Home সাক্ষাৎকার "জীবনযুদ্ধে হারতে শেখাটাও খুব জরুরি, নাহলে জেতার আনন্দটা উপভোগ করা যায় না"...

“জীবনযুদ্ধে হারতে শেখাটাও খুব জরুরি, নাহলে জেতার আনন্দটা উপভোগ করা যায় না” সাক্ষ্যাৎকারে রেমো…

থিয়েটার থেকে জার্নি শুরু. অভিনেতা হয়ে উঠতে সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেক বাধা বিপত্তির. তবুও হার না মেনে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলেছে সে। একজন জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে ৮/১২ বিনয় বাদল দীনেশ ছবিতে বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত-র চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে তাকে. আজ সেই মানুষটি অর্থাৎ রেমোর সাথে আড্ডায় আমি রাজেশ

প্রশ্ন: প্রফেশন হিসেবে অভিনয় কে বেছে নেওয়া কিভাবে?

রেমো: ছোটো থেকেই স্কুল, কলেজ, পাড়ার বিভিন্ন নাট্য অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতাম। বেশ ভালো লাগতো। তারপর যখন গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করলাম তখন থেকে অভিনয় টাকে আরো ভালোবাসতে শুরু করলাম। তখন থেকেই মনে একটা ভাবনা এলো, ভাবলাম প্যাশন টাকে প্রফেশন বানালেই বা ক্ষতি কি? এই ভাবেই অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া.

 

প্রশ্ন: অভিনয় জগতে আসা কিভাবে?

রেমো: আমার জার্নিটা শুরু হয় ২০১৫ সালে। তখন আমি থিয়েটার করতাম। মায়ের সাথে একদিন ভারত লক্ষ্মী স্টুডিও থেকে বেড়িয়ে প্রচন্ড খিদে পেয়েছিল, তো ভারত লক্ষ্মী স্টুডিও এর সামনেই একটা ক্যাফে আছে, সেখানে আমি আর আমার মা খেতে যাই, আর অদ্ভুত ভাবেই সেখানে কিছু জন একটা ছবি নিয়ে আলোচনা করছিল, আর আমার কানটা ওই দিকেই ছিল আরকি😎
ওনারা যখন উঠে যাচ্ছিল তখন আমি সাহস করে ওনাদের বলি “আপনাদের কথা গুলো আমি শুনছিলাম, আমিও অভিনয় করি, আপনাদের যদি কোনো অডিশন হয় তো আমাকে বলতে পারেন। তখন ওনারা আমাকে একটা ঠিকানা দেন এবং বলেন পরের দিন ওই ঠিকানায় আসতে। পরের দিন যখন ওখানে যাই ওনারা আমাকে বলেন “তুমি সিলেক্টেড, তোমার মতই একজনকে খুঁজছিলাম আমরা”। তারপর সেই দিনই আমার লুক সেট হয় এবং আমি আমার প্রথম ছবি করি যার নাম “বক্সার”।

প্রশ্ন: বক্সার থেকে শুরু করে ৮/১২, তোমার জার্নিটা কেমন ছিল?

রেমো: বক্সারের পরেও আরেকটা ছবি করি “চৌধুরী রাজবাড়ী“। এরপর সাহানা দির সাহায্যে “দুপুর ঠাকুরপো” সিরিজে একটা ছোটো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাই এবং আমার অভিনয় সকলের ভালো লাগায় দুপুর ঠাকুরপো সিজন ২ তে আমায় একটা বড়ো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে আমার প্রিয় অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের সাথে কাজ করি।

তারপর, সেঞ্চুরি প্লাইউডের একটা অ্যাড করি যেটা খুব হিট করেছিল। তার আগে ২০১৬ তে আমি বোম্বে চলে যাই সেখানে মহেশ ভাটের সাথে কাজ করার সুযোগ পাই এবং কোলকাতায় প্রকাশ ঝাঁ এর সাথে কাজ করি, রেড চিলিস এ KKR এর সাথে একটা অ্যাড করি। বিভু পুরীর সাথেও কাজ করেছি। তারপর জী বাংলার “নেতাজী” মেগা সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ পাই। তারপর zee 5 এ “Judgment Day“, “লালবাজার” সিরিজে কাজ করি। এখন “Inside Job” এর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে, এবং ৮/১২ তে দীনেশ গুপ্তের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি এটাই আমার কাছে একটা অনেক বড়ো পাওয়া. তো এটাই বলতে পারো এটাই আমার ছোটো একটা জার্নি, এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি।

প্রশ্ন: এই চলার পথে বাধা বিপত্তি তো প্রচুর এসেছে, সেই বাধা বিপত্তির সম্মুখীন কি ভাবে করেছো?

রেমো: হুম, সত্যি প্রচুর বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। যেহেতু আমি নতুন মুখ, পরিচিত মুখ নই সেই কারণে এখনো পর্যন্ত অনেক প্রজেক্ট থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আবার এমন অনেক প্রজেক্ট আছে যেগুলো হবে বলেও হয় নি। তারপর অনেকবার নেপোটিজম-র ও সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু এই nepotism এর অজুহাত আমি দিতে চাই না। আর বাধা বিপত্তি আসতেই থাকবে আমাদের সঠিক পথে অগ্রসর হতে হবে সেটা যতই কঠিন হোক পিছু পা হলে চলবে না, আমি এটা মনে করেই এগিয়ে চলেছি।

প্রশ্ন: অভিনয় ছাড়া আর কি কি করতে ভালোলাগে?

রেমো: অভিনয় ছাড়া ছবি আঁকতে করতে ভালোবাসি, ফুটবল খেলি, মোহন বাগানের হয়েও ফুটবল খেলেছি। গল্প লিখতেও ভালো লাগে, এই লকডাউনে বসে বসে গল্পও লিখেছি বেশ কিছু। ডিরেকশন দেবার ইচ্ছা আছে তবে এখন না, আরো কিছু বছর পর একটু শিখে পড়ে নিজেকে ঝালিয়ে নি তারপর।

প্রশ্ন: ৮/১২ এটা তো তোমার জীবনের একটা বড়ো কাজ তো কেমন লাগছে বা অভিজ্ঞতা কেমন?

রেমো: প্রথম কথা এখনো পর্যন্ত কোনো কাজকেই আমি ছোটো বা বড়ো ভেবে করি নি। সব কাজই আমার কাছে একটা বড়ো পাওয়া। হ্যাঁ, তবে বাংলার মহান এই তিন বীরকে নিয়ে প্রথমবার কাজ হচ্ছে এবং তার মধ্যে বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত-র চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাওয়া সত্যি সৌভাগ্যের ব্যাপার এবং ধন্যবাদ জানাই KSS এবং কান সিং সোধা স্যার ও অরুণ বাবুকে ওনারা আমার ওপর এতটা বিশ্বাস রেখেছেন তার জন্য. তাছাড়া অর্ন দা, কিঞ্জল দা, অরুন বাবুর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাই আলাদা। প্রতিনিয়তই আমি এনাদের থেকে অনেক কিছু শিখে চলেছি।

প্রশ্ন: এবারে তোমার পুজোর প্ল্যান কি?

রেমো: পুজোর প্ল্যান বলতে সেরকম কিছু নেই. কারণ আমি ভিড় ভাট্টা বেশি পছন্দ করি না, তাই ঠিক করেছি ৭দিনে ৭টা সিনেমা দেখবো আর অবশ্যই সেটা সিনেমা হলে গিয়ে. আর রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাওয়া দাওয়া তো আছেই. আর বর্তমান পরিস্তিতির কারণে কোভিড বিধি মেনেই পুজোটা কাটাতে চাইছি.

সবশেষে আমাদের এবিও পত্রিকা-র পক্ষ থেকে রেমো কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য। আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইলো। তুমি ও তোমার পরিবার ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করি

- Advertisment -

জনপ্রিয়

সহজে ডাটা ট্রান্সফার করুন ৫ জিবি পর্যন্ত

ডাটা ট্রান্সফার আজকের দিনে একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছ। ফাইল ট্রান্সফার এর ওয়েবসাইট অনলাইন এ অনেক আছে, কিন্তু আপনি ব্যবহার করবেন কোনটি , কোনটি...

কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে সরস্বতী নাট্যশালা

২০২২ এর শুরুতেই নেতাজীনগর সরস্বতী নাট্যশালা জোর কদমে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে । গত এপ্রিল, মে, জুন পরপর তাদের চলতি নাটক মঞ্চস্থ করার...

দেশে নিষিদ্ধ হচ্ছে ফুচকা | ফুচকা প্রেমীদের মাথায় হাত

নেপালে আপাতত নিষিদ্ধ হচ্ছে ফুচকা। আজ সকালে এই ঘোষনা করা হয়েছে নেপাল সরকারের তরফ থেকে। সরকারের তরফ থেকে এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে না বলা...

‘আর কাউকে অভিশাপ দেবেন না প্লিজ’, KK-র মৃত্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ার রোষানলে গায়ক রূপঙ্কর বাগচি

৩০ ও ৩১ তারিখ দুটি শো এর জন্য কলকাতায় এসেছিলেন KK। কিন্তু KK এর আসার অনেক আগে থেকেই KK -র লাইভ পারফরমেন্স জন্য উদ্দীপনা...