Home সাক্ষাৎকার "বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো প্রতিভার সঠিক দাম পাওয়া যায়" সাক্ষাৎকারে পথিকৃৎ বসু...

“বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো প্রতিভার সঠিক দাম পাওয়া যায়” সাক্ষাৎকারে পথিকৃৎ বসু…

স্কুল বেলাতেই পরিচালক হবে বলে ঠিক করেছিলো সে। কলেজ বেলা থেকে সহকরি পরিচালক হিসেবে কাজ করা শুরু। ২০১৬ সালে পরিচালক হিসেবে প্রথম ছবি। মাত্র ২৬ বছর বয়েসেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির চার চারটে বিগ বাজেটের হিট ছবি। আজকের আমাদের আড্ডায় বাংলার সেই প্রখ্যাত চলচিত্র পরিচালক পথিকৃত বসু এর মুখোমুখি আমি রাজেশ

প্রশ্ন: পথিকৃৎ বসু নামটা আজ সবার পরিচিত। কিন্তু একজন সাধারণ মানুষ থেকে ফিল্ম মেকার বা ফিল্ম ডাইরেক্টর হয়ে ওঠার পিছনে গল্পটা কি?

পথিকৃৎ: এটা আমার কাছে একটা লম্বা জার্নি বলতে পারো। এমন একটা সময় গেছে যখন আমি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করতাম। কলেজ বাঙ্ক করে অনেক পরিচালককে অ্যাসিস্ট করেছি যেমন শিবপ্রসাদ মুখার্জি, দেবাদিত্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরকম কাজ করতে করতে আমার আলাপ হয় রবি কিনাগীর সাথে। রবি জীর সাথে আমি অনেক কাজ করেছি। বলতে গেলে তিনি আমাকে নিজের ছেলের মত ভালোবাসতেন, সাথে আমাকে নিজের হাতে ধরিয়ে কাজ শিখিয়েছেন।



তাছাড়া রবি জীর বেশিরভাগ ছবি শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস প্রযোজিত তাই শ্রীকান্ত দার সাথে রবি জীর একটা ভালো সম্পর্ক ছিল, সাথে আমারও। আর অদ্ভুত ব্যাপার হলো শ্রীকান্ত দা আমাকে ভীষণ ভাবে ভরসা করতেন। তাই শ্রীকান্ত দা আমাকে 2016 সালে প্রথম ছবি দিয়েছিলো “হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা”। তখন আমার বয়স 23, আর আমি ইউনিটের সবচেয়ে ছোটো ছেলে ছিলাম😎। এই ভাবেই আমার জার্নিটা শুরু এরপর “ফিদা“, “টোটাল দাদাগিরি“, “কে তুমি নন্দিনী” এগিয়ে চলেছি।

প্রশ্ন: “কে তুমি নন্দিনী” তে আপনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন জুটির উপহার দিয়েছেন সেটা “রূপসা ও বনি“। এই ব্যাপারে যদি কিছু বলেন?

পথিকৃৎ: “কে তুমি নন্দিনী” নিয়ে অনেকদিন ধরেই “বনি”-র সাথে আমাদের কথা চলছিল। কিন্তু কিছু কারণে ছবিটা হয়ে উঠছিল না। আর গল্পটা যেহেতু হিরোইনের পয়েন্ট অফ ভিউ দিয়ে এগোতে থাকে সেহেতু আমরা তখন ঠিক করি নতুন মুখ লঞ্চ করার। সেই ভাবেই অডিশন এবং সেখান থেকে “রূপসা” কে আমাদের ভালোলাগে, তখনই ওকে কাস্টিং করা হয়। এই ভাবেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি দর্শকরাও নতুন এক জুটি উপহার পায়।

 

প্রশ্ন: “কে তুমি নন্দিনী” স্ক্রিপ্ট রাইটার “রুদ্রনীল ঘোষ” এই ব্যাপারে যদি কিছু বলেন

পথিকৃৎ: “কে তুমি নন্দিনী” একটি মালায়ালাম মুভির রিমেক। এর আগেও বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক মুভি রিমেক হয়েছে কিন্তু সেগুলোর থেকে “কে তুমি নন্দিনী” সম্পূর্ণ আলাদা। এই ফ্লিমটি রিমেক হলেও আমরা এটিকে নিজস্বতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছি। ওখানে রুদ্র’দা ও অপরাজিতা দি’র যে পার্ট আছে এবং তাদের দুজনের সম্পর্কের যে গল্প, সেটা সম্পূর্ণ নতুনভাবে যোগ করা হয়েছে, এরকম আরো অনেক সিন আছে যেগুলো রুদ্র’দা তার নিজস্বতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।



আমার মনে আছে যখন রুদ্রদাকে বলা হয় এই ছবির কথা, আর রুদ্রদা যখন ফিল্মটা দেখে। তারপর থেকে প্রায়ই রাত 3 টে পর্যন্ত রুদ্রদার বাড়িতে বসে আমি আর রুদ্রদা এই ফিল্ম-এর স্ক্রিপ্ট রেডী করেছি। তো এখানে রুদ্রদার ভূমিকা অনেক খানি।

প্রশ্ন: ছোটবেলায় সবার স্বপ্ন থাকে ডক্টর হবো বা ইঞ্জিনিয়ার হবো ইত্যাদি। আপনি বড় হয়ে কি হবেন বলে ভাবতেন?

পথিকৃৎ: ছোটবেলায় তো সবাই অনেক কিছুই ভাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয় না। কিন্তু আমি যখন ক্লাস 10 এ পড়ি তখন থেকেই ছবি বানাবো এরকম একটা অদ্ভুত সখ মনের মধ্যে জাগে। কিন্তু তখন বুঝতাম না যে কি ভাবে করবো বা কি ভাবে একটা ছবি তৈরি হয়। তবে ছবি বানানোর প্রতি একটা আলাদাই ভালোবাসা ছিলো আমার।



আমি যেহেতু কমার্শিয়াল ছবি বানাই তো অনেক পরিচালকের ছবি দেখেও আমি অনেক ইন্সপায়ার হয়েছি, আর আমি যেহেতু 6,7 বছর অনেক পরিচালককে অ্যাসিস্ট করেছি তাই আমি তাদের থেকেও অনেক কিছু শিখেছি।

প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয় বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে nepotism চলে?

পথিকৃৎ: না, আমার সেরকম মনে হয় না যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে nepotism চলে বলে। যদি nepotism চলতো তাহলে দেব দেব হতো না, জিৎ জিৎ হতো না, অঙ্কুশ অঙ্কুশ হতো না, এরকম আরো বহু ব্যাক্তিত্ব আছেন যাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। তবে হ্যাঁ একটু আদটু সব প্রফেশনেই চলে, তাবলে সেটাকে ট্যাগ লাইন বানিয়ে দেওয়াটা অবশ্যই ভুল।



এছাড়া আমার পরিচিত অনেকেই আছে যেমন সায়ন্তন ঘোষাল, শিলাদিত্য, সৌকর্য এদের মধ্যে কেউ ফিল্ম ব্যকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে বলে আমার মনে হয় না, কিন্তু তাও এরা খুবই ভালো কাজ করছে। তো বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এখনো সেই ভাবে nepotism এর শিকার হয়নি বললেই চলে। এখানে এখনো প্রতিভার সঠিক দাম পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: এই লকডাউন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে বলে আপনি মনে করেন?

পথিকৃৎ: এই লকডাউন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির উপর অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে। বহুদিন ধরে সিনেমা হল বন্ধ, শুটিং বন্ধ। বাংলা ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রির বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পরেছে। আর শুধুমাত্র ফ্লিম নয়, সকল ইন্ডাস্ট্রির উপরেই এর প্রভাব পরেছে যা প্রত্যক্ষ বা পরক্ষ ভাবে এই ইন্ডাস্ট্রির উপরেও পরছে। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি এই পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠবো।



প্রশ্ন: আপনার দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপনি কি বলতে চান?

পথিকৃৎ: একটাই অনুরোধ করবো আমার সকল দর্শকের কাছে যে বেশি করে বাংলা ছবি দেখুন, সেটা অবশ্যই হলে গিয়ে। বাংলা ছবি’কে সাপোর্ট করুন, আপনাদের সাপোর্ট খুবই প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্তিতিতে সকলে সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন, পরিবারের সকলকে নিয়ে সুরক্ষিত থাকুন।

সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে পথিকৃত বসু কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। আপনি ও আপনার পরিবারের সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এবং সুরক্ষিত থাকুন এই কামনাই করিI

এই টেলিফোনিক ইন্টারভিউ টির লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে:  Susmita Sen

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

 

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...