Home জেলার খবর তারকেশ্বরে অন্তর্গত হরিপালে জাগ্রত দেবী বিশালাক্ষী দেবী প্রতিষ্ঠা হল কিভাবে জেনে নিন...

তারকেশ্বরে অন্তর্গত হরিপালে জাগ্রত দেবী বিশালাক্ষী দেবী প্রতিষ্ঠা হল কিভাবে জেনে নিন…

বলদবাঁধের জাগ্রত দেবী বিশালাক্ষী দেবী প্রতিষ্ঠা হল কিভাবে জেনে নিন

প্রাচীন গ্রাম বলদবাঁধ যা পূর্বে
কৃষ্ণবল্লভপুর নামে পরিচিত ছিল, অবস্থিত হরিপাল থেকে মাত্র ৩কিমি দূরত্বে।

এই গ্রামের জাগ্রত দেবী বিশালাক্ষী। বিশালাক্ষী দেবীর পূজার জন্য বর্ধমান রাজ প্রতাপ চন্দ্র রায় দুই বিঘা পাঁচ কাঠা জমি দান করেছিলেন। পরবর্তীকালে শ্রীরামপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবার বলদবাঁধের জমিদারি লাভ করে। তবে শুধু মুখোপাধ্যায় পরিবারই নয়, কিছুটা অংশের মালিকানা ছিল পানিশেওলার সারদাচরণ মিত্রের পরিবারের কাছেও।
পুরোনো পর্চায় বলদবাঁধ মৌজায় পত্তনীদার হিসেবে নাম ছিল বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের।

গ্রামের নাম পরিবর্তন হওয়ার পেছনে এই গ্রামে এক নাটকীয় লৌকিককথা প্রচলিত আছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী জানা যায় একবার ডাকাতের একটি দল সোনাটিকরি গোয়ালপাড়া থেকে ১০৮টি গাভী ও ধানের বস্তা চুরি করে দক্ষিণের অরণ্যের দিকে চলে যান, ডাকাতদের চুরি করে প্রত্যেক গাভীর পৃষ্ঠে তারা তিনটি করে ধানের বস্তা রেখেছিল । সোনাটিকরির গোয়ালারা ধাওয়া করায় বাধ্য হয়ে গাভী নিয়ে নদী পার হয়ে ডাকাতরা কৃষ্ণবল্লভপুরের সাঁইবালা অরণ্যে প্রবেশ করে। সেখানে নদীর বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে বিজন অরণ্যে ডাকাতরা দেখতে পান প্রদীপের শিখা।

তখন ডাকাত সর্দার গলায় গামছা জড়িয়ে দেবীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তুমি যে দেবদেবী হও রক্ষা করো। ডাকাতের সর্দারের ডাকে সাড়া দেয় দেবী, দেবীর কৃপায় ভোরের আলোয় গোয়ালারা নদী পার হয়ে বাঁধের উপর এসে পৌঁছালে দেখতে পায় ডাকাতদের কাছে গাভী নেই, তাদের কাছে আছে বলদ। ফলে গোয়ালারা প্রমাণের করতে পারে না যে ডাকাতরা গাভী চুরি করেছে।

জানা গেছিল অরন্যে মৃৎনির্মিত বেদীর উপর সেই দীপশিখা প্রজ্জ্বলিত ছিল। অরণ্যের এক তান্ত্রিক সাধক দেবী বিশালাক্ষী পুজা করতেন ন হতেন। সেই স্থানে ডাকাত সর্দার কৃষ্ণবর্ণের শিলাখণ্ড অবয়বের দেবী বিশালক্ষীর একটি মৃৎ দেবালয় নির্মাণ করেন। বুদ্ধ পূর্ণিমা তিথিতে ছাগ বলি দিয়ে দেবীকে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দেবীর কৃপায় গাই গাভী বলদে রুপান্তরিত হওয়ায় কৃষ্ণবল্লভপুর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে হয় বলদবাঁধ।

ডাকাত দ্বারা পূজিতা দেবী বিশালাক্ষী পরবর্তীতে বলদবাঁধ গ্রমের দেবী হয়ে ওঠেন।

বর্ধমান রাজ প্রতাপচন্দ্র রায় ও মহারাজাধিরাজ মহতাবচাঁদ এর অর্থসাহায্যে দেবী বিশালাক্ষীর মন্দির এবং মূর্তি নির্মান হয়। মহতাবচাঁদ এই সময় প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। ঠিক তার পরপরই মুখোপাধ্যায় ও মিত্ররা লাভ করে বলদবাঁধের পত্তনী।

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মতিতে ফাটল ধরে যাওয়া মৃৎনির্মিত দেবী মূর্তি ভেঙে ফেলা হয়। ভবানী রায় ও অমর বন্দ্যোপাধ্যায়দেবীমূর্তি ভাঙেন। ফাটল ধরা মৃন্ময়ী মূর্তি ভেঙে সমাধিস্থ করার এক বছর বাদে দেবীর নবকলেবর নির্মিত হয়।

১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে দেবী সিংহরায়ের পুত্র দীপক সিংহরায়ের অর্থসাহায্যে বলদবাঁধে বিশালাক্ষীদেবীর নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

অভিজ্ঞান মুখোপাধ্যায় পরিচালিত পাঁচটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র চিত্রায়িত হচ্ছে কলকাতায়…

"ফ্যান্টাসম" নামের স্বল্পদৈর্ঘ্যর চলচ্চিত্রটি নীলাদ্রি শঙ্কর রায় প্রযোজনা করেছিলেন। পরবর্তীতে, পরিচালক অভিজ্ঞান মুখোপাধ্যায় বাকি চারটি ভিন্ন ভিন্ন গল্পকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে একটি ভিন্ন...

শ্যুটিং শুরু হলো ৮/১২- র, সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দিলেন সৌম্য ঋত…

৮/১২'র শুভ মহরত হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক অরুন রায়, প্রযোজক কান সিং সোধা, অভিনেতা কিঞ্জল নন্দ, রেমো, অর্ণ মুখোপাধ্যায়, অনুষ্কা চক্রবর্তী ছাড়াও...

টিম সোহম ও হাসি খুশি ক্লাবের পক্ষ থেকে এক অভিনব উদ্যোগ “অন্য ইলিশ ও চিংড়ি উৎসব”….

টিম সোহম ও হাসি খুশি ক্লাবের পক্ষ থেকে ২৫ শে জুলাই দুপুর ১২টায় আয়োজন করা হয়েছিল "অন্য ইলিশ ও চিংড়ি উৎসব". বরানগর, টেবিন রোড,...

এবার “চারেক্কে প্যাঁচ” নিয়ে হাজির পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত…

অবাক লাগছে না? হ্যাঁ সত্যি অবাক লাগার মতোই কথা. দম ফাটানো হাসির ছবি নিয়ে হাজির পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত. "এ.কে.Ray", "আনএথিক্যাল"- এর পর "চারেক্কে প্যাঁচ"...