Home সাক্ষাৎকার "অনেক কঠিন মুহূর্ত হাসি মুখে সামাল দিতে শিখেছি" সাক্ষাৎকারে অস্মিতা...

“অনেক কঠিন মুহূর্ত হাসি মুখে সামাল দিতে শিখেছি” সাক্ষাৎকারে অস্মিতা…

ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে মায়ের অনুপ্রেরণায় বড়ো হয়ে ওঠা। জীবনে অনেক কঠিন পরিস্তিতিকে হাসি মুখে সামাল দিয়ে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলা একটি মেয়ে, যার অভিনয় সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছে। আজ সে প্রতিটা ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছে। আজ আমাদের সাথে আড্ডায় সেই চঞ্চল, প্রাণবন্ত মেয়ে অস্মিতার মুখোমুখি আমি সুস্মিতা।।




প্রশ্ন: তোমার অভিনয় জগতে আসা কি ভাবে?

অস্মিতা: আমার অভিনয় জগতে আসা হঠাৎ করেই। আগে আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় অ্যাপ ছিল টিকটক। তো আমি সেই অ্যাপ- এ প্রতিনিয়ত ভিডিও করতাম এবং আপলোড করতাম। সেই ভিডিও দেখেই একটা চ্যানেল থেকে আমাকে মেসেজ করে জিজ্ঞাসা করে “আমি অভিনয় করতে ইচ্ছুক কিনা? যদি ইচ্ছুক থাকি তাহলে যেনো তাদের সাথে যোগাযোগ করি”। তখন আমি সেই চ্যানেলের সাথে যোগাযোগ করি। আর সেই চ্যানেলের সাথেই আমার প্রথম কাজ “মঙ্গল চণ্ডী“। এই ভাবেই আমার প্রথম অভিনয় জগতে আসা।

প্রশ্ন: “সফলতার রাস্তা কখনোই সহজ হয় না” এই কথাটা কি তুমি বিশ্বাস করো? যদি বিশ্বাস করো তাহলে তোমার সফলতার রাস্তাটা কি সহজ ছিল নাকি কঠিন?

অস্মিতা: এটা একদম সত্যি কথা যে, সফলতার রাস্তা কখনোই সহজ হয় না, এই কথাটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। সেক্ষেত্রে আমার সফলতার রাস্তা খুব কঠিন না হলেও কঠিন তো ছিলই।আমার মনে আছে 2018 তে আমি প্রথম অডিশন দি। যেহেতু প্রথম অডিশন দিচ্ছিলাম তাই অভিনয় সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। যারফলে যখন স্ক্রিপ্ট হাতে পেয়ে ডায়লগ বলতে শুরু করি, তখন এত নার্ভাস হয়ে পরি যে, ফাম্বল করে যাই। কিন্তু একটা ভালো ব্যাপার হলো হয়তো আমি সিলেক্ট হই নি কিন্তু অনেক কিছু শিখেছি। পরের বার যখন “মঙ্গল চণ্ডীর” অডিশনে যাই তখন প্রথম দিকে এক দুবার একটু নার্ভাস হয়েছিলাম কিন্তু তারপর অডিশন দি এবং সিলেক্টও হই। কিন্তু সিলেক্ট হবার পরেও আবার রিজেক্ট করা হয়, 2 মাস এরকম চলার পর ফাইনালি মঙ্গল চণ্ডীতে অভিনয় করার সুযোগ পাই। আর এখনতো “ভাগ্যলক্ষ্মী” তে রিয়ার চরিত্রে অভিনয় করছি। “ভাগ্যলক্ষ্মী” খুব সহজেই পেয়েছি, অনলাইন অডিশন দিয়েছি, আর আমার সাথে ক্যারেক্টারটা ম্যাচ করে যায়। যার জন্য সিলেক্ট হয়ে যাই। তো হ্যাঁ বেশ কিছু কঠিন পরিস্তিতির সম্মুখীন আমায়ও হতে হয়েছে।

প্রশ্ন: অভিনয় বাদে অবসর সময় কি করতে ভালোবাসো বা তোমার Hobbies কি?

অস্মিতা: আমি খুব কথা বলতে ভালোবাসি। আর এমন মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোলাগে যারা আমার খুব কাছের। যারা আমার শুভাকাঙ্খী, আমাকে যারা গাইড করে, যাদের থেকে আমি অভিনয় সম্পর্কে অনেক কিছু শিখতে পারি বা জানতে পারি। কারণ, সবে তো আমার পথ চলা শুরু এখনো অনেক কিছু জানার, অনেক কিছু শেখার বাকি আছে। এছাড়া ওয়েব সিরিজ দেখি, গান শুনতে ভালোবাসি তাই প্রচুর গান শুনি। তো এই ভাবেই অবসর সময় কেটে যায়।



প্রশ্ন: তোমার চলার পথের অনুপ্রেরণা কার কাছ থেকে পাওয়া?

অস্মিতা: আমার চলার পথে অনুপ্রেরণা অবশ্যই আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া। কারণ আমি খুবই অল্প বয়সে আমার বাবাকে হারিয়েছি (তখন আমার ১ মাস বয়স), তো বাবার সান্নিধ্য আমি পাইনি বললেই চলে। আমি আমার মাকে দেখেছি কঠিন থেকে কঠিনতম পরিস্থিতি কি ভাবে হাসি মুখে সামাল দিতে হয়। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে আমার মা আমাকে বড়ো করে তুলেছে। আমি যখন এই প্রফেশনে আসি তখন অনেকে সেটা ভালো চোখে নেয়নি। আসলে অভিনয় জগত সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম মতামত থাকে। কিন্তু মা আমাকে সবসময় সাপোর্ট করেছে। আমি যা করতে চেয়েছি প্রতিটা পদক্ষেপে আমি মাকে পাশে পেয়েছি। আমি গর্ব করে বলতে পারি আমি আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি, যতটুকু সফলতা অর্জন করতে পেরেছি পুরোটাই মায়ের জন্য, মা যদি সাপোর্ট না করতো হয়তো আমি এইটুকুও করতে পারতাম না।

প্রশ্ন: এখন তোমাকে দর্শক স্টার জলসায় ভাগ্যলক্ষ্মী তে অভিনয় করতে দেখছে। সেই ব্যাপারে কিছু বলো

অস্মিতা: “ভাগ্যলক্ষ্মী” তে অভিনয় করতে পেরে আমার ভীষণ ভালোলাগছে। আসলে চরিত্রটা অনেকটা ইমোশন দিয়ে তৈরি। চরিত্রটার মধ্যে অনেক টুইস্ট আছে, সেটা যত সময় এগোবে তত আপনাদের সামনে আসবে। আর ভাগ্যলক্ষ্মী তে দর্শক যে শুধুমাত্র রিয়াকে দেখছে তা নয়, তারা রিয়াকে প্রচুর ভালোবাসা দিচ্ছে। এই ভাবেই আপনারা আমাকে ভালোবেসে যাবেন, আপনাদের ভালোবাসা আমাদের একান্ত কাম্য।



প্রশ্ন: রিয়ার সাথে কি অস্মিতার কোনো মিল আছে?

অস্মিতা: হ্যাঁ, রিয়ার সাথে অস্মিতার পুরোই মিল আছে বলতে পারো। কারণ অস্মিতা যেমন ইম্মাচিওর, হাসিখুশি একটা মেয়ে তেমনই বিয়াও প্রানবন্ত, মিশুখে, হাসিখুশি একটা মেয়ে, তাই এটা বলতে পারি আমার ক্যারেক্টারের সাথে রিয়ার চরিত্রের কোনো ডিফারেন্স নেই। একটা মজার ঘটনা বলি, আমি যখন রিয়া চরিত্রটার জন্য প্রোডাকশন হাউসে যাই তখন যিনি creative হেড আছেন তিনি আমাকে বলেন “আমরা তো তোকেই খুঁজছিলাম, কি করে তোর সাথে এত মিল“। তো আমার কাছে এটা একটা বড়ো কমপ্লিমেন্ট বলতে পারেন।

প্রশ্ন: তোমরা খারাপ সময় গুলোয় তুমি নিজেকে কি ভাবে Motivate করো?

অস্মিতা: আমার কঠিন পরিস্তিতি গুলোয় আমি আমার মাকে দেখে motivate হই। আর আমি সব কথা মায়ের সাথে সেয়ার করি, এবং সেই সময় মা যে এডভাইস গুলো দেয় সেগুলো মাথায় রেখে চলার চেষ্টা করি। মায়ের মত মাথা ঠাণ্ডা রেখে সব কিছু ম্যানেজ করার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন: সবশেষে তুমি তোমার ফ্যান বা দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চাও

অস্মিতা: আমার দর্শকদের উদ্দেশ্যে আমি একটাই কথা বলতে চাই তোমরা প্রথম থেকে যে ভাবে রিয়া বা অস্মিতা কে সাপোর্ট করেছো, ভালবেসেছো সেই ভাবেই সাপোর্ট করো। ভাগ্যলক্ষ্মীর পুরো ইউনিটকে সাপোর্ট করো, তোমাদের সাপোর্ট আমাদের কাছে সবকিছু। তোমাদের ভালোবাসা ছাড়া অস্মিতা রিয়া হয়ে সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যেতে পারতো না। আর অস্মিতা তোমাদের কাছে খুবই কৃতজ্ঞ, অনেক ভালোবাসা তোমাদের জন্য। আমি আমার 100% দিয়ে চেষ্টা করবো তোমাদের মন রাখার তার জন্য তোমাদের “ভাগ্যলক্ষ্মী” দেখতে হবে রোজ রাত 9 টায় স্টার জলসায়। সবাই ভালো থেকো সুস্থ থেকো।



সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে অস্মিতা কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। তুমি ও তোমার পরিবারের সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এবং সুরক্ষিত থাকুন এই কামনাই করিI

অস্মিতার ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://www.facebook.com/Ashmita-Chakraborty-566552887138479/

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

Concept: Rajesh Paul

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মুক্তি পেলো “KSS PRODUCTION & ENTERTAINMENT”এর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “দোয়া”(Dua)

প্রযোজক হিসেবে কান সিং সোধা বরাবরই নতুন প্রতিভাদের উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। কান সিং সোধা ও KSS PRODUCTION & ENTERTAINMENT"...

“ময়ূরপঙ্খীর” তরফ থেকে দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু উপহার প্রদান করা হলো

"ময়ূরপঙ্খী শিশু কিশোর সমাজ কল্যাণ সংস্থা" র পক্ষ থেকে এবং গ্লোবাল স্পা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, বয়স্ক, দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের...

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...