Home জেলার খবর হুগলী জেলার বিখ্যাত তারকেশ্বর মন্দির কিভাবে গড়ে উঠল জেনে নিন বিস্তারিত...

হুগলী জেলার বিখ্যাত তারকেশ্বর মন্দির কিভাবে গড়ে উঠল জেনে নিন বিস্তারিত…

তারকেশ্বরের পূজিত মহাদেব
ভীষণ জাগ্রত, মহাদেবের আগমন কিভাবে হল, তা বলতে গেলে ফিরে যেতে হয় বহু পূর্বে, প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতায়, যেখানে একটি সুঠাম পুরুষ মূর্তি পাওয়া গেছিল যা ছিল পশু দ্বারা আবৃত, যাকে ‘পশুপতি শিব’ বলে বলেছিলেন ঐতিহাসিক ব্যাসাম। যদিও এই নিয়ে মতপার্থক্য আছে।



সিন্ধু সভ্যতার উৎখননের সময় বিশাল পরিমান লিঙ্গ পাওয়ায় ধরা হয় অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল লিঙ্গের পুজা। অর্থবেদ, পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী, পতঞ্জলির মহাভাষ্যেও পাওয়া গেছিল শিবের নাম।
এছাড়াও বিভিন্ন বৌদ্ধ সাহিত্যেও শিবের নাম পাওয়া যায়। শিব নামটির উৎপত্তি রক্তবর্ণ যা তামিল শব্দ শিব্বপ্পু থেকে এসেছে। হিন্দুধর্মের মূল স্তম্ভ ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের মধ্যে প্রধান শিব। শিবের ১০৮ নামের মধ্যে অন্যতম হল – মহাদেব, শিব, শম্ভু, নটরাজ, পশুপতি, নীলকন্ঠ, চিন্তামণি, মহেশ্বর, সতীপতি, ত্রিপুরারি, তীর্থরাজ, যোগীশ্বর ইত্যাদি।



প্রসিদ্ধ হিন্দু তীর্থক্ষেত্র তারকেশ্বর, যেখানে রাজ্যের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দিরটি অবস্থিত।

এই মন্দির গড়ে ওঠার পেছনে কাহিনিটা হল অযোধ্যা থেকে বাবার এক ভক্ত বিষ্ণুদাস হুগলিতে এসে বসবাস শুরু করেন, তবে এলাকার লোকজন তাকে সন্দেহ করতেন, একঘরে করে রাখতেন, সকলের বিশ্বাস অর্জনে তাকে পরীক্ষা দিতে হয়, সকলের কথা মতো শক্ত লোহার দন্ড খালি হাতে ধরতে হয় তাকে, একাজ করতে গিয়ে ভীষণভাবে আহত হিন তিনি, তখন তিনি ইষ্ট দেবতা শিবের নাম যপ করেন, দিনকয়েক পর তার ভাই দেখেন প্রতিদিন গরুরা জঙ্গলের একটি স্থানে দুধ দিয়ে আসে, সেখানে গিয়ে দেখা যায় একটি পাথর আছে। ওই সময় বিষ্ণুপুর স্বপ্নাদেশে মাধ্যমে জানতে পারেন ওই স্থানে মহাদেবের মূর্তি আছে। পরবর্তীতে সেই স্থানে তারকেশ্বর মন্দির গড়ে ওঠে।



পাথর রুপে থাকা লিঙ্গটি সয়ম্ভু লিঙ্গ নামে পরিচিত, প্রতি মাসের রবিবার ও সোমবার ছাড়া শিবরাত্রি ও শ্রাবণ এবং চৈত্র মাসে বাবার ভক্তদের ভিড় দেখা যায় এই স্থানে। মন্দিরের সামনে থাকা দুধ পুকুরে স্নান করে শিবের মাথায় জল ঢাললে পূণ্য অর্জন হয়।
তারকেশ্বর যেতে হলে হাওড়া থেকে তারকেশ্বর স্টেশনে পৌঁছে দশ মিনিট হাঁটা পথে পৌঁছানো যাবে শিবের মন্দিরে। ধর্মাতলা থেকে বাসে অথবা গাড়িতেও যাওয়া যায় তারকেশ্বর।



নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে কুপন কেটে ভোগ প্রসাদ খাওয়া যায়, এছাড়া মন্দিরের বাইরেও অনেক খাবারের দোকান আছে, থাকার জন্য আছে বিভিন্ন লজ, গাড়ি পার্কিংয়ের
ব্যবস্থাও আছে।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

সরস্বতী নাট্যোৎসবের দ্বিতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে

করোনা প্রকোপ খানিক শান্ত হতে না হতেই এই শীতের মরসুমে নাট্যপিপাসু দর্শকদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হওয়া নাট্যোৎসবে...

“পাই” এর উৎসবে মাতলো কলকাতা। ২০ থেকে ২৬ শে জানুয়ারি পর্যন্ত চললো সেলিব্রেশন

কলকাতায় গল্ফগ্রীনে পুরো সপ্তাহ ধরে চললো "পাইয়ের উৎসব"। "দ্য পাই হাউসের" পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পাই ডে উপলক্ষে ২০ থেকে ২৬ শে জানুয়ারি সেলিব্রেট করা...

কলকাতা প্রেক্ষাপট এর নাট্য – পার্বণ

ভারতীয় সংকৃতির পীঠস্থান আমাদের এই বাংলা । নাট্যচর্চা বাংলার তথা ভারতীয় সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব ধারাকে বহন করে নিয়ে চলেছে প্রাচীনকাল থেকেই । বরাবরই বিভিন্ন...

সুযোগ পেলে আমিও স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করাবো” বললেন দিলীপ ঘোষ

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে এবার সামিল রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করেছেন দিলীপ ঘোষ ও তার পরিবার এমনই দাবি করলেন বীরভূম...