Home সাক্ষাৎকার "অন্ধকারের পর আলো আসে, রাতের পর সকাল হয়" সাক্ষাৎকারে সা রে গা...

“অন্ধকারের পর আলো আসে, রাতের পর সকাল হয়” সাক্ষাৎকারে সা রে গা মা পা-এর গীতশ্রী

ছোটো থেকেই যাকে হতে হয়েছে অজস্র বাধার সম্মুখীন। তবুও খারাপের মধ্যেও অনবরত খুঁজে চলেছে প্রত্যাশার আলো। এগিয়ে চলেছে সাফল্যের পথে। আজ আমাদের সাথে আড্ডায় “সা রে গা মা পা” এর গীতশ্রীর মুখোমুখি আমি সুস্মিতা

প্রশ্ন: একজন সাধারন মানুষ থেকে প্রফেশনাল সিঙ্গার হয়ে ওঠার গল্পটা কি?

গীতশ্রী: আসলে ছোটোবেলা থেকেই আমার চারপাশের পরিবেশটা সঙ্গীতকে ঘিরেই। আমার বাবা একজন প্রফেশনাল আর্টিস্ট ছিলেন, বাবা কিশোর কুমার জীর গান গাইতেন। ফলে সারাদিনই বাড়িতে গানের চর্চা চলতো। তাই বাবাকে দেখেই প্রথম মনে ইচ্ছা জেগেছিল যে গান গাইবো। আমার এখনও মনে আছে “তখন আমার তিন বছর বয়স, বাবার সাথে কোনো একটা শো দেখতে গেছিলাম। বাবাকে দেখছি মঞ্চে একের পর এক সুন্দর সুন্দর গান গাইছে। বাবাকে দেখে আমিও রীতিমত জেদ করলাম আমিও মঞ্চে গান গাইবো। এই বলে নাছোড়বান্দা, শেষ পর্যন্ত ক্লাব কতৃপক্ষ বাবাকে বললেন “ও যেমনই গাক, ভালো মন্দ যেমনই গাইবে আমরা তাই শুনবো”। সেদিন আমি প্রথম মঞ্চে গান গাই “চিরদিনই তুমি যে আমার” টাইটেল ট্র্যাক মিউজিশিয়ানদের সাথে। তখনই মা, বাবা বুঝতে পারে যে আমি গান নিয়ে কিছু করতে পারবো। তখন আমায় “জয়ন্ত সরকার” গুরুজীর কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকেই আমার গান নিয়ে পথ চলা শুরু। তারপর ২০১০ সালে জি বাংলাসা রে গা মা পা‘আমায় সুযোগ দেয়, আমি সবার সামনে গান গাওয়ার সুযোগ পাই। এই ভাবেই আমার পথ চলার শুরু।





প্রশ্ন: তোমার এই চলার পথের অনুপ্রেরণা তুমি সবচেয়ে বেশি কার বা কাদের কাছ থেকে পেয়েছো?

গীতশ্রী: অবশ্যই আমার বাবা মায়ের কাছ থেকে। বাবা কে ছাড়া হয়তো আমার এই পথ চলা সম্ভব হতো না। মাও গানের ব্যাপারে অতটা না বুঝলেও ভীষণ ভাবে আমাকে সাপোর্ট করেছে। আমার বাবা যেহেতু পেশায় একজন মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ তো বাবার ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবার কিন্তু কোনো কারণ বশত সেটা হয়ে ওঠেনি। তো বাবা চেয়েছিল আমার মধ্যে দিয়ে যাতে সেই স্বপ্নটা পূরণ করা যায় কিন্তু সেটাও হলো না। কিন্তু বাবার এই স্বপ্নটা আমি অপূর্ণ থাকতে দেবো না, একজন বড়ো শিল্পী হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবো।

প্রশ্ন: গান ছাড়া অবসর সময় কি করতে পছন্দ করো বা hobbies কি?

গীতশ্রী: আমি গান ছাড়া গান করতেই পছন্দ করি। সারাদিন গানের মধ্যে থাকতেই ভালোবাসি। তাছাড়া শ্রেয়া ঘোষাল জী আমার আইডল। আমি ওনার গান শুনতে প্রচন্ড ভালোবাসি, এমনকি সারাদিন যদি কেউ বলে ওনার গান শুনতে আমি তাও শুনবো।



আরো একটা পছন্দের জিনিস আছে সেটা অনেকেই জানে না সেটা হলো আমি লিখতে ভীষণ ভালোবাসি। মাঝে মাঝেই টুকটাক গান লিখি, এছাড়া প্রচুর কবিতা লিখি। বলতে গেলে আমার সবকিছু গানকে ঘিরেই।

প্রশ্ন: তোমাকে এই পর্যন্ত পৌঁছতে কি কি বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

গীতশ্রী: এটা মনে হয় আমি বলে শেষ করতে পারবো না। একজন শিল্পী হতে গেলে প্রচুর বাধার সম্মুখীন হতে হয়, অনেক কটু কথা শুনতে হয়। আর সেই শিল্পী যদি মধ্যবিত্ত ঘরের হয় তাহলে তো আর কথাই নেই😓।
আর সত্যি কথা বলতে শুধু শিল্পীদের ক্ষেত্রেই নয় সব প্রফেশনের ক্ষেত্রেই সাফল্য পেতে গেলে বাধার সম্মুখীন তো হতেই হবে, আমিও তার ব্যাতিক্রম নই। আমাকে ছোটো বয়সে একদম শুরুতেই যে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, “আমি যখন প্রথম গান শিখতে যাই তখন আমার কাছে টেপ রেকর্ডার ছিল না। আসলে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, আমার বাবার পক্ষে আমাকে একটা টেপ রেকর্ডার কিনে দেবার ক্ষমতা ছিল না। তো সবাই টেপ রেকর্ডার নিয়ে যেতো গান শিখতে, গুরুজী গাইতেন সবাই রেকর্ড করে নিত বাড়িতে শুনতো, কিন্তু আমি দিনের পর দিন হা করে বসে থাকতাম গুরুজীর দিকে তাকিয়ে। যেহেতু টেপ রেকর্ডার ছিল না সেহেতু গুরুজী যা শেখাতেন আমি সেটা সারা রাস্তা মনে করতে করতে আসতাম, আর এসেই হারমোনিয়াম নিয়ে প্র্যাকটিস করতে বসে পড়তাম যাতে আমি কোনো ভাবে গুরুজীর শেখানো ভুলে না যাই।




কিন্তু তাও দিনের পর দিন এতকিছু করার পরও আমি গুরুজীর কাছে বকা খেয়েছি কারণ আমি গাইতে পারতাম না। আর বকা খাওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়, একটা বছর তিনের বাচ্চার পক্ষে এতকিছু মনে রাখা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত আমরা মুক্ত মঞ্চের শিল্পী, আমরা মুক্ত মঞ্চে গাই। সেই কারণে অনেকেই আমার বাবা মা কে দুষেছে যে, মেয়েকে ঠিক প্রফেশনে নিয়ে যেতে পারো নি, মেয়েকে সাজিয়ে গুজিয়ে রোজ কোথায় নিয়ে যায়? এমনকি আমাদের পরিবারটাকেও সেপারেট করে দেওয়া হয়। তাই এখনো আমার বাধা শেষ হয় নি। আর এই বাধা গুলোই আমাকে প্রচন্ড ভাবে উৎসাহ দেয় এগিয়ে চলার পথে।

প্রশ্ন: জীবনের কঠিন সময় গুলোয় নিজেকে কি ভাবে মোটিভেট করো?

গীতশ্রী: কঠিন সময় তো সবার জীবনেই আসে। আমার জীবনেও এসেছে। আসলে আমার মধ্যে কি চলছে সেটা আমি বাইরে কাউকে বুঝতে দি না। আমি নিজেকে বোঝাই। কখনো খারাপ সময় এলে ভেঙে পরি না, আমি খারাপের মধ্যেও ভালোটাকে খুঁজি। আমি মনে করি “অন্ধকারের পর আলো আসে, রাতের পর সকাল হয়”। তো এই ভাবেই নিজেকে মোটিভেট করি। আর যাদের কথা না বললেই নয় তারা হলেন আমার গুরুজী “রথীজিৎ ভট্টাচার্য্য” ও গুরুমা “শ্রেয়া মুখার্জী ভট্টাচার্য্য” যারা আমাকে প্রতি নিয়ত উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। আমি যখন ডিপ্রেশনে থাকি দিদি আমার পাশেই থাকেন, আমাকে বোঝান সুতরাং ওনারাও আমার কাছে বাবা মা তুল্য। ওনাদের জন্যই হয়তো আমি সঙ্গীতকে এতটা আপন করে নিতে পেরেছি। আমার এগিয়ে চলার পথে ওনাদের অবদানও অনেকটাই।

প্রশ্ন: সবশেষে তুমি তোমার দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাও?

গীতশ্রী: প্রথমত তারা যে এতক্ষণ ধরে আমার আর্টিকেলটা পড়ছেন তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার সবথেকে বড় সাপোর্ট সিস্টেম আমার দর্শকরা। আমি তাদের আমার ফ্যান মনে করি না, তারা আমার পরিবার। তাদের জন্যই আমি। আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভ থাকি না, হয়তো অনেকদিন হয়ে গেছে লাইভ এ আসিনি বা গানের কোনো ভিডিও পোস্ট করি নি তখন অনেকে আমায় ম্যাসেঞ্জার এ ম্যাসেজ করে যে, তোমার গান অনেকদিন শুনিনি। তোমার গান আসছে না কেনো? ইত্যাদি। তো তারা যে আমার গান শুনতে ভালোবাসেন, বা আমাকে যে তারা এত সাপোর্ট করেন এটাই আমার সবচেয়ে বড়ো পাওয়া।



আমি চাই এই ভাবেই যেনো তারা আমায় ভালোবাসেন, আমাকে আশীর্বাদ করেন যাতে আমি তাদের আরো ভালো ভালো গান উপহার দিতে পারি। দেখো ধন, দৌলত, টাকা, পয়সা আসবে যাবে কিন্তু এই ভালোবাসা, এই আশীর্বাদ টুকুই সারাজীবন থেকে যাবে। আমি আশা রাখবো তাদের আশীর্বাদ যেনো সব সময় আমার মাথার ওপর থাকে। আর অবশ্যই বাংলা গান শুনুন, বাংলা গানকে সাপোর্ট করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

সবশেষে এবিও পত্রিকার পক্ষ থেকে গীতশ্রীকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য রইলো অনেক শুভেচ্ছা। তুমি ও তোমার পরিবারের সকলে ভালো থাকো, সুস্থ থাকো এই কামনা করি।

Concept: Rajesh Paul

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

- Advertisment -

জনপ্রিয়

Flixbug এর পক্ষ থেকে মহৎ উদ্যোগ! জানালেন দেব চক্রবর্তী…

চারিদিকের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগ জনক। করোনা অতিমারীর ভয় গ্রাস করেছে মানুষকে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার সর্ব স্তরের মানুষ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা...

এ.কে.Ray তৈরীর পেছনেও রয়েছে কিছু কাহিনী! জানালেন অরূপ, সুপ্রতীম…

সম্প্রতি ABO Ptrika কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরূপ জানান তার প্রথম শর্ট ফিল্ম এ.কে.Ray খুব শীঘ্রই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং OTT প্লার্টফর্ম এ মুক্তি পেতে চলেছে।...

কাকদ্বীপে অসহায় মানুষদের হাতে ত্রান তুলে দিলেন “বং গাই”(কিরণ দত্ত)…

মানুষের মনোরঞ্জনের মাধ্যম সিরিয়াল, সিনেমার পাশাপাশি ইউটিউবও বিনোদনের অনেকখানি জায়গা দখল করে রেখেছে. এখন ইউটিউব চ্যানেল গুলোর রমরমা যথেষ্ট বেড়েছে.বাংলার তেমনই এক ইউটিউবার হলো...

সেফ হোম খোলার পর, যীশু সেনগুপ্তের উদ্যোগে ত্রান পৌছালো সুন্দরবনের মানুষের কাছে…

এই করোনা পরিস্তিতিতে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেক তারকাই. তার মধ্যে অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত একজন. করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আগেই উদ্যোগ নিয়েছেন যীশু. এবার...