Home বিনোদন "পথের পাঁচালী" আবার ফিরে আসতে চলেছে বড় পর্দায় "আমি ও অপু" হয়ে...

“পথের পাঁচালী” আবার ফিরে আসতে চলেছে বড় পর্দায় “আমি ও অপু” হয়ে সুমন মৈত্র’র পরিচালনায়

বয়েছে সময়, কেটেছে বছর পয়শট্টি,
কাশবন ঢেকেছে কনক্রিটের জঙ্গলে।
আধুনিকতায় সত্ত্বা ভরা রিপু,
আজও বাঙালির হৃদয় পথের পাঁচালী খোঁজে,
খোঁজে ছোট্ট সেই অপু।

1955 সাল, বাঙালী গড়ে তুললো নতুন ইতিহাস রুপোলি পর্দায়। বিভূতভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস কে মানিক বাবুর দৃষ্টিতে “পথের পাঁচালী” কে ফুটিয়ে তুললেন বড়ো পর্দায়।”। যা শুধু বাংলার ইতিহাসে নয় সমগ্র ভারতের ইতিহাসের এক বর্ণময় মুহূর্ত। কেটে গেছে 65 বছর কিন্তু সেই “অপু” “দুর্গা” আর বাংলার সেই নিশ্চিন্দপুর গ্রাম মানুষের মনের এক বড় জায়গা দখল করে বেঁচে আছে এখনও।
এই 65 বছরে বদলে গেছে অনেক কিছুই। বদলেছে শহর, বদলেছে সময়, বদলেছে মানুষের জীবন-যাপনও। আজ হয়ত সেই নিশ্চিন্দপুরের রূপটাও বদলেছে অনেক।
সত্যজিৎ রায় এর জণ্মশতবর্ষে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই উপন্যাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের দৃষ্টিকোন থেকে সাজিয়ে নতুন রূপে গ্রাম বাংলার সেই মন জুড়ানো মেঠো পথ, পুকুর ঘাট আর মেঠো সুরে বাংলার ইমোশন, বাঙালির অনুভূতি “অপু” কে আবার বড়ো পর্দায় ফিরিয়ে আনতে চলেছে পরিচালক সুমন মৈত্র নিজের মতো করে। এই ছবিটি অন্যরকম দৃষ্টিতে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাইছেন তিনি।
সময় তার থেকে একটু অন্য রকম কিছু আশা করে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে “পথের পাঁচালী” শুধুমাত্র একটা উপন্যাস নয়, বাঙালীর আবেগ, বাঙালীর আভিজাত্য। বহু বাঙালীর মণেই এই প্রশ্ন নাড়া দেয় যে ” অপু কে কি আর কখনও ফিরে পাবোনা পর্দায়?” আমি ও অপু (Ami o Apu) ছবির মধ্যে দিয়ে বাঙালির নিস্টালজিয়া কে আবার ফিরিয়ে আনতে চলেছেন সুমন মৈত্র। অন্যবারের ন্যায় এবারও তিনি তার ছবিতে নতুন কিছু উপহার নিয়ে আসতে চলেছে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “পথের পাঁচালী” এর আগেও বড় পর্দায় মানুষ দেখে থাকলেও, তার ছবি “আমি ও অপু”-তে মানুষ পথের পাঁচালী কে আবার খুঁজে পাবেন নতুন করে । তার ছবিতে মিলবে জসিমউদ্দিন এবং জীবনানন্দ দাসের চোখে গ্রাম দর্শনও। এই নতুন ছবি থাকবে তার নিজস্বতায় ভরা। ছবিটি জুড়ে দর্শক গ্রাম বাংলার মায়া মাখানো অনুভূতিতে নিশ্চিন্দপুরকে খুঁজে পেলেও তা পাবে সম্পূর্ণ নতুন রূপে।
তিনি আরও জানিয়েছেন যে বাংলার প্রতিটি ঋতুকেই তিনি স্পষ্ট করে তুলে ধরবেন মানুষের সামনে এবং যে কারনে ছবিটির সম্পূর্ণ চিত্রগহন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে। ছবিটিতে বর্তমান গ্রাম বাংলার আবেগ কে দর্শকের চোখে ফুটিয়ে তুলতে তাকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রামে ধাপে ধাপে শ্যুটিং এর কাজ করতে হয়েছে।

“আমি ও অপু” তে অপু’র চরিত্রে আমরা দেখতে পাবো ইশান রানা‘কে এবং দুর্গা’র চরিত্রে দেখতে পাবো প্রকৃতি পূজারী‘কে। এই ছবির আবহসঙ্গীত দিয়েছেন বাপ্পাদিত্য শুভ্র, যিনি সুমন মৈত্র আগের ছবি “৭১” এর ও আবহসঙ্গীত দিয়েছিলেন। “আমি ও অপু” নিয়ে খুবই আশাবাদী পরিচালক সুমন মৈত্র। ছবিটির রিলিজ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে এই ছবিটি তিনি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ পাঠাতে চান প্রথমে। বাস্তবিক অবস্থায় লকডাউন ও তার ফলসরূপ দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এর কারণে বেশকিছুটা পিছিয়ে যেতে হয়েছে এই ছবির রিলিজের ব্যপারে। সুতরাং তিনি এখনও আমাদের “আমি ও অপু” এর শুভমুক্তির সময়কাল সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়ে উঠতে পারছেন না।

বড় পর্দায় আবার “অপু” কে দেখার জন্যে সকল দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে চলেছে। আশা রাখি যে খুব শিঘ্রই আমরা “আমি ও অপু (ami o apu)” বড় পর্দায় দেখতে পাবো।

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...

অতিমারির মধ্যেও প্রকৃতির আরো কাছে ফিরে যাচ্ছেন জয়া আহসান..

করোনা নামক ভয়ঙ্কর ভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বিষন্নতা রয়েছে। চারিদিকে...

চারিদিকে অক্সিজেনের হাহাকার, এই পরিস্থিতিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন টলি তারকারা…

গোটা বিশ্ব আজ করোনা মহামারীর কবলে। Covid এর দ্বিতীয় ঢেউ তে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ সাথে মৃত্যু। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে এই প্রথম দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে...