Home সাক্ষাৎকার "জীবন মানেই সংগ্রাম" হাজার সমালোনার ঝড় আর মানুষের ভালোবাসা। সাক্ষাৎকারে হিরো আলম

“জীবন মানেই সংগ্রাম” হাজার সমালোনার ঝড় আর মানুষের ভালোবাসা। সাক্ষাৎকারে হিরো আলম

অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে হাজার সমালোচনার ঝড় আর মানুষের অফুরাণ ভালোবাসা এই নিয়েই নিজের প্রতিভাকে বার বার মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি। বিপদে যিনি সব সময় দাঁড়িয়েছেন মানুষের পাশে। আজকের আমাদের আড্ডায় বাংলাদেশ ও ভারতের সেই বিখ্যাত অভিনেতা হিরো আলম এর মুখোমুখি আমি রাজেশ

প্রশ্ন: বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে হিরো আলমের গল্পটা ভিন্ন। হিরো আলম এখনও খুব সাধারণ। অনন্ত জলিলের সিনেমা থেকে বাদ পরার কোনো আক্ষেপ আছে?

হিরো আলম: আসসালামু আলাইকুম। আমার সকল দর্শক যারা আমাকে ভালোবাসে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং তাদের এই ভালোবাসার জন্যই হিরো আলম আছে। তাই আমাকে ইন্ডাস্ট্রি থেকে বা অনন্ত জলিলের ছবি থেকে বাদ দেওয়া হলে আমার কোনো আক্ষেপ, বা দুঃখ কোনো কিছুই হয় নি, কারণ তারা বড়োলোক,তারা কাউকে নিতেও পারে, আবার কাউকে বাদ দিতেও পারে, যেহেতু তিনি ডিরেক্টর, প্রোডিউসার সব। তার হয়তো আমাকে ভালো লাগে নি তাই তিনি বাদ দিয়েছেন। আর ওই যে বললাম তারা বড়োলোক, তারা গরিবকে ভালবাসতে পারে না, তারা স্বপ্ন দেখাতে পারে মানুষকে, কিন্তু স্বপ্ন পূরণ করার মত ক্ষমতা তাদের নেই।

প্রশ্ন: হিরো আলম কি নিজেই সিনেমা বানানোর যোগ্যতা রাখে? এই ব্যাপারে কি বলবেন?

হিরো আলম: হ্যাঁ অবশ্যই হিরো আলম নিজে সিনেমা বানানোর যোগ্যতা রাখে, আমি নিজে একজন প্রযোজক ও। সবাই জানে আমার প্রথম প্রযোজনায় মুক্তি পেতে চলেছে “সাহসী হিরো আলম“। এই সিনেমাটা করার জন্য আমার পরিচিতি আরো বাড়বে। ঈদের মধ্যে যদি হল খোলা থাকে তাহলে সিনেমাটা রিলিজ করবো। আর অবশ্যই আমি বছরে দুটো না হলেও একটা করে সিনেমা নিজের প্রযোজনায় অবশ্যই বানাবো। দোয়া রাখবেন সবাই।

প্রশ্ন: আপনার জীবনের অনুপ্রেরণা আপনি নিজেই, যারা ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে চায়, তাদের কাছে আপনার পরামর্শ কি?

হিরো আলম: হ্যাঁ আমি মনেকরি আমার অনুপ্রেরণা আমি নিজেই। এই যে আজ আপনারা ইন্ডিয়া থেকে আমার সঙ্গে কথা বলছেন এই সব কিছুই নিজের যোগ্যতায়, নিজের হিম্মতে আর আপনাদের ভালোবাসার জন্যই। আর যারা নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে চান তাদের একটা কথাই বলতে চাই “কে কি বললো, না বললো সেই সব কথায় কান দিলে চলবে না, মানুষ শুধু বলতেই পারে, স্বপ্ন সবাই দেখাবে, কিন্তু সেটা বাস্তব করতে কেউ সাহাজ্য করবে না, স্বপ্নকে বাস্তব নিজেকেই করতে হবে”। তাই আপনাদের সকলকে একটাই কথা বলবো “নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, নিজের প্রতিভা কে সকলের কাছে তুলে ধরুন, কে কি বললো সেই কথা ভুলে যান, দেখবেন আপনিও একদিন এগিয়ে আসতে পারবেন”।

প্রশ্ন: আপনি আপনার জীবনের কঠিন পরিস্থিতি গুলোয় নিজেকে কিভাবে সামলান?

হিরো আলম: দেখুন আমি এই কথা মানি যে “জীবন মানেই সংগ্রাম“। জীবনে অনেক কঠিন পরিস্থিতি আসবে কিন্তু যে এই কঠিন পরিস্থিতি গুলোয় নিজেকে সামলে উঠতে পারবে, সেই প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে পারবে। আর আমার কথা বলতে গেলে আমার জীবনে প্রথম থেকেই ঝড়, তুফান সব কিছু সামলে এই জায়গায় আসা। আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসা থেকেই একটা সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছিল এখনও বয়। আল্লাহ আমাকে শক্তি দিয়েছে সব কিছু সামলাবার, তার দোয়াতেই লড়াই করে এগিয়ে চলেছি, আর মানুষের ভালোবাসা সবসময় আমার সঙ্গে আছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের মতই ইন্ডিয়াতেও আপনার ফ্যানের সংখ্যা বিপুল। তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন।

হিরো আলম: ইনসা আল্লাহ! আমি সবাইকে অনেক ধন্যবাদ দিতে চাই। ইন্ডিয়াতে আমার অনেক ফ্যান আছেন যারা আমাকে ভালোবাসেন, তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। আমি দেশ বিদেশে সকলের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমি কোনো দিন ভাবতেও পারিনি এত মানুষের ভালোবাসা পাবো। কিন্তু আপনারা আমাকে সেই ভালোবাসা দিয়েছেন। আমি একজন সাধারণ মানুষ, তাই সাধারন মানুষের পাশে সব সময় থাকতে চাই। দোয়া রাখবেন।

সবশেষে এবিও পত্রিকার পক্ষ থেকে হিরো আলম কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। আপনি ও আপনার পরিবার সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এবং সুরক্ষিত থাকুন এই কামনাই করি।

হিরো আলমের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://m.facebook.com/121300338307531

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

এই টেলিফোনিক ইন্টারভিউ টির লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে: Susmita Sen

বিশেষ ধন্যবাদ- অর্ক রায় সেতু (বিশিষ্ট সাংবাদিক, বাংলাদেশ)

- Advertisment -

জনপ্রিয়

সরস্বতী নাট্যোৎসবের দ্বিতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোকনগরে

করোনা প্রকোপ খানিক শান্ত হতে না হতেই এই শীতের মরসুমে নাট্যপিপাসু দর্শকদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত হওয়া নাট্যোৎসবে...

“পাই” এর উৎসবে মাতলো কলকাতা। ২০ থেকে ২৬ শে জানুয়ারি পর্যন্ত চললো সেলিব্রেশন

কলকাতায় গল্ফগ্রীনে পুরো সপ্তাহ ধরে চললো "পাইয়ের উৎসব"। "দ্য পাই হাউসের" পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক পাই ডে উপলক্ষে ২০ থেকে ২৬ শে জানুয়ারি সেলিব্রেট করা...

কলকাতা প্রেক্ষাপট এর নাট্য – পার্বণ

ভারতীয় সংকৃতির পীঠস্থান আমাদের এই বাংলা । নাট্যচর্চা বাংলার তথা ভারতীয় সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব ধারাকে বহন করে নিয়ে চলেছে প্রাচীনকাল থেকেই । বরাবরই বিভিন্ন...

সুযোগ পেলে আমিও স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করাবো” বললেন দিলীপ ঘোষ

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে এবার সামিল রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করেছেন দিলীপ ঘোষ ও তার পরিবার এমনই দাবি করলেন বীরভূম...