Home গল্প ঘুমের দেশে || এ বি ও অরিজিনালস || কলমে- জয়িতা চক্রবর্তী

ঘুমের দেশে || এ বি ও অরিজিনালস || কলমে- জয়িতা চক্রবর্তী

বছর ছয়েক আগের কথা। আমার কাছে চল্লিশ বছর বয়সী এক পেশেন্ট আসতেন। নাম সুজয় কর। ভদ্রলোককে দেখলে মনে হবে ইহজগতের সাথে ওর কোন সম্পর্ক নেই। খেতে হয় খাই শুতে হয় শুই। কিন্তু শুলে ঘুম হয় না। একটা সময় ভদ্রলোক ইনসমনিয়ার শিকার হলেন। ফলত দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে লাগলো। কাজকর্ম ছেড়ে দিলেন। তবে অর্থাভাব ছিল না বলে চিকিৎসার ত্রুটি করেননি। আশ্চর্যভাবে কোনো ডাক্তার ওনার রোগ ধরতে পারেননি বা সাড়াতে পারেন নি। শেষমেষ উনি আমার শরণাপন্ন হন।



এই প্রসঙ্গে বলে রাখি আমি একজন মনোবিদ ওই লোকে যাকে বলে পাগলের ডাক্তার। তো যাই হোক ওনার সমস্ত কথা শুনে মোটামুটি যা বুঝলাম সুজয় বাবুর তার নিজের জীবনের প্রতি কোন মায়া নেই বরং মরে গেলেই যেন ভাল হয়। আমার কাছে আসার মাস দুয়েক আগেই নাকি উনি দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বিষয়টার গভীরতা বুঝে ঠিক যেভাবে ওনাকে ট্রিট করা দরকার সেভাবেই করছিলাম। এভাবে এক বছর কাটলো। সুজয় বাবুর উন্নতি হচ্ছিল। উনিও নিজের পরিবর্তনে খুশি। সে বছর শীতে ঠিক করলাম সিমলা যাব। সুজয় বাবুকে সেই কথাটা জানাতে ওনার মুখটা কালো হয়ে গেল। কারণ বুঝতে পেরে আমি হেসে ফেললাম। বললাম ‘আরে ভয় কি আপনি তো সুস্থ এখন! আর আমি তো দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফিরে আসব।




পরদিন সিমলার জন্য রওনা দিলাম। সেখানে সুজয় বাবুর কথা আমার মনে ছিল না। বারো দিনের পর যেদিন ফিরলাম সেদিন চেম্বার খুলিনি। পরদিন চেম্বার খুললাম। সেদিন সন্ধ্যেবেলায় মিস্টার করের আসার কথা। তার আগে দুজন পেশেন্ট চলে গেছেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম ওনার জন্য। শেষে উনি আসবেন না ভেবে চেম্বার বন্ধ করতে যাবো এমন সময় দেখি সুজয় বাবু ঘরে ঢুকলেন। মুখে হাসি। আমিতো অবাক। ওনাকে এতটা প্রাণোচ্ছল আগে কখনো দেখিনি। জিজ্ঞেস করলাম ‘কি ব্যাপার মিস্টার কর? এনি গুড নিউজ?’ উনি প্রায় চেঁচিয়ে বললেন ‘ডক্টর রক্ষিত আমি ভালো হয়ে গিয়েছি। যা দারুন ঘুম হচ্ছে না এখন আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না!’ সত্যি বলতে কি আমারও ভালো লাগলো। সেদিন আর কোনো কথা হলো না।



এরপর টানা এক সপ্তাহ যখন উনি এলেন না ভাবলাম একবার ওনার বাড়িতে ফোন করি। হাজার হোক পুরনো পেশেন্ট বলে কথা। ফোন করলাম। একজন মহিলা ফোন তুললেন। আন্দাজ করলাম এটা সুজয় বাবুর বোন। সুজয় বাবুর দেখাশোনা উনিই করেন। নিজের পরিচয় দিয়ে সুজয় বাবুর কথা জিজ্ঞেস করতে মহিলা কান্নায় ভেঙে পড়লেন। আমিতো মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলাম না। তারপর অতিকষ্টে বললেন আমার সিমলা যাওয়ার দিন তিনেকের মাথায় সুজয় বাবু একসাথে অনেকগুলো স্লিপিং পিল খেয়ে নেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ। শেষরক্ষা হয়নি আর। উনি যা বললেন তাতে আমার মনে হল পাগলের চিকিৎসা করতে করতে আমি নিজেই পাগল হয়ে গেলাম না তো?

- Advertisment -

জনপ্রিয়

সহজে ডাটা ট্রান্সফার করুন ৫ জিবি পর্যন্ত

ডাটা ট্রান্সফার আজকের দিনে একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছ। ফাইল ট্রান্সফার এর ওয়েবসাইট অনলাইন এ অনেক আছে, কিন্তু আপনি ব্যবহার করবেন কোনটি , কোনটি...

কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে সরস্বতী নাট্যশালা

২০২২ এর শুরুতেই নেতাজীনগর সরস্বতী নাট্যশালা জোর কদমে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে । গত এপ্রিল, মে, জুন পরপর তাদের চলতি নাটক মঞ্চস্থ করার...

দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে ফুচকা | ফুচকা প্রেমীদের মাথায় হাত

নেপালে আপাতত নিষিদ্ধ হচ্ছে ফুচকা। আজ সকালে এই ঘোষনা করা হয়েছে নেপাল সরকারের তরফ থেকে। সরকারের তরফ থেকে এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে না বলা...

‘আর কাউকে অভিশাপ দেবেন না প্লিজ’, KK-র মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ার রোষানলে গায়ক রূপঙ্কর বাগচি

৩০ ও ৩১ তারিখ দুটি শো এর জন্য কলকাতায় এসেছিলেন KK। কিন্তু KK এর আসার অনেক আগে থেকেই KK -র লাইভ পারফরমেন্স জন্য উদ্দীপনা...