপক: ছোটবেলায় পড়াশোনার চাপে গান শেখাটা আমার বন্ধ হয় যায়, কিন্তু গানের প্রতি ভালবাসাটা কখনো হারিয়ে যায় নি। টেকনিক্যাল দিক থেকে আমি always আপডেট থাকতে খুব পছন্দ করি। ছোটবেলায় যখন প্রথম কম্পিউটার পাই তারপর থেকেই নেট ঘেঁটে মিউজিকের টেকনিক্যাল দিক গুলো শিখতে থাকি। আর ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা নিজে কিছু করার। ক্লাস-ix এ যখন পড়ি তখন থেকেই প্রফেশনালি মিউজিক নিয়ে কাজ করাটা শুরু করে দি।

প্রশ্ন: অনেকেই চায় বড়ো হয় ডাক্তার হবো বা ইঞ্জিনিয়ার হবো, তো তোমার বড়ো হয় কি হবার ইচ্ছা ছিল?

রূপক: আমার বড়ো হয়ে Astronomy (মহাকাশ) নিয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল। কারণ আমি ভীষন তারা ভালোবাসি।

প্রশ্ন: আজ এই জায়গায় পৌঁছানোর পেছনে তোমার স্ট্রাগল কতখানি?

রূপক: বড়ো কোনো কাজ করার পেছনে স্ট্রাগল তো থাকেই, স্ট্রাগল আমি এখনো করে যাচ্ছি। আসলে সব বাবা, মায়ের মত আমার বাবা, মায়েরও ইচ্ছা ছিল আমি সরকারি চাকরি করি কিন্তু আমার চিন্তা ভাবনা একটু আলাদা ছিল। আমি সব সময় ভাবতাম আমি অন্য কারোর অধীনে নয় নিজের থেকে থেকে কিছু করবো। সেদিক থেকে দেখতে গেলে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে আমায় পড়তে হয়ছে কিন্তু কোনো দিন আমি আশা ছেড়ে দি নি। আমাকে করতেই হবে এরকম একটা মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে গেছি এবং এখনো এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রশ্ন: অনেকের মধ্যে এই প্রবণতা টা দেখা যায় যে পরিস্তিতির চাপে পরে, যেটা আছে সেটাতে মানিয়ে নেওয়া। স্ট্রাগলের জেরে ক্লান্ত হয়ে কখনো তোমার মনে হয় নি যে বাবা, মায়ের ইচ্ছে টাকে মেনে নি?

রূপক: একদমই নয়। আমি খুব বেপরোয়া, হাল ছেড়ে দেবার মানুষ আমি নই। অনেকের মধ্যেই এই প্রবণতা-টা দেখা যায় যে মানিয়ে নেওয়া। আমার কাছে মানিয়ে নেওয়ার মানে নিজের ইচ্ছা-টাকে চাপা দিয়ে দেওয়া। আমি বলবো নিজের ইচ্ছে টাকে চাপা না দিয়ে যতক্ষণ না সেটা পূরণ হচ্ছে তার জন্যে চেষ্টা করে যাওয়া উচিৎ। আর “সময় কে সময় দেওয়া” শিখেছি বলেই আমার পথ চলা কখনো থেমে থাকেনি

প্রশ্ন: ২-৩ বছর পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাও?

রূপক: অনেক স্বানামধন্য শিল্পী আছেন যাদের গান শুনে আমি বড়ো হয়েছি বা যাদের গান এখনো শুনি সেরকম শিল্পীদের সাথে অবশ্যই কাজ করার ইচ্ছা আছে। এবং আমি আশাও রাখি পরবর্তী কালে আমি তাদের সাথে কাজ করবো।

প্রশ্ন: তোমার শ্রোতারা যারা তোমায় এত ভালোবাসা দিয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে তুমি কি বলতে চাও?

রূপক: তাদের ধন্যবাদ জানানোর মতো ভাষা আমার কাছে নেই। তারা না থাকলে আমাদের মত মিউজিক নিয়ে যারা কাজ করে তাদের অস্তিত্বটা হয়তো থাকতো না। তারা আছে বলেই আমরা আছি। তাদের একটাই কথা বলবো এভাবেই যেনো আমাদের পাশে থাকেন তারা।

সব শেষে আনন্দবাজার অনলাইনের পক্ষ থেকে রূপক কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। তুমি ও তোমার পরিবারের সকলে ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করি।

Follow Rupak on Instagram: https://instagram.com/rupaktiary?igshid=j3imasdw9hev

Subscribe on YouTube: https://www.youtube.com/channel/UCLc77oipFHMW5rDBDMvQOog

Like Our Facebook Page: https://www.facebook.com/onlineanandabazar/

টেলিফোনিক ইন্টারভিউ কে লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে Susmita Sen

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...