Home সাক্ষাৎকার "চেষ্টা করে গেছি দর্শকের সামনে নিজের সেরা অভিনয়টা তুলে ধরার"| সাক্ষাৎকারে অঙ্গনা...

“চেষ্টা করে গেছি দর্শকের সামনে নিজের সেরা অভিনয়টা তুলে ধরার”| সাক্ষাৎকারে অঙ্গনা রায়

মাত্র চার বছর বয়েসেই প্রথম পা রেখেছিলো বড় পর্দায়। তারপর যদিও পড়াশোনার চাপে বহুদিন তাকে দূরে থাকতে হয়েছিলো অভিনয় জগত থেকে। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি অনুরাগ তার হারায়নি কখনোই। প্রায় ১৬ বছর পর তাকে আবার ফিরে পাওয়া যায় হইচই (hoichoi)-এর পর পর চারটে ওয়েব সিরিজে (Sei je Holud Pakhi, Paap, Chupkatha ii, Tansener Tanpura)। যার প্রত্যেকটিতেই তার অভিনয় মন কেড়েছে মানুষের। আজকের আমাদের আড্ডায় আমরা পেয়ে গেছি সেই জনপ্রিয় অভিনেত্রি অঙ্গনা রায় কে।

প্রশ্ন: ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অভিনয় দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি পথ। তো ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অভিনয়ে আসা কিভাবে?

অঙ্গনা: সত্যি কথা বলতে আমি ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে অভিনয়ে নয়। বলতে পারো অভিনয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এসেছি 🤭। আমার যখন চার বছর বয়েস ছিলো তখন আমি প্রথম বড়ো পর্দায় অভিনয় করি তরুন মজুমদার পরিচালিত ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত অভিনীত ছবি “আলো (aalo)“-তে। সেখানে ছোট্ট আলোর ভূমিকায় একটা ছোট্ট পার্ট-এ আমি অভিনয় করি।
আমি ছোট থেকেই বাংলা এবং হিন্দি সিনেমা খুব দেখতাম আর খেলার ছলে সারাদিন আয়নার সামনে সেজেগুজে অভিনয় করতাম আপন মনে। ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সাথে সাথে পড়াশোনার চাপ বাড়তে থাকে। ক্লাস নাইন থেকেই আমার সাইন্স-এর সাবজেক্ট গুলোর প্রতি একটা আলাদাই ভালোবাসা জন্মায়, বিশেষত কেমিস্ট্রি-এর প্রতি। তারপর 12th এর ফাইনাল পরীক্ষার পর আমার বেশিরভাগ বন্ধুরাই ইঞ্জিনিয়ারিং এ ভর্তি হয়। সাথে আমিও ভর্তি হই একটা কর্পোরেট প্রফেশনাল ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর আমি ধীরে ধীরে অনুভব করতে থাকি যে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এক অফিসে একই কম্পিউটার এর সামনে রোজ দশটা পাঁচটার একঘেয়েমি জীবন কাটানো হয়তো আমার পক্ষে সম্ভব হবে না, কারণ আমি খুব স্বাধীনচেতা স্বভাবের।

2nd ইয়ারে পড়া কালীন “সেই যে হলুদ পাখি” ওয়েব সিরিজটির জন্য অডিশন চলছিল। সেখানে তিনটি চরিত্রের জন্য আমি অডিশন দি, শেষ পর্যন্ত আমি “শ্বাশত চট্টোপাধ্যায়ের” মেয়ের চরিত্র “মিতিলের” ভূমিকায় অভিনয় করার সুযোগ পাই।

প্রশ্ন: তানসেনের তানপুরাতে তোমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আমরা দেখতে পেয়েছি। এই ওয়েব সিরিজ এ অভিনয় করার অনুভূতি টা যদি বলো আমাদের।

অঙ্গনা: আমি এখনও পর্যন্ত যতগুলো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছি তার প্রত্যেকটা ওয়েব সিরিজেই আমার একটা চরিত্রের সঙ্গে আরেকটার কোনো মিল নেই। সেরকমই “তানসেনের তানপুরায়” “রোহিণী” চরিত্রটাও একবারে অন্যরকম। “রোহিণী” খুবই শান্ত, নম্র, মিষ্টি একটা মেয়ে। যে নিজের চেয়ে বেশি অন্যের কথা ভাবে, খুব পজিটিভ একটা ক্যারেক্টার। তাছাড়া এই ওয়েব সিরিজেই আমি প্রথম আউট-ডোর শ্যুট যাই। এর আগে আমি কখনো কোনো সিরিজে আউট-ডোর শ্যুট করিনি, তো এই অভিজ্ঞতাটা আমার কাছে একদমই নতুন ছিল। আর তানসেনের তানপুরায় অনেক স্বনামধন্য শিল্পীদের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, তাদের সাথে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া, শ্যুটিং করা, সব কিছু মিলিয়ে বলতে পারো একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। যা স্মৃতির পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রশ্ন: তানসেনের তানপুরাতে রোহিনীকে তার গুরুজির সবচেয়ে প্রিয় ছাত্রী। পার্সোনালি তোমার সাথে গানের যোগ কতটা?

অঙ্গনা: আমি গান শুনতে বা গান করতে আমার ভীষন ভালোলাগে। সুখে বা দুঃখে আমার সঙ্গী শুধু গান। আমি ছোটবেলায় গান শিখতামও। মাঝে ৭-৮ বছর সেরকম ভাবে কোনো প্র্যাক্টিস বা রেওয়াজ কোনোটাই হয়ে ওঠেনি, তবুও গানের প্রতি আমার ভালোবাসা রয়েই গেছে। আমি একটা জিনিস খুব মানি যে গান শিখলেই যে গান গাওয়া যায় এমনটা কিন্তু নয়, সবাই গান গাইতে পারে ইচ্ছে হলেই, নিজের মত করে।

 

প্রশ্ন: তোমার hobbies কি?

অঙ্গনা: আমার hobbies বলতে গেলে আমি গান শুনতে বা গান করতে ভীষন ভালোবাসি। এছাড়াও আমি ছবি আঁকতেও খুব ভালোবাসি। যদিও এখন খুব একটা ছবি আঁকার সময় সুযোগ হয়ে ওঠেনা।
এছাড়া সিনেমা, ওয়েব সিরিজ প্রচুর পরিমাণে দেখতে ভালোবাসি।

প্রশ্ন: আগামী ২-৩ বছর পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাও?

অঙ্গনা: এটা আমার কাছে বলা খুব কঠিন ব্যাপার। তবে এটুকু বলতে পারি সবার আগে আমি একজন ভালো মানুষ হতে চাই, এবং অবশ্যই একজন ভালো অভিনেত্রী হতে চাই। তাছাড়া সবে তো আমার অভিনয় জীবনে পথ চলা শুরু। এখনই যে সব কিছু জেনে গেছি বা শিখে গেছি এমন নয়। এখনও অভিনয়ের ব্যাপারে আমার অনেক কিছু শেখার, অনেক কিছু জানার বাকি আছে। প্রতিটা মুহূর্তে সেই জিনিস গুলো শেখার চেষ্টা করছি। সবসময় চেষ্টা করেছি দর্শকের কাছে নিজের সেরা অভিনয়টা তুলে ধরার, সর্বদা সেই চেষ্টাই করে যাবো। এখনও পর্যন্ত যেটুকু যা কাজ করেছি তা কলেজ ও পড়াশোনার ফাঁকে। এই বছরেই আমার গ্রাজুয়েশন কম্পিলিট হবে। ফলে পড়াশোনা ও কলেজের চাপ থেকেও মুক্ত হবো এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মিটলে আশাকরি পুরোটা সময়ই আমি অভিনয়ে দিতে পারবো। এই ফেব্রুয়ারিতে একটা ফিল্মের শ্যুট-ও করেছি। এখনও বেশ কিছুটা শ্যুট বাকি। সেটার বেপারে বেশি কিছু বলবো না, সারপ্রাইজ রইলো।

প্রশ্ন: তোমার জীবনে এগিয়ে চলার পথে কার অনুপ্রেরণা সবচেয়ে বেশি?

অঙ্গনা: আমার চলার পথের অনুপ্রেরণা আমার মা। মা এখনও পর্যন্ত প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে গাইড করে। কোনো জায়গায় ভুল-ত্রুটি হলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে ধরিয়ে দেয়, আবার ভালো কাজের প্রশংসাও করে। এছাড়া আমার দিদা। যিনি বর্তমানে আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু দিদা যখন ছিলেন তখন দিদাও ভীষণ ভাবে আমাকে সাপোর্ট করতেন।

প্রশ্ন: এই লকডাউন শিল্পীদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলেছে বলে তোমার মনে হয়?

অঙ্গনা: এই লকডাউন শুধু আমাদের মত শিল্পীদের নয়, সমস্ত স্তরের মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে।
এছাড়াও বিনোদন জগতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ক্যামেরার পিছনে বিভিন্ন টেকনিকাল দিক গুলোতে কাজ করে সংসার চালান আথবা লাইভ কনসার্টে অনেক মানুষ আছেন যারা ষ্টেজ তৈরি থেকে শুরু করে লাইটিং ও আরো আন্যান্য দিকে কাজ করেন, আমার মনে হয় তারা অনেকটা বেশি অসহায় হয়ে পরেছেন এমত অবস্থায়।

কিন্তু এরই মধ্যে প্রত্যেক শিল্পীই চেষ্টা করছে কোনো না কোনো ভাবে বিনোদনের মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করার, যারা সর্বদাই কিছু নতুনত্বের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কঠিন পরিস্তিতি আমাদের কাটিয়ে উঠতেই হবে এরকম পজিটিভ মনোবল নিয়ে আমাদের সকলকে এগিয়ে চলতে হবে। আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি এই কঠিন পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠবো।

সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে অঙ্গনাকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে তোমার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। তোমার ও তোমার পরিবারের সকলে ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, এবং সুরক্ষিত থেকো এই কামনাই করি।

অঙ্গনা রায় ফেসবুক পেজ:
https://www.facebook.com/anganaofficial/

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন:

- Advertisment -

জনপ্রিয়

২৫শে জুন মুক্তি পেতে চলেছে SDP Venture’s প্রযোজিত নতুন স্বাদের গল্প “হ্যাপি এন্ডিং”…

এই অতিমারির কবলে পরে যথেষ্ট উদ্বেগ জনক বর্তমান পরিস্থিতি। রাজ্য জুড়ে চলছে লকডাউন ২.০ এরই মধ্যে মানুষের মনোরঞ্জন করতে OTT প্লার্টফর্ম উল্লাস এ মুক্তি পেতে...

রিলিজ করলো অরূপ সেনগুপ্ত পরিচালিত এ.কে.Ray ছবির অফিসিয়াল পোস্টার…

১৫ জুন রিলিজ করলো অরূপ সেনগুপ্ত পরিচালিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি এ.কে.Ray ছবির অফিসিয়াল পোস্টার। এই ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন অর্ক রায় চৌধুরী। বোনাফায়েড স্টুডিও...

Flixbug এর পক্ষ থেকে মহৎ উদ্যোগ! জানালেন দেব চক্রবর্তী…

চারিদিকের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগ জনক। করোনা অতিমারীর ভয় গ্রাস করেছে মানুষকে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার সর্ব স্তরের মানুষ। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা...

এ.কে.Ray তৈরীর পেছনেও রয়েছে কিছু কাহিনী! জানালেন অরূপ, সুপ্রতীম…

সম্প্রতি ABO Ptrika কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরূপ জানান তার প্রথম শর্ট ফিল্ম এ.কে.Ray খুব শীঘ্রই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং OTT প্লার্টফর্ম এ মুক্তি পেতে চলেছে।...