Home সাক্ষাৎকার লকডাউন-এ কেমন কাটছে দিন? সাক্ষাৎকারে মধুরা ভট্টাচার্য

লকডাউন-এ কেমন কাটছে দিন? সাক্ষাৎকারে মধুরা ভট্টাচার্য

“এখন বাড়ির কাজে মা কে সাহায্য-তেই তো দুবেলা অনেকটা সময় পার হয়ে যাচ্ছে……………….” –মধুরা ভট্টাচার্য

 

মধুরা ভট্টাচার্য” ছোটোপর্দা থেকে বড়পর্দায় সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে তার প্রতিভা। তার মনকাড়া গলার সুরের জন্য সকল বয়েসের মানুষের কাছেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হাসিখুশি, প্রাঞ্জল ও মিসুখে স্বভাবের মানুষ মধুরা।
এহেন গুনী, অসামান্য প্রতিভার অধিকারী আমাদের সকলের প্রিয় মধুরা ভট্টাচার্যের মুখোমুখি আমি রাজেশ।

প্রশ্ন: হঠ্যাৎ করে এইরকম গৃহবন্দি হয়ে পার্সোনালি আপনি কেমন অনুভব করছেন?

মধুরা: আসলে আমাদের কাজের তেমন দশটা পাঁচটা Fixed time না থাকায়, আর কাজ ছাড়া তেমন বেরোনো হয়না বলে, প্রথম প্রথম খুব বেশী অনুভব করিনি। তবে “এই” গৃহবন্দির অনুভুতি টা তো কারোর পক্ষেই সুখকর নয়। তবে আর তো কোনো উপায়ও নেই। এ যেন বাড়িতে আটক থেকেই দেশ ও দশের জন্যে যুদ্ধ।
সারা পৃথিবীতে এতো মৃত্যুমিছিল, ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা সবের মধ্যেও ভালো কিছুকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছি বার বার। মা বাবার ও নিজের সাথে এতটা নির্ভেজাল সময় কাটাতে পারছি।

প্রশ্ন: এই লকডাউনে আপনার দৈনন্দিন জীবনের রুটিনটি কি। মানে এই দিন গুলি আপনি কেমন ভাবে কাটাচ্ছেন?

মধুরা: অনেকে বলছেন শুনছি, তারা নাকি Lockdown এ বাড়িতে বসে Bore হচ্ছেন!! সময় নাকি কিছুতেই কাটছেনা! কই? আমি তো সময়ই পাচ্ছিনা, অনেক কিছু করার বা শেখার ইচ্ছে থাকা সত্তেও।
এখন বাড়ির কাজে মা কে সাহায্য তেই তো দুইবেলা অনেকটা সময় পার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নিত্য দৈনন্দিন কাজ তো আছেই।
রেওয়াজ, পুজো, গান, Excercise…আরও কত কী। কিছু রান্না Try করছি। আমার YouTube Channel ও Facebook Page MADHURAA তে গান Upload করছি শ্রোতাদের জন্য।
কত সিনেমা দেখব ভেবেছিলাম। তেমন দেখে ওঠার সময় পাচ্ছিনা।
এই তো। এইসবেই বেশ কেটে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: এই গৃহবন্দী সময়ে আপনি আপনার নিত্যদিনের রুটিনে কি পরিবর্তন এনেছেন যা অন্য সময় আপনার করা হয়ে ওঠেনি?

মধুরা: পরিবর্তন আনতে হয়নি। এসে গেছে! অনেক ঘরের কাজ Add হয়েছে। এছাড়া কিছু নতুন Audio Video সংক্রান্ত Technical জিনিস শেখার চেষ্টা করছি। বাবার সাথে নতুন একটা Youtube Venture শুরু করেছি “তোমাদের গল্প দাদু” নামে। সেই বিষয়ে পরে আসছি। মা এর থেকে বেশ কিছু Traditional বাংলা গান তুলছি সময় সুযোগ পেলেই। সন্ধ্যেবেলায় ছাদে খোলা আকাশের নীচে খানিকটা সময়ও কাটাচ্ছি।

প্রশ্ন: এমন কোন খাবার যেটা আপনার খেতে খুব ইচ্ছে করছে, কিন্তু লকডাউনের কারণে সেটা খেতে যেতে পারছেন না?

মধুরা: আসলে এই বিষয়ে আমি বেশ নীরস! তাই বন্ধুদের এই নিয়ে আমি খুব নিরাশ করি। বাইরের খাবারের খুব বেশি ভক্ত আমি নই! হ্যাঁ, তবে lockdown এ মিষ্টি বা Chocolates বেশ Miss করছি। 😒 তাই সেদিন বাড়িতেই মিষ্টি বানিয়ে ফেললাম Youtube দেখে !😄

প্রশ্ন: লকডাউন মিটলে যে কাজটি প্রথম আপনি করবেন-

মধুরা: কিছু নিজে নিজে ঠিক করা Resolutions আছে। থাক। সেগুলো আগে করে উঠি। তারপর বলব। 😊

প্রশ্ন: এই লকডাউন কি সঙ্গীত শিল্পী বা যন্ত্র শিল্পী দের প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে কোনো প্রভাব ফেলবে?

মধুরা: অবশ্যই। ভীষণ রকম প্রভাব ফেলবে তো বটেই। সবার জীবনেই কম বেশী নানা ভাবে প্রভাব পড়ছে ও পড়বে। বিশেষ করে যারা আমাদের মত Entertainment এর Profession এ আছেন, তারা খুবই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। কারন এর পরে মানুষ তার অত্যাবশ্যক প্রয়োজন মেটানোর দিকেই স্বাভাবিক ভাবে বেশী প্রাধান্য দেবেন। মনোরঞ্জনের দিকে কম। ফলে আমাদের সাঙ্গীতিক অনুষ্ঠান গুলিতে তার একটা বিশাল প্রভাব পড়বে। তাই, অনুষ্ঠান নির্ভর যাদের জীবন, তাদের খুব সমস্যা। Musician দাদারা, Sound Light এর দাদারা, এমনকি যারা Stage সজ্জা করেন, এরকম প্রচুর মানুষ খুবই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের হয়তো কত দামী দামী instruments Loan/EMI তে কেনা আছে। তাদের ওপর নির্ভর সংসার আছে। তাদের কথা ভাবলে নিজের সমস্যা গুলো অনেক ছোটো বোধ করি। ঈশ্বরের কৃপায় আপাতত আমাকে তো খাওয়া পরার দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছেনা। আশা করি আমরা সবাই একসাথে এই কঠীন সময় টি কাটিয়ে উঠতে পারবো। ঠিক পারবো। সঙ্গীত আমাদের সেই মানসিক শক্তি জোগাবে।

প্রশ্ন: এখনকার ছোটো ছেলে মেয়েদের মধ্যে গল্পের বই পড়ার চল কমে যাচ্ছে বা কমে যাচ্ছে ঠাকুমা দাদুর কাছ থেকে গল্প শোনার চল, এরই মধ্যে আপনার এবং তুষার কান্তি বাবুর যে খুব সুন্দর একটি প্রচেষ্টা “তোমাদের গল্প দাদু”। তো এর ব্যপারে আপনি শ্রোতা দের উদ্দ্যেশ্যে কি বলবেন?

মধুরা: হ্যাঁ, বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও সাহিত্যিক। ছোটো থেকেই বাবার কাছে বাবার লেখা ও আরও নানান ধরনের গল্প শুনতে খুব ভালো লাগে। এখন ছোটদের বা বেশীরভাগ মানুষের তেমন পড়ার অবকাশ বা ধৈর্য কোনোটাই হয়না খুব একটা। ভাবলাম সবাইকে গল্প শোনানোর ব্যবস্থা করা যাক তাহলে এই ফাঁকা সময়টায়। যেদিন ভাবলাম, সেদিনি TOMADER GOLPO DADU নামে YouTube Channel টি খুলে বাবার একটা গল্পের Video বানিয়ে Upload করে দিলাম। সবার অনেক ভালবাসা ও Response পেয়ে আমরা আপ্লুত। অনুরোধও আসছে নানান গল্পের। সেই অনুযায়ী Recently একটি ভূতের গল্পও Release করেছি।
আমি নিজেই Audio/Video Editing এর চেষ্টা করছি আমার অপটু হাতে। বাড়িতে বসেই “তোমাদের গল্পদাদু” তে সুর করে গেয়ে একটি Title ও বানিয়েছি, রূপক তিয়ারির Music Arrangement এ।
সবাইকে অনুরোধ করব TOMADER GOLPO DADU এর YouTube ChannelFacebook Page টি তে SUBSCRIBE ও LIKE এর মাধ্যমে যুক্ত থাকতে।

প্রশ্ন: সবশেষে আপনি লকডাউনে আপনার শ্রোতাদের উদ্দ্যেশে কি বলতে চান?

মধুরা: নিজেদের পছন্দমত গান শুনতে শুনতে কাজ করতে পারেন (আমার গান ও শুনতে পারেন ! 🤭)। এতে বিরক্তিকর কাজ টাও সহজ বলে মনে হয়। মন ভালো রাখুন। সর্বোপরি সবাই সুস্থ থাকুন। সুরক্ষিত থাকুন। Positive থাকুন।
চলুন না, আমরা সবাই মিলে একটু ভালো থাকার চেষ্টা করি। ঠিক থাকবো দেখবেন। এই সময় টাও কেটে যাবে।

মধুরা আরো জানিয়েছেন যে- তার সঙ্গীতের সূচনা তার মায়ের হাত ধরেই।
মা-ই তার প্রথম গানের গুরু।
মধুরার মা শম্পা দেবী হলেন আকাশবাণীর প্রখ্যাত শিল্পী। এখনো পঞ্চকবির (অতুলপ্রসাদি, দ্বিজেন্দ্রগীতি, রজনীকান্ত সেন, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল গীতি) যেকোন গান তুলতে গেলে মা-ই হয় মধুরার প্রথম ভরসা।

madhura family father mother
মাধুরার বাবা শ্রী তুষার কান্তি ভট্টাচার্য ও মা শম্পা দেবী

সবশেষে আমি রাজেশ আনন্দবাজার অনলাইনের পক্ষ থেকে মাধুরা কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। আপনি ও আপনার পরিবার খুব খুব ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন এই কামনা করি।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/onlineanandabazar/

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...