Home সাক্ষাৎকার "বাস্তব জীবনে আমি একেবারেই রাধিকা" সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা দত্ত।

“বাস্তব জীবনে আমি একেবারেই রাধিকা” সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা দত্ত।

অভিনয় জগতের সকলের চেনা একটি মুখ। মিষ্টি looks এবং অভিনয়ের দূরদর্ষিতায় তার প্রতিটি চরিত্র কেড়ে নিয়েছে মানুষের মন, তা বড় পর্দায় হোক কিংবা ছোট পর্দায়। আজকের আমাদের আড্ডায় সকলের প্রিয় অভিনেত্রি স্বস্তিকার মুখোমুখি আমি রাজেশ

প্রশ্ন:  তোমার অভিনয় জগতে আসা কি ভাবে?

স্বস্তিকা: আমি অভিনয়ে আসার আগে কখনও ভাবিনি যে আমি অভিনয়ে আসবো। হঠ্যাৎ করেই সুযোগ আসায় না ভেবেই পা দিয়ে ফেলি, বলতে গেলে পা পরে যায়। কিন্তু এখন বুঝতে পারি যে না ভেবে করা অনেক কাজ ভেবে করা অনেক কিছুর থেকে অনেক সুন্দর হয়। আমার অভিনয় জগতে আসা রাজ দা’র(রাজ চক্রবর্তীর) হাত ধরে। অভিনয় শুরু করার আগে আমি যেহেতু মডেলিং করতাম সেহেতু মডেল হিসাবে আমি FFACE – এ পার্টিসিপেট করি তো সেখানেই আমাকে রাজদার চোখে পরে, তারপরই 2016 সালে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত “পারবো না আমি ছাড়তে তোকে” চলচিত্রের মধ্যে দিয়ে আমার অভিনয় জগতে আসা। আমার ক্ষেত্রে পুরো বেপারটাই যেন Ramp থেকে Roll Rolling Action এর মত। এরপর SVF ও Eskay Movie’s এর প্রোডাকশনে “অভিমান“, “হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা” তে অভিনয়। এরপর আমার ছোটপর্দা মানে সিরিয়ালে কাজ। তো এই ভাবেই আমার অভিনয় জগতে আসা।

প্রশ্ন: বড়ো পর্দায় যেমন বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছো, তেমনই টেলিভিশনেও তুমি একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তো ছোটপর্দায় না বড়োপর্দায় কোনটায় অভিনয় করতে বেশি পছন্দ করো?

স্বস্তিকা: ছোটপর্দা এবং বড়পর্দা দুই জায়গায় কাজ করার অভিজ্ঞতাটা ভিন্ন রকম। যেমন ধরো ছোটপর্দায় হাতে খুব অল্প সময় থাকে, সেই অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের অনেক কিছু তুলে ধরতে হয়। কিন্তু বড়োপর্দার ব্যাপারটা আবার অন্যরকম। একটা নির্দিষ্ট টাইম সিডিউল থাকে, কিন্তু হ্যাঁ বড়োপর্দায় কাজ করাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং, তবে ছোটোপর্দার মত শর্ট টাইম লিমিটটা থাকে না। কিন্তু আমি দুটো জায়গা থেকেই অনেক কিছু শিখেছি। তো আমার দুটো জায়গাতেই কাজ করতে ভীষণ ভালো লাগে।

প্রশ্ন: অভিনয় বাদে তুমি কি করতে ভালোবাসো? বা তোমার Hobbies কি?

স্বস্তিকা: সত্যি কথা বলতে আমার ছোটবেলা থেকেই নির্দিষ্ট কোনো hobbies নেই। আমার যখন যেটা করতে ভালোলাগে আমি সেটাই করি। তবে হ্যাঁ আমি গান শুনতে ভীষণ ভালোবাসি। এছাড়া আমি সিনেমা দেখতে, আর বই পড়তেও ভালোবাসি তবে বইপোকা নই। কিন্তু সবকিছুই সময় বিশেষে। হয়তো এক সপ্তাহ খুব সিনেমা দেখলাম আবার কোনো এক সপ্তাহ বই নিয়েই কেটে গেলো। এছাড়াও আমি কখনও কখনও ফাঁকা সময়ে মনে মনেই বিভিন্ন অবজেক্ট এর ট্যাগ লাইন বানাতে থাকি, এটা আমার hidden talent ও বলতে পারো 🤭।

প্রশ্ন: তোমার চলার পথের অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি কার বলে তুমি মনে করো?

স্বস্তিকা: আমার চলার পথের অনুপ্রেরণা সবসময়েই আমার বাবা, মা। শুধু চলার পথে বললে ভুল হবে আমার সবকিছুই আমার বাবা, মা। তারা আমার বাবা, মা কম আমার বন্ধুই বেশি। তাদের পেয়ে সত্যি আমি নিজেকে খুব lucky মনে করি।

ছোটবেলায় যেমন প্রত্যেকটা বাচ্চা তার বাবা, মায়ের হাত ধরে চলতে শেখে কিন্তু আমার ক্ষেত্রে আমার বাবা, মা কখনও আমার হাত ধরে চলতেন না, তারা সবসময় আমাকে একা চলতে বলতেন। তো আমি একদিন তাদের কাছে প্রশ্নও করি যে কেনো তোমরা এরকম করো? তখন বাবা আমায় বলেছিলেন “দেখি না তুমি কতদূর একা চলতে পারো, আমরা তো পেছনেই আছি, কখনও কোনো বিপদ এলে ঠিক হাত ধরে নেবো”। আসলে আমার বাবা মা সবসময় চাইতো যাতে আমি জীবনে একা পথ চলতে শিখি।
আর তাছাড়া অভিনয় জগতে প্রতিনিয়ত সবার থেকেই অনুপ্রেরণা পাই, প্রতিমুহূর্তেই সিনিয়র অভিনেতা, অভিনেত্রী, আমার সহ অভিনেতা বা অভিনেত্রী, ডিরেক্টর, D.O.P এনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখি।

প্রশ্ন: অভিনয় জগতে যদি না আসতে তাহলে তুমি কোন প্রফেশনে যেতে? এবং কেন?

স্বস্তিকা: যদি আমি অভিনয় না আসতাম তাহলে নয় গায়িকা হতাম, নয় এয়ারহোস্টেস, নয়তো ট্যাক্স কনসালট্যান্ট।
এয়ারহোস্টেস হতাম কারণ তাদের পার্সোনালিটিটা আমার ভীষণ ভালোলাগে। আর ট্যাক্স কনসালট্যান্ট বললাম কারন আমি একজন কমার্সের স্টুডেন্ট তো এই ডেবিট, ক্রেডিট ব্যাপারটা আমার খুব interesting লাগে।
আর গায়িকা আমি হতে পারবো না জানি, আমি মনে করি আমার গলা অতটাও ভালো নয় 😅 কিন্তু আমার একটা ইচ্ছা আছে, জীবনে একটা গান আমি রেকর্ডিং করতে চাই। তাতে যদি য আমার গান শুনে রেকর্ডার-এর কান দিয়ে ধোঁয়াও বেড়িয়ে যায় তাও আমি নিজের গলায় একটা গান রেকর্ডিং করবোই🙈

প্রশ্ন: তোমাকে আমরা সবসময় একটা দুষ্টু মিষ্টি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছি। বাস্তব জীবনে তুমি কেমন?

স্বস্তিকা: দুষ্টু মিষ্টি চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি সেগুলো হলো ‘ভজো গোবিন্দ‘র “ডালি” এবং ‘দুগ্গা দুগ্গা‘ এর “তারা” চরিত্রে। এই দুটি চরিত্রই প্রত্যেকটা মানুষের মন ছুঁয়ে গেছিলো। কিন্তু আমি বাস্তব জীবনে একেবারেই “রাধিকা“। সত্যি বলতে আমি রাধিকার মতই একটা চরিত্র খুঁজছিলাম। তাছাড়া আমি যে কোনো জিনিস খুব গভীর ভাবে অনুভব করি। তো এটা আমি রিয়েলাইজ করেছি প্রত্যেক বছর আমার জন্মদিনের পর আমার ম্যাচুইরিটি লেভেল অনেকটাই increase হয়। রাধিকা চরিত্রটাও একটা mature চরিত্র। তাই সম্পূর্ণ ভাবে না হলেও স্বস্তিকার সাথে রাধিকার মিল আছে।

প্রশ্ন: আগামী 2 বছর পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাও?

স্বস্তিকা: আগামী 2 বছর পর আমি নিজেকে একটু কম পাগলী হিসাবে দেখতে চাই 🤪। আর আমি প্রচন্ড ইমোশনাল একজন মানুষ, তো নিজেকে একটু কম emotional person হিসেবে দেখতে চাই। অবশ্যই একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে চাই নিজেকে।

প্রশ্ন: এখন টলিউডের ভীষণ পরিচিত একটি মুখ তুমি, প্রচুর ফ্যান ফলোয়ার, সেই দিক থেকে সাধারণ জীবন যাপনটা কতটা মিস করো?

স্বস্তিকা: সত্যি বলতে অসাধারণ জীবন যাপন আমি কোনোদিনই চাই নি। আমি সাধারণ জীবনযাপনই পছন্দ করি। তাছাড়া আমি কখোনোই দরকার ছাড়া অযথা রাস্তায় বেড়োনো, ঘুরতে যাওয়া এসব একদমই পছন্দ করি না। তাই আমার কাছে খুব একটা নতুনত্ব কিছু মনে হয় না। কিন্তু আমার একটা কথা মনে হয় মানুষ স্বস্তিকাকে যতটা ভালোবাসেন তারসাথে স্বস্থিকার অভিনয় করা চরিত্র গুলোকেও অনেক বেশি ভালোবাসেন।

প্রশ্ন: কি করে বলবো তোমায়” এখন জি বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সিরিয়াল হয়ে উঠেছে, সেখানে রাধিকা কর্ণের জুটি এখন হিট, এই ব্যাপারে যদি তুমি কিছু বলো?

স্বস্তিকা: আমি বলবো রাধিকা কর্ণ প্রত্যেকটা বাড়ির মধ্যে রয়েছে। সেটা বাবা – মা, দাদা – বৌদি, কাকা- কাকিমা প্রত্যেকের মধ্যে। আসলে রাধিকা কর্ণ ঠিক ভালোবাসা নয়, ভালোবাসায় পরার আগের যে মুহূর্ত গুলো হয় সেটা। শুধু I Love You বলে দিলেই যে ভালোবাসা হয়ে যায় সেটা নয়, I Love You বলার আগেও যে অগাত ভালোবাসা থাকে সেটার নামই হলো রাধিকা কর্ণ।

সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে স্বস্তিকা কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। তোমার ও তোমার পরিবারের সকলে ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করিI

স্বস্তিকার ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://www.facebook.com/IamSastikaDuttaOfficial/

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

এই টেলিফোনিক ইন্টারভিউ টির লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে: Susmita Sen

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...