Home সাক্ষাৎকার "মাতৃ পক্ষের সূচনায় মাকে বরণ করবো গানে গানে" সাক্ষাৎকারে অদিতি মুন্সি।

“মাতৃ পক্ষের সূচনায় মাকে বরণ করবো গানে গানে” সাক্ষাৎকারে অদিতি মুন্সি।

সঙ্গীত হিসেবে কীর্তন কে বেছে নেওয়ার জন্য যাকে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। কিন্তু সবকিছুকে উপেক্ষা করে তিনি সর্বদা এগিয়ে চলেছেন। জি বাংলার সা রে গা মা পা এর মঞ্চে যার কীর্তন সঙ্গীত সকলের মনে জায়গা করে নিয়েছে। সকলের ভালোবাসা ও আশীর্বাদে তিনি সমৃদ্ধ। সংগীতের সংস্কৃতিকে যিনি সকলের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছেন। আজ আমাদের আড্ডায় সেই প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী অদিতি মুন্সির মুখোমুখি আমি রাজেশ

প্রশ্ন: আপনার গান শেখার শুরু কি ভাবে?

অদিতি মুন্সি: বলতে পারেন আমার বাড়ির পরিবেশটা সঙ্গীতে ভরা। তাই ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি একটা আলাদাই ভালোবাসা রয়েছে। আমার বাবা খুব গান ভালোবাসেন, তাই ছোটো থেকেই বাড়িতে দেখতাম বাবা গান শুনতেন, কাকারা গান করতেন, এবং আমার মাকেও দেখতাম রেওয়াজ করতে, সেই সময় মায়ের কাছে বসে থাকতাম। সেখান থেকেই গানের প্রতি আগ্রহ জন্মায় এবং খেলার ছলেই গান শেখা শুরু।



প্রশ্ন: সঙ্গীতের মধ্যে কীর্তন সঙ্গীত বেছে নেবার কারণ কি?

অদিতি মুন্সি: সত্যি বলতে সেরকম কোনো কারণ নেই। সংগীতকে যে আমি প্রফেশন হিসেবে বেছে নেবো বা সঙ্গীতই যে আমার প্রফেশন হয়ে দাঁড়াবে সেরকম কোনো ভাবনা আমার ছিল না, বা আমার পরিবারের তরফ থেকেও দেওয়া হয় নি। বরং আমাকে এটা বলে উৎসাহিত করা হতো যে, “আমি যেনো জানার জন্য কিছু শিখি“। আর সেই জানার জন্য, বোঝার জন্য আমি কীর্তন সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি ও নিজেকে আরও বেশি করে ডেভলপ করার চেষ্টা করি। তো বলতে পারি কীর্তন এর প্রতি ভালোবাসা থেকেই কীর্তন সঙ্গীত বেছে নেওয়া।

প্রশ্ন: আমরা শুনেছি যে আপনাকে অনেকবারই নেতিবাচক উক্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে, এই ব্যাপারে আপনার কি বক্তব্য

অদিতি মুন্সি: হ্যাঁ, এই পরিস্তিতির সম্মুখীন প্রত্যেকটা মানুষকে কোনো না কোনো সময়ে হতে হয়েছে। আমি মনে করি এটা প্রতিটা মানুষের জীবনে পজিটিভিটি নিয়ে আসে। এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত যে, এই নেগেটিভিটি পরিস্তিতি ও কিছু মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য আমাকে লড়াই করার মানসিকতা যুগিয়েছে। এই জন্য আমি তাদের কাছে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই, তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ তারা না থাকলে হয়তো আমি এত দূর পৌঁছতে পারতাম না। আমি তো এটাও মনে করি তারাই আমার এগিয়ে চলার পথে অনুপ্রেরণা।

প্রশ্ন: দেবরাজ বাবু একজন জনপ্রতিনিধি আর আপনি একজন সঙ্গীত শিল্পী। তো দুজনের কেমিস্ট্রিটা কেমন?

অদিতি মুন্সি: ভীষণ ভালো। আসলে এটা সম্পূর্ণ ভাবে দুটি পরিবারের সিদ্ধান্ত। দুই পরিবারের বড়োরা মিলে সিদ্ধান্ত নেবার পরই আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি, এবং এটা বলতে পারি আমরা ভীষণ ভালো আছি। কিন্তু আমাদের কাজের জায়গাটা আলাদা হলেও সেটা কখনোই আমাদের সম্পর্কের মাঝে আসে না। বরং দেবরাজ ভীষণ গান ভালোবাসে। বলতে পারেন আমরা দুজন দুজনের পরিপূরকওI

প্রশ্ন: কীর্তন সঙ্গীত নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

অদিতি মুন্সি: সত্যি বলতে আমার মধ্যে কোনোদিনই পরিকল্পনা মূলক ব্যাপারটা ছিল না। আগেও বলেছি আমি যা করি বা করছি সেটা সম্পূর্ণ জানার জন্য, শেখার জন্য, ভালোবেসে করেছি। আর আমি আমার দর্শক বন্ধুদের থেকে যে ভালোবাসা, আশীর্বাদ পেয়েছি তা অতুলনীয়। তাই পরিকল্পনা বিশেষ কিছু থাকে না, শুধু এটুকুই চেষ্টা করি যারা আমাকে এত ভালোবাসা, এত আশীর্বাদ দিয়েছেন আমি যেনো তাদের ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।



সেই জন্য আমি আমার দর্শক বন্ধুদের জন্য একটি সঙ্গীত মঞ্চের উপস্থাপনা করেছি যার নাম sangitam.in
যেটা একটি সম্পূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এটি সঙ্গীত প্রেমী মানুষদের কাছে একটি খুব ভালো মঞ্চ। এখানে আমরা চেষ্টা করেছি বিশ্ব সঙ্গীতের সংস্কৃতিকে যেনো সকলের সামনে তুলে ধরতে পারি। যেখানে সঙ্গীত প্রেমী মানুষেরা তাদের পছন্দের শিল্পীকে দেখতে পারবেন, তাদের গান শুনতে পারবেন, তাদের সঙ্গীতের প্রতি যে সাধনা তাও জানতে পারবেন। এছাড়া সঙ্গীতের যে প্রত্যেকটা ধারা যা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা সেই সমস্ত কিছু নিয়ে আমি এই মঞ্চের উপস্থাপনা করেছি। যার ওয়েব ভার্সন রিলিজ হয়ে গেছে এবং যার অ্যাপ ভার্সন এই পূজোর মধ্যেই আপনাদের সকলের সামনে নিয়ে আসতে চলেছি। সম্প্রতি এই মঞ্চ থেকেই আমি আমার গানের একটা অনুষ্ঠান করেছি। আগামী দিনে আরো নতুন নতুন শিল্পীদের দেখতে পাবেন দর্শকরা। আমাদের লক্ষ্যই হলো সারা ভারতবর্ষ সহ সমগ্র বিশ্বে সাত স্বরের সৃষ্টিকে এই মঞ্চে তুলে ধরা।

প্রশ্ন: এই পুজোয় আপনার নতুন একটি গান রিলিজ হয়েছে “আমার উমা” যদি এই ব্যাপারে কিছু বলেন

অদিতি মুন্সি: হ্যাঁ, এই পুজোতে আগমনীর জন্য মানুষকে একটি পুরাতনি আগমনী গান উপহার দিয়েছি “আমার উমা“। এই গানটি শ্রী রামপ্রসাদ ভট্টাচার্যের রচনা, যা বহু প্রাচীন বাংলা গানের সম্ভারকে আলোকিত করে রেখেছে। আর আগেই বললাম এই পূজোর মধ্যেই “সঙ্গীতম অ্যাপ” সম্পূর্ণ নতুন রূপে সঙ্গীত প্রেমী মানুষদের কাছে আসতে চলেছে।



এবং সব থেকে বড়ো কথা “আমার উমা” গানটিতে আমরা এমন একটি বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করেছি যার ব্যবহার ধীরে ধীরে প্রায় কমেই যাচ্ছে। তাছাড়া রুট মিউজিক, বা অরিজিন্যাল সাউন্ড আমাকে ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করে। আর সেই কারণেই আমি আমার গানে এই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করেছি। যারা গানটি শুনেছেন বুঝতে পারবেন গানে সুন্দর একটি সানাইয়ের ব্যবহার হয়েছে যা মানুষকে আনন্দ দিতে পারে আবার কাঁদিয়েও দিতে পারে। আর গানের কথা গুলোর মধ্যেও রয়েছে উমা আমাদের ঘরের মেয়ে, মেয়ের যখন আসার সময় হয় তখন যেমন আনন্দের আমেজ থাকে, তেমন মেয়ে চলে যাবার সময় দুঃখও থাকে। এই আনন্দ দুঃখ মিলিয়ে যে অনুভূতি এটা সেই বিশেষ যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তাই আপনাদের মাধ্যমেই আমি আমার এই প্রয়াস সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

প্রশ্ন: সবশেষে আপনি আপনার শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কি বলতে চান?

অদিতি মুন্সি: তাদের উদ্দেশ্যে নতুন করে আর কি বলবো। তারা আমাকে যে ভালোবাসা, যে আশীর্বাদ দিয়েছেন তাতে আমি সম্পূর্ণ, এবং ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি আমি যেনো আপনাদের এত ভালোবাসার মর্যাদা রাখতে পারি। নিজের গান উপহার দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। আর এই পরিস্থিতিতে আপনারা সবাই সুরক্ষিত থাকুন, ভালো থাকুন এই কামনা করি।



সবশেষে এবিও পত্রিকা পক্ষ থেকে অদিতি মুন্সি কে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। তার মহামূল্যবান সময় থেকে আমাদের কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য।
আমাদের তরফ থেকে আপনার আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা রইল। আপনি ও আপনার পরিবারের সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, এবং সুরক্ষিত থাকুন এই কামনাই করিI

অদিতি মুন্সি ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://www.facebook.com/aditiofficial.page/

এই টেলিফোনিক ইন্টারভিউ টির লিখিত রূপ দিতে সাহায্য করেছে:  Susmita Sen

আমাদের ফেসবুক পেজটি লাইক করুন: https://facebook.com/abopatrika/

- Advertisment -

জনপ্রিয়

মুক্তি পেলো “KSS PRODUCTION & ENTERTAINMENT”এর স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি “দোয়া”(Dua)

প্রযোজক হিসেবে কান সিং সোধা বরাবরই নতুন প্রতিভাদের উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি। কান সিং সোধা ও KSS PRODUCTION & ENTERTAINMENT"...

“ময়ূরপঙ্খীর” তরফ থেকে দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের জন্য ঈদ উপলক্ষে কিছু উপহার প্রদান করা হলো

"ময়ূরপঙ্খী শিশু কিশোর সমাজ কল্যাণ সংস্থা" র পক্ষ থেকে এবং গ্লোবাল স্পা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অসহায়, বয়স্ক, দিনমজুর ও রিক্সা চালকদের...

মায়ের মৃত্যুদিনে পথ পশুদের কল্যাণার্থে পারমিতা মুন্সী ভট্টাচার্য এর পরিচালনায় হয়ে গেলো ‘বর্ষ বরণে বিবিয়ানা’

পথপশুদের কল্যাণার্থে শিবানী মুন্সী প্রোডাকশনের 'বর্ষবরণে বিবিয়ানা' শীর্ষক বাংলা নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ হয়ে গেল। এই ক্যালেন্ডার থেকে সংগৃহীত অর্থ খরচ করা হবে পথ পশুদের...

কি করলে আপনাকে বা আপনার পরিবারকে ছুঁতে পারবেনা করোনা

বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পাওয়াটাই এখন সকল মানুষের একমাত্র লক্ষ্য. কিন্তু কিভাবে পাবো এই ভয়ানক কোবিড ১৯ এর হাত থেকে মুক্তি? কোবিড ১৯ ভাইরাস...