Home জেলার খবর কীভাবে,কারা,কবে শেওড়াফুলি ও শ্রীরামপুর রাজবাড়িতে পুজো শুরু করলেন, জেনে নিন

কীভাবে,কারা,কবে শেওড়াফুলি ও শ্রীরামপুর রাজবাড়িতে পুজো শুরু করলেন, জেনে নিন

কীভাবে, কারা কবে শ্রীরামপুর রাজবাড়িতে পুজো শুরু করলেন, জেনে নিন

শেওড়াফুলি রাজের মাধ্যমেই গোস্বামী পরিবারের আগমন শ্রীরামপুরে। বাঁশবেড়িয়া রাজ-পরিবারের একটি শাখা
শেওড়াফুলি রাজপরিবার। শেওড়াফুলি রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা রাজা মনোহর চন্দ্র রায়ের পুত্র রাজা রাজচন্দ্র রায় ১৭৫২-৫৩ সাল নাগাদ শেওড়াফুলি সংলগ্ন শ্রীপুর গ্রামে শ্রীরামচন্দ্রের মন্দির নির্মাণ করেন। শ্রী রামচন্দ্র জীউর শ্রীপুর, গোপীনাথপুর এবং মোহনপুর এই তিন গ্রামকে সম্মিলিত করে এই স্থানটির নাম দেন শ্রীরামপুর। কেরি সাহেবের ছাপাখানার পাশাপাশি ড্যানিশ উপনিবেশ স্থাপন শ্রীরামপুরের উল্লেখযোগ্য কারণ।



১৭৫৫ সালে বাঙলার নবাব আলিবর্দী খাঁর শ্রীরামপুরে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন ও বসবাসের অনুমতি পেয়ে ড্যানিশ সম্রাট ষষ্ঠ ফ্রেডেরিকের নামে বদলে ফেলা হয় শ্রীরামপুরের নাম,নতুন নাম হয় ফ্রেডেরিকনগর। ১৮৪৫ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ড্যানিশরা থাকে তারপর ব্রিটিশদের দখলে চলে আসে শ্রীরামপুর।

ড্যানিশরা থাকাকালীন শ্রীরামপুর শহরে অনেক ল উন্নতি হয়েছিল। তারপরে যাদের কল্যাণে শ্রীরামপুর অনেক উন্নতি লাভ করেছে তারা হলেন শ্রীরামপুরের প্রাচীন জমিদার গোস্বামী পরিবার।



অষ্টাদশ শতকের চল্লিশের দশকে বাঙলার নবাব আলিবর্দী খাঁ এর সময়কালে
বর্ধমান জেলায় ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের পাটুলি গ্রামে
বাস করতেন লক্ষ্মণ চক্রবর্তী যিনি ছিলেন চৈতন্য দর্শনের বিখ্যাত শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত, তার সাথে নদীয়ার শান্তিপুরের গোস্বামী বংশীয় পণ্ডিত যিনি
শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদ শ্রী আচার্য অদ্বৈত গোস্বামীর বংশধর ভীম তর্কপঞ্চাননের কন্যার সাথে বিবাহ হয়। লক্ষ্মণ চক্রবর্তীর পুত্র রামগোবিন্দ মাতামহের কাছে বড় হয়ে ভাগবত শাস্ত্রে দীক্ষিত হন ও পরবর্তীতে ‘গোস্বামী’ পদবী গ্রহণ করেন।



রামগোবিন্দ গোস্বামী একসময় তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে নৌকায় কোলকাতায় যাচ্ছিলেন, সেই সময় নৌকা শ্রীরামপুরের কাছে যখন উপস্থিত তাঁর স্ত্রী প্রসব–বেদনা শুরু হয়। এরপর তার স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

সেই সময় শেওড়াফুলির রাজাদের অধীনে ছিল শ্রীরামপুর, আবার পাটুলির রাজাদের কাছারিবাড়ি ছিল শেওড়াফুলি, উদার মনস্ক শেওড়াফুলি রাজ পরমভাগবত শ্রী রামগোবিন্দ গোস্বামীর পুত্রসন্তান হওয়ার কথা শুনে মনোহর রায় ঐ সম্পত্তি রামগোবিন্দকে দিতে চাইলেও রামগোবিন্দ সেই দান কিছুতেই নিতে চায় না। এরপর একটি কড়ির দিয়ে স সেই সম্পত্তি কিনে নেন
রামগোবিন্দ গোস্বামী।



পাটুলির লক্ষ্মণ চক্রবর্তীর পরিবার শ্রীরামপুরে বসবাস শুরু করে।

রামগোবিন্দ গোস্বামীর দুই পুত্র রামগোপাল এবং রাধাকান্ত। রাধাকান্তর তৃতীয় পুত্র রামনারায়ণ, রামনারায়ণের পুত্র রাজীবলোচন বহু অর্থ প্রতিপত্তি লাভ করে।
রাধাকান্তর কনিষ্ঠ পুত্র হরিনারায়ণ, তার পুত্র রঘুরাম কলকাতার দু’বার ভাগ্যক্রমে বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে বেঁচে যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তেরো লক্ষ টাকার বিনিময়ে ড্যানিশদের থেকে শ্রীরামপুর কিনে নেয়।

বর্তমান সময়ে শ্রীরামপুরের গোস্বামী পরিবারের আর্থিক প্রতিপত্তির মূল ভিত্তি রঘুরাম গোস্বামী।

রঘুরাম গোস্বামীর পৌত্র কিশোরীলাল জমিদারীতে দক্ষ ছিলেন, তিনি ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি পান, পরবর্তীতে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন।



তিনি ‘রাজা’ উপাধি পাওয়ার পর তার নির্মিত প্রাসাদ পরিচিতি পায় ‘রাজবাড়ি’ নামে।

রাজা কিশোরীলাল গোস্বামীর
শ্রীরামপুর শহরের উন্নতিতে অনেক অবদান। এই পরিবারের সাহায্যেই গড়ে উঠেছিল চাতরা নন্দলাল ইন্সটিটিউশন, রমেশচন্দ্র গার্লস স্কুল, রাজেন্দ্রলাল ফ্রি বোর্ডিং ফর বয়েজ, অন্নপূর্ণাদেবী ফ্রি গার্লস বোর্ডিং, ভবেন্দ্রবালাদেবী যক্ষ্মা হাসপাতাল ইত্যাদি।

এছাড়াও জল সংকট থেকে মুক্তির জন্য গোপীকৃষ্ণ গোস্বামী ওভারহেড ট্যাঙ্ক তৈরী হয়েছিল। গোস্বামী পরিবারের দান করা জমিতে বর্তমান শ্রীরামপুর পৌরসভা ভবনটিও গড়ে উঠেছে, যা আগে কিশোরীলাল গোস্বামীর কাছারিবাড়ি ছিল।



গোস্বামীদের আদিবাড়ির কাছেই রঘুরাম গোস্বামী
একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন, সেই বাড়ি পরবর্তীকালে শ্রীরামপুর রাজবাড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে। রঘুরাম প্রাসাদ সংলগ্ন ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো শুরু হয় আনুমানিক ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। প্রতিবছর আয়োজন হয় ষোড়শোপচারে দুর্গাপুজোর । একচালার মা দূর্গার সাথে তার সন্তানরাও থাকে। প্রতিপদের দিনে গোস্বামীবাড়ির পুজো শুরু হয়। পুজো শুরু থেকে নবমী পর্যন্ত পরিবারের নিরামিষ খাবার খায় বাড়ির সকলে। দশমীর দিন পুজো শেষ হওয়ার পর বিবাহিত মহিলারা মাছ, ভাত খান। পুজোর চারদিন, আড্ডা, খাওয়া সঙ্গীতানুষ্ঠান সবই হয় ।



গোস্বামী বাড়ির দুর্গাপুজোয় সঙ্গীতানুষ্ঠানের একসময়ে গান গেয়েছেন অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী, ভোলা ময়রা, বাগবাজারের রূপচাঁদ পক্ষীর দল প্রমুখ।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

“ময়ূরপঙ্খীর” তরফ থেকে দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু উপহার প্রদান করা হলো

"ময়ূরপঙ্খী শিশু কিশোর সমাজ কল্যাণ সংস্থা" র পক্ষ থেকে এবং গ্লোবাল স্পা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, বয়স্ক, দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের...

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...