Home দেশ অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তবে সফলতা পেয়েছিলেন 'মিসাইল ম্যান' এপিজে আব্দুল কালাম

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তবে সফলতা পেয়েছিলেন ‘মিসাইল ম্যান’ এপিজে আব্দুল কালাম

সূর্যোদয়ের আগে থেকে উঠে পড়তে বসতেন তিনি, দরিদ্র সংসারে মা’য়ের মন জানতো তার ছেলে একদিন অনেক বড় হবে, তাই অভাবের সংখ্যারের অল্প পুঁজি থেকে বাড়তি কেরোসিন কিনতে হত কারণ ছেলের পড়াশোনা করতে করতে রাত হয়ে যেত।

কঠোর পরিশ্রমে এবং পড়াশোনার মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন নিজের মায়ের স্বপ্নকে সত্যি করেছিলেন আব্দুল কালাম। তবে সফলতা অর্জন করতে তাকে অনেকে চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে।



তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে দরিদ্র মুসলিম পরিবারে ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন আবুল পকির জয়নুলআবদিন আব্দুল কালাম। মায়ের নাম আসিম্মা, বাবা জয়নুলআবদিন পেশায় ছিলেন মৎস্যজীবী। স্কুলজীবনে শুধু পড়াশোনাই নয় সাথে রোজগারের জন্য খবরের কাগজ বিক্রি করতেও হতো আব্দুলকে। এরপর স্কুল পাশ করে বৃত্তি পেয়ে ভর্তি হন তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ কলেজে। ১৯৫৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক সম্পূর্ণ করে স্কলারশিপ নিয়ে চেন্নাইয়ে এয়ারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে শুরু করেন। ভারতীয় বায়ুসেনায় বিমানচালক হওয়ার স্বপ্ন তার একটুর জন্য পূরণ হয়নি। তাঁর ক্লাসের প্রথম আটজনকে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল যেখানে তাঁর স্থান ছিল নবম।



তবে দেশের ‘মিসাইল ম্যান’ ১৯৯৮ সালে পোখরান বিস্ফোরণ পরীক্ষার অন্যতম কারিগর ছিলেন,১৯৬৩-৬৪ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘নাসা’য় গিয়েছিলেন তিনি।

ইসরোয় ডিআরডিও থাকা কালাম মহাকাশ ও পরমাণু গবেষণায় বিপুল অবদান রেখেছিলেন যার জন্য তাকে পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ ও ভারতরত্নে সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছিল।



এপিজে আব্দুল কালাম ২০০২ সালে ভারতের একাদশতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে ছিলেন ২০০৭ সাল পর্যন্ত। সর্বসাধারণের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ যখন শেষ হয়ে যায় তখন পুনরায় তিনি শিক্ষাজগতে নিজেকে নিবিষ্ট করেন। একাধিক শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি অতিথি অধ্যাপক হিসেবে পাঠদান করেন। যেমন শিলং, ইনদওর ও আমদাবাদের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, তিরুঅনন্তপুরমের ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় সহ আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ে।



মুক্তমনা আব্দুল কালাম যেমন মুখস্থ বলতে পারতেন ভগবদ্‌গীতা তেমনই বলতেন কোরান শরিফও।
তার হেয়ার স্টাইল ছিল জনপ্রিয়, বিখ্যাত হেয়ার স্টাইলিস্টের জন্য তার চুলের নতুন স্টাইল তৈরি হয়েছিল।তার কথা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মন দিয়ে পড়াশোনা করলে আর ফাঁকি না দিলে ঠিক সফল হওয়া যায়, একথা তিনি বারবার বলতেন। কর্মজীবনে তিনি মাত্র দু’দিন ছুটি নিয়েছিলেন, তার মা ও বাবার মৃত্যুদিনে। তার কাজের প্রতি, কর্তব্যের প্রতি যে নিষ্ঠা তা মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।



তিনি নিজে বলেছিলেন তাঁর মৃত্যুতে যেন ছুটি ঘোষণা না করা হয় , তাকে ভালবাসলে মন দিয়ে কাজ করে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি৷

- Advertisment -

জনপ্রিয়

সায়ন্তন ঘোষাল পরিচালিত ওয়েব সিরিজ “গোরা-য়” এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ‘পায়েল দে’….

আবারও ওয়েব সিরিজ-এ অভিনেত্রী পায়েল দে। হইচই এর ওয়েব সিরিজ ইন্দু দিয়েই গত বছরেই ওয়েব সিরিজের দুনিয়াতে পথ চলা শুরু হয়েছিল অভিনেত্রী পায়েল দে-র।...

বেস্ট শর্ট-ফিল্মের পুরস্কার জিতে নিলো অরূপ সেনগুপ্ত পরিচালিত শর্ট-ফিল্ম ‘চার এক্কে প্যাঁচ’

বছর শেষ হতে হাতে গোনা আর কয়েকটা দিন বাকি। চারিদিকে চলছে খুশির আমেজ. গত ২ বছরের পরিস্তিতি কাটিয়ে সাধারণ মানুষ আবার সিনেমা হলমুখী হচ্ছে।...

নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য আয়োজন করা হলো ভার্চুয়াল চলচ্চিত্র উৎসব

বিশ্বে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র পরিচালকদের অনুপ্রাণিত করার জন্য আয়োজন করা হলো ভার্চুয়াল চলচ্চিত্র উৎসব মাই সিনেমা গ্লোবাল চলচ্চিত্র উৎসব। দ্বিতীয়...

মায়া এন্টারটেইনমেন্ট এর ব্যানারে মুক্তি পেতে চলেছে নতুন মিউজিক ভিডিও ‘ভুল না পায়ে’…

রাত পোহালেই বড়দিন। আর এই বড়দিনেই চন্দ্রানী দাসের প্রযোজনায় এবং মায়া এন্টারটেইনমেন্ট এর ব্যানারে মুক্তি পেতে চলেছে নতুন মিউজিক ভিডিও 'ভুল না পায়ে'। এই...