Home সাক্ষাৎকার "জীবনে প্রলোভন অনেক আসবে, উপেক্ষা করাই শ্রেয়" অনেক জানা অজানার গল্প নিয়ে...

“জীবনে প্রলোভন অনেক আসবে, উপেক্ষা করাই শ্রেয়” অনেক জানা অজানার গল্প নিয়ে আজকের আড্ডায় ঈক্সিতা মুখার্জি

অজস্র জিঙ্গেলস দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরু। সেখান থেকে নিজের পরিশ্রম, প্রতিভা, আত্মবিশ্বাসের ফলে এগিয়ে চলা শুরু। প্রথমে ছোট পর্দায় তার পর বড় পর্দায় আমারা খুঁজে পেয়েছি তাকে। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অভিনীত “সমান্তরাল“-এ “দেখা হবে বলে” এই গানটি দিয়েই তার বড় পর্দায় প্রথম পা রাখা। কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত ও প্রসেনজিত চট্টোপধ্যায় অভিনীত “কিশোর কুমার জুনিয়ার” চলচিত্রের ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের সুরে “Medley” গানটি যার কন্ঠের স্পর্শে সকলের মন ছুয়ে গেছে, সে “ঈক্সিতা মুখার্জি“। আমাদের আজকের আড্ডায় এমনই একজন প্রতিভাবান সঙ্গীত শিল্পী ঈক্সিতা-র মুখোমুখি আমি রাজেশ

প্রশ্ন: আমি শুনেছি যে তুমি ভালো গায়িকার পাশাপাশি খুব ভালো একজন স্টুডেন্ট ও। তুমি ইংলিশ লিটেরেচার নিয়ে মাস্টার্স করেছো এখন বি এড করছো। তুমি নিজের মিয়ুজিক ক্যারিয়ার এর সাথে কিভাবে নিজের এই রকম একটা কঠিন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা কে কনটিনিউ করছো?

ঈক্সিতা: একটু তো tough হয়েই যায় গান ও পড়াশোনা একসাথে সামলানো। কিন্তু যেহেতু গানের মতই পড়াশোনা-টাকেও আমি খুব ভালোবাসি, তাই হয়তো আমি ঠিক সামলে নিতে পারি। এই ক্ষেত্রে আমি বলবো আমার ক্যারিয়ার এর জন্য আমি হয়ত আমার বিএড এর সব ক্লাস attend করে উঠতে পারিনা বেশিরভাগ সময়। সেক্ষেত্রে আমার কলেজের টিচার্স-রাও আমায় অনেক হেল্প করেন।

প্রশ্ন: আমরা শুনেছি যে তোমার ছোট থেকেই একজন শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন ছিলো। এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তুমি গানও করতে। কিন্তু পড়াশোনার পাশপাশি গান থেকে গানের পাশাপাশি পড়াশোনা, এই স্বপ্ন বদলটা ঠিক কবে এবং কিভাবে ঘটলো?

ঈক্সিতা: হ্যাঁ। সত্যিই আমার স্বপ্ন ছিলো যে বড় হয়ে টিচার হওয়ার। ছোটো থেকেই আমার পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিলো। প্রতি বছর স্কুলে আমি rank ও করতাম।
তেমনিই দেখতে গেলে যেহেতু আমি একটা মিয়ুজিকাল ফ্যামিলি থেকে belong করি তাই আমার গানের প্রতি আগ্রহও ততটাই ছিলো। আমার বাবা মা যখন তাদের ছাত্র ছাত্রীদের গানের ক্লাস করাতেন তখন আমি সবসময় মায়ের পাশে গিয়ে বসে থাকতাম। কেন জানিনা সুর যেন আমায় টানতো সবসময়। তার পর ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সাথে সাথে আমার পরিবারের সকলে, বন্ধুরা, স্কুলের টিচার্সরা যখন আমার গান শুনে বলতো তুই গান নিয়েই কিছু একটা করবি। তখন আমিও বেপার টাকে সিরিয়াসলি নিতে শুরু করলাম। এভাবেই পথ চলা শুরু, এখনো চলছি।

প্রশ্ন: সফলতার রাস্তা কখনও সহজ হয় না। এই কথাটায় কি বিশ্বাস কর ? যদি কর তাহলে তুমি কি মনে কর, তোমার এই রাস্তাটা কতটা কঠিন ছিলো?

ঈক্সিতা:: এএই কথাটা খুবই সত্যি যে সফলতার রাস্তা সত্যিই সহজ হয় না। আমি যেহেতু কোলকাতার মেয়ে নই। সেহেতু আমার আড়াই ঘন্টা জার্নি করে কোলকাতায় গান শিখতে যেতে হতো আবার সেই একই রাস্তা ফেরা। অনেক সময়ই অসুস্থ হয়ে পড়তাম। এই কথাটা বলতে আমি দ্বিধাবোধ করিনা যে আমায় অনেক রিজেকশনের মুখোমুখি হতে হয়েছে বারবার। অনেক সময় এমনও হয়েছে রেকর্ডিং হয়ে গেছে, কিন্তু ফ্লিম রিলিজের মাত্র এক সপ্তাহ আগে আমাকে জানানো হয়েছে যে আমার গানটি তারা রিজেক্ট করছেন এবং আমার গাওয়া গানটিতে আমার গলার পরিবর্তে তারা অন্য শিল্পীর কণ্ঠে রেকর্ড করাবেন। সেই মুহুর্তে একটু ভেঙে পরেছি ঠিকই। কিন্তু কখনো থেমে থকিনি। ভাঙা মন জোড়া লাগিয়ে আবার এগিয়ে চলেছি। এখনও চলছি।

প্রশ্ন: আগের প্রশ্নের উত্তরে তুমি বললে যে তোমায় অনেক বার রিজেকশনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তো এই সময় তুমি নিজেকে কিভাবে motivate করতে?

ঈক্সিতা: Seriously সেই সময় গুলোয় মন তো একটু ভেঙে যায়-ই। কিন্তু আমাকে যে থেমে থাকলে চলবে না। জীবনে জোয়ার ভাটা দুটিই খুব important। সেই সময় গুলোতে আমার মনবল আরো বেড়ে যায়। আমি আমার ভুলত্রুটি গুলোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি এবং খামতি গুলোকে দূরে সরিয়ে আবার এগিয়ে চলি। এই রিজেকশন থেকে আমি অনেক কিছু শিখি, এই রিজেকশন গুলোই আমাকে অনেক ধৈর্য ধরতে শিখিয়েছে এবং এখনো শেখাচ্ছে।

প্রশ্ন: প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে একজন আদর্শ থাকে। তোমার জীবনে তুমি কাকে আদর্শ মনে করো?

ঈক্সিতা: আমি একান্ত ভাবে বিশ্বাস করি একটা মানুষের জীবনে কোনো নির্দিষ্ট একজন মানুষ কখনই আদর্শ হতে পারে না, এবং দুর থেকে কাউকে দেখে, তার কথা বা গল্প শুনে তাকে আদর্শ বলে মেনে নেওয়া যায় না। যতক্ষণ না তাকে কাছ থেকে দেখছি, তার সম্পর্কে ও তার জীবনের স্ট্রাগল সম্পর্কে জানছি ততক্ষণ তো নয়-ই। অন্তত আমার ক্ষেত্রে তো নয়-ই। আমার জীবনে খুব অল্প সংখ্যক কিছু মানুষ আছেন যাদের থেকে বা যাদের দেখে প্রতিনিয়ত আমি আমার জীবনের পথ চলতে শিখেছি।

প্রথমেই আমি যাকে আমার জীবনের সবচেয়ে আদর্শ বলে মনে করি তিনি হলেন আমার বাবা। যে মানুষটাকে আমি প্রতিনিয়ত দেখি আর অবাক হই। যে, কিভাবে একটা মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে নিজের সততা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে এগিয়ে চলেছে। এই ব্যাপারটা আমাকে জীবনে চলার পথে অনেকটা ইন্সপায়ার করে।

মাকে দেখে শিখেছি কি ভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে মুখে হাসি রেখে ভালোবাসার মানুষটির পাশে থেকে তার মুখে হাসি ফোটাতে হয়। কি ভাবে নিজের পরিবার ও সন্তানের প্রতি যত্নের বিন্দুমাত্র ত্রুটি না রেখে তাদের এক ভালোবাসার বাঁধনে বেঁধে রাখতে ও জীবনের সাফল্যের পথে এগিয়ে চলতে তাদের উৎসাহিত করতে হয়।

আমার জীবনে আমি সেরা কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা পেয়েছিলাম। তাদের মধ্যেই একজন এমন শিক্ষিকা আছেন যাকে আমি হয়ত ছোটো থেকেই বাকি সকল টিচার্স দের তুলনায় একটু বেশিই শ্রদ্ধা করি। ছোটবেলায় একটা অদ্ভুত ভালোলাগা থেকেই তার প্রতি এই শ্রদ্ধা জণ্ম নেয়। আমি নিজেকে ধন্য মনে করি যে তার মতো একজন শিক্ষিকার সান্নিধ্য আমি আমার জীবনে পেয়েছি বলে।

আর যার কথা না বললেই নয় সে হলো আমার Fiance। তার থেকেও আমি অনেক কিছু শিখেছি আর ভবিষ্যতেও শিখবো। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা তার থেকে শিখেছি সেটা হলো “কাজের সময় শুধুই কাজই করতে হয়, পৃথিবী উল্টে গেলেও কাজ থেকে কেউ যেনো আমায় বিরত করতে না পারে। এতটাই ডেডিকেটেড হওয়া উচিৎ কাজের প্রতি, সেটা যে কোনো কাজই হোক না কেনো।”
এই ভাবেই তাদের কথা মাথায় রেখে আমি এগিয়ে চলেছি। তাই তারাই সবসময় আমার জীবনের আদর্শ।

প্রশ্ন: তোমার Hobbies কি? মানে গান আর পড়াশোনা বাদে তুমি আর কি কি করতে ভালোবাসো?

ঈক্সিতা: গান আর পড়াশোনা বাদে আমার ভীষন ভালোলাগে ঘর গোছাতে, আর বই পড়তে। বেশ অনেকরকম বইয়ের কালেকশন আমার কাছে আছে যার মধ্যে বেশির ভাগটাই আমার ফিয়ন্সের গিফ্ট করা। আমি আর আমার ফিয়ন্সে মাঝে মধ্যেই একে অপরকে বই গিফ্ট করতে থাকি সেটা যেকোনো occasion হোক বা without occasion.
আর আমার খুবই পছন্দের একটা কাজ হলো আমার পাখিদের যত্ন নেওয়া আর আমার ছোটো বোনের সাথে ভিডিও কল করা। সারাদিনে অনেকটা সময় আমার এদের সাথে কাটে। আর যেহেতু আমি খেতে খুব ভালোবাসি সেহেতু মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন রান্নার রেসিপি try করি, আর সেটা সবার প্রথমে বাবাকে দিয়ে টেস্ট করাই। এসব মাঝে মধ্যেই চলতে থাকে। এছাড়া যেটা ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ সেটা হলো আমি বক বক করতে ভীষণ ভালোবাসি😬😬।

প্রশ্ন: সবার এগিয়ে চলার পিছনে কারোর একটা বড়ো অবদান থাকেই। তুমি কি মনে করো তোমার জীবনে এগিয়ে চলার পথে কার অবদান সবথেকে বেশি?

ঈক্সিতা: এই ব্যাপারে আমার বাবা মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি, সেটা গান হোক বা পড়াশোনা। আমার জন্য তারা কতটা পরিশ্রম করেছে এমনকি করছেও সেটা আমার কাছের মানুষ ছাড়া খুব কম মানুষই আছে যারা জানেন। আমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব অনেকেই আমাকে বলে যে আমি নাকি ভীষন lucky যে এরকম বাবা মা পেয়েছি এবং আমিও সেটাই মনে করি।
বাবা, মায়ের পরে আমার প্রথম গানের গুরু শ্রী কল্যাণ চক্রবর্তী ওনারও অবদান অনস্বীকার্য।

যেহেতু আমার আমার মামার বাড়িতে গান নিয়ে নিয়মিত চর্চা হয়, এমনকি বলতেই হয় যে দাদু একজন সঙ্গীত অনুরাগী মানুষ ছিলেন এবং দিদা একজন আকাশবাণীর শিল্পী ছিলেন সেহেতু তারা আমাকে খুব উৎসাহিত করে। তাই আমার কাছে তাদের অবদানটাও অনেকটা।
আমি অনেক সময় অনেক কে দেখেছি এই সাপোর্টটা না পাওয়ার কারণে ভেঙে পড়তে। তো সেই দিক থেকে আমি সবার সাপোর্ট পেয়েছি সেই কারণে আমি নিজেকে খুবই lucky feel করি।

আর যে মানুষটার অবদান অনস্বীকার্য যার জন্য বাংলা সিনেমায় প্রথম প্লেব্যাক করা, তাও রূপঙ্কর দা‘র মতো একজন শিল্পীর সাথে তিনি হলেন “ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত“। এই মানুষটাই আমাকে তৈরী করেছেন। সাথে আরেক জনের নাম বলবো তিনি হলেন “শ্রী সন্দীপ নাগ“। এনাদের সান্নিধ্যে এসে আমার মিউজিক আরো বেশি সমৃদ্ধি লাভ করেছে। আজ আমি যতটুকু সাফল্য অর্জন করেছি তার পিছনে এনাদের অবদান অনেকটাই বেশী এবং তা চিরকাল থাকবেও। এমনকি তাদের থেকে অনেক সময় বকাও খেয়েছি এখনো খাই কিন্তু সেটা আমি সবসময়ই তাদের আশির্বাদ হিসাবেই নি, যা আমার চলার পথের অনুপ্রেরণা।

এছাড়াও আমার এগিয়ে চলার পিছনে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের কথা না বললেই নয় যারা কোনো একসময় আমাকে বলেছিল “আমি গানটা ঠিকমতো গাইতে পারি না, তাই গানটা আমার আর কন্টিনিউ করা উচিৎ নয়। গান ছেড়ে দিয়ে আমি যেনো অন্য কিছু করি। এই কথাগুলো ভীষণ ভাবে আমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।

প্রশ্ন: আমরা সকলেই জানি যে গত 2019 এ তোমার আর অমিত দা (বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার অমিত চ্যাটার্জী) র এনগেজমেন্ট হয়েছে। তো তুমি তোমার এগিয়ে চলার পথে তার দিক থেকে কতটা সাপোর্ট পাও?

ঈক্সিতা: আমি আগেও বলেছি আমার ফিয়ন্সের কাজের প্রতি ডেডিকেশন অনেকটাই। তাই আমি তার থেকে সবসময়েই সাপোর্ট পেয়েছি। অনেকে বলেন Husband, Wife এক‌ই profession এ থাকলে নাকি সুবিধা হয়, আবার অনেকে উল্টোটা ভাবে যে একই profession এ থাকলে ego crush করে। সঠিকটা আমার জানা নেই, তবে আমার ক্ষেত্রে আমার ফিয়ন্সের same profession টা আমায় ভীষণ ভাবে হেল্প করে। শুধু একটা দিক থেকে নয়, আমার গান ও পড়াশোনা দুটো দিকেই আমায় সে সাপোর্ট করে। আমাদের 5 বছরের সম্পর্কের প্রথম দিন থেকে সবরকম পরিস্থিতিতে সে আমার পাশে থেকেছে। আগেও বলেছি আমার Rejection এর কথা, সেই সময় গুলোতেও ভীষণ ভাবে আমি তাকে পাশে পেয়েছি। এছাড়াও ওর থেকে ওর কাজের গল্প শোনা, সাউন্ডের ব্যাপারে জানা, নতুন কোনো সুর তৈরি করলে সবার প্রথমে আমাকে শোনানো, এই জিনিস গুলো আমাকে ভীষণ ভাবে সাহায্য করে। বলতে পারো- “আমাদের গানেই শুরু গানেই শেষ”।

ikkshita-mukherjee-with-amit-chatterjee

প্রশ্ন: তুমি তোমার অগ্রগতির পথে তোমার বন্ধুদের সহযোগিতা কতটা পেয়েছো?

ঈক্সিতা: এই বেপারে বলতে গেলে কিছু মানুষের কথা না বললে একেবারে নয়।
প্রথমেই বলবো আমার বান্ধবী সংযুক্তা-র কথা। এই কথাটা আমার আমার স্বীকার করতে আপত্তি নেই যে অনেক ছোটো বেলার বন্ধু-বান্ধবীর চাইতে তাকে আমি সবচেয়ে বেশি পাশে পেয়েছি।
আরেক জনের কথাও অনস্বীকার্য সে হলো আমার বন্ধু কাম ভাই ‘ইশান‘(Ishan Mitra)। গানের বেপারে অনেক সময়ই সাহায্য পাই আমি তার কাছ থেকে। কখনও আমার গানের কোনো জায়গায় অসুবিধা হলেই আমি তাকে ফোন করে disturb করি। যদিও সে কখনওই disturb feel করে না। ইশানকে আমার নিজের ভাই-ই বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন: এই লকডাউনে অনেক শিল্পীকেই দেখা যাচ্ছে যে তারা নিজের ঘরে বসেই তার শৈল্পিক সত্তা কে ফুটিয়ে তুলছেন বিভিন্ন গান রিলিজের মধ্যে দিয়ে। আমরা শুনেছি তোমার একটা গান রিলিজ হতে চলেছে সামনেই। যদি সেই ব্যাপারে আমাদের কিছু বলো

ঈক্সিতা: শুধু লকডাউন চলছে বলে নয়, লকডাউন ছাড়াও আমি বাড়িতে সময় পেলেই আমার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে আমার বিভিন্ন গানের ভিডিও পাবলিশ করতে থাকি। এই লকডাউনেও সেটা চলেছে। Recently আমি দুটি গান রেকর্ডিং করেছি। একটা এই সপ্তাহে মুক্তি পেতে চলেছে আশা অডিও-র থেকে “আমার মুক্তি“।
“আমার মুক্তি” গানটি নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই। এই গানটিতে আমার সঙ্গে অনেক স্বনামধন্য শিল্পীরা গেয়েছেন। তারা হলেন- জয় সরকার, শোভন গাঙ্গুলি, নিকিতা গান্ধি, তৃষা পারুই, প্রান্তিক সুর, উজ্জয়ীনি দি, দুর্নিবার দা, ঈশানি প্রমুখ। এনাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ।
আর “আশা অডিও” সাথে এর আগেও আমি কাজ করেছি “অচেনা বৈশাখ” গানটিতে।

সাধারণত কি হয় রেকর্ডিং এর সময় মিউজিক ডিরেক্টরের সামনে গাইলে অনেক সুবিধা হয়, যাতে ছোটো ছোটো ভুল ত্রুটি গুলো সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধন হয়ে যায়। আর এই ক্ষেত্রে পুরোটাই নিজেকে খেয়াল রেখে ধরে ধরে গাইতে হয়েছে। আর আমি প্রতি নিয়তই প্রত্যেকটা জিনিস থেকে কিছু না কিছু শেখার চেষ্টা করি। এই পরিস্তিতির মধ্যে অনেকটাই শিখলাম যার জন্য আমি খুব আনন্দ পেয়েছি ওয়ার্ক ফর্ম হোম করে। আর অবশ্যই রেকর্ডিং স্টুডিওতে আবার ফিরতে চাই খুব তাড়াতাড়ি।

প্রশ্ন: শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে তুমি কি বলতে চাও?

ঈক্সিতা: শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে এটুকুই বলবো জীবনে চলার পথে কাজের ক্ষেত্রে, যে কোন বয়সে অনেক প্রলোভন আসতে থাকে। সেই প্রলোভনে পা না দিয়ে এগিয়ে চলাই উচিত। নিজের কাছে সবসময় Honest থাকা উচিত। Dishonest থাকলে হয়তো সাফল্য তাড়াতাড়ি অর্জন করা যায় কিন্তু তাতে নিজের কাছে ছোটো হয়ে যেতে হয়। নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকে নিষ্ঠার সাথে একমনে কাজ করা। যে যত‌ই অপমান করুক যাই করুক সেদিকে কর্ণপাত না করা। Original থাকো, Original শোনো, আর Original নিয়েই মাতামাতি করো। আর সবশেষে আমার গানকে এভাবেই ভালোবেসে যাবেন। আপনাদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।🙏

সবশেষে আমাদের এবিও পত্রিকা-র পক্ষ থেকে ঈক্সিতা কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইলো। তুমি ও তোমার পরিবার ভালো থেকো, সুস্থ থেকো এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করি।

Ikkshita Mukherjee on Facebook: Ikkshita Mukherjee

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/abopatrika/

এই টেলিফোনিক ইন্টারভিউ টির লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে Ms. Susmita Sen

 

 

 

 

- Advertisment -

জনপ্রিয়

“ময়ূরপঙ্খীর” তরফ থেকে দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু উপহার প্রদান করা হলো

"ময়ূরপঙ্খী শিশু কিশোর সমাজ কল্যাণ সংস্থা" র পক্ষ থেকে এবং গ্লোবাল স্পা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, বয়স্ক, দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের...

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...